বিশ্বজুড়ে কাল অগণিত ব্রাজিলের সমর্থকের নজর ছিল কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দিকে। বেশির ভাগ সমর্থক আনচেলত্তির মুখ থেকে একটি নাম শোনার আশায় ছিলেন—নেইমার জুনিয়র।
নামটা ঘোষণা করতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন নেইমার-ভক্তরা। কেউ কেউ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। আবার কেউ সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কি না, তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন সম্ভবত নেইমার নিজেই। সেই যে ২০২৩ সালে মন্তেভিদিওতে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেললেন, সেই ম্যাচে চোটে পড়ার পর এখনো দেশের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি।
৩৪ বছর বয়স বলছে, এটাই হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ। সেখানে খেলতে তিনি কতটা উন্মুখ ছিলেন, সেটা বোঝা যায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া দেখে।
বন্ধুরা উল্লাসে মেতে উঠলেও নেইমার নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ চোটের দুঃস্বপ্ন, মাঠের বাইরে থাকার যন্ত্রণা এবং সব বাধা পেরিয়ে আরেকবার দেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দে প্রেমিকা ব্রুনা বিয়ানকার্দিকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
দুই হাতে মুখ ঢেকে আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও নেইমার নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন, যা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে নেইমার লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং আনন্দের দিনের একটি দৃশ্য আমার ইউটিউব চ্যানেলে। ধন্যবাদ, ব্রাজিল।’
কিছুক্ষণ পরেই বার্সেলোনা তারকা রাফিনিয়ার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয় নেইমারের। সন্দেহাতীতভাবে রাফিনিয়াও আছে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে। কাঁদতে কাঁদতেই রাফিনিয়াকে নেইমার বলেন, ‘রাফা, আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ জিততে চলেছি।’
ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা নেইমারের ক্যারিয়ারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ।



