• ই-পেপার

ঘরের মানুষের সঙ্গে ‘কথা বন্ধ’ পাপনের

লাল কার্ড দেখার কারণ জানতে চেয়ে হতবাক তিনি

ক্রীড়া ডেস্ক
লাল কার্ড দেখার কারণ জানতে চেয়ে হতবাক তিনি
দক্ষিণ আফ্রিকার জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখান ব্রাজিলের রেফারি সাম্পাইয়ো। ছবি: এক্স

গোলের চেয়ে লাল কার্ডের সংখ্যা বেশি—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে এ ধরনের হাসিঠাট্টা শুরু হয়েছে। 

হবে না-ই বা কেন? আক্ষরিক অর্থেই যে তেমনটাই হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সহ-আয়োজক মেক্সিকো।

তবে ফল ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ৩ লাল কার্ড। ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো দুই দলের তিনজনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। 

প্রথমজন দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল, দ্বিতীয়জন সিথোলের সতীর্থ টেম্বা জোয়ানে আর শেষের জন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস। 

সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে ভিএআর চেকের পর টেম্বা জোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো নিয়ে। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে তিনি ঠিক কী কারণে লাল কার্ড দেখেছেন, তা জানতে চেয়েও বুঝতে পারেননি। 

পতুর্গিজ ভাষাভাষীর মানুষ রেফারি সাম্পাইয়ো ইংরেজিতে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা শুনে হতবাক হয়ে পড়েন জোয়ানে। 

তাহলে ঠিক কী কারণে জোয়ানেকে মাঠ ছাড়তে হলো? এর উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে ইয়াহু স্পোর্টসফক্স স্পোর্টস। 

সংবাদমাধ্যম দুটি জানিয়েছে, খেলা চলাকালীন বল থেকে দূরে থাকা অবস্থায় টেম্বা জোয়ানে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। 

এরপর জোয়ানেকে ওই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মাথার দিকে হাত চালাতে দেখা যায়। তাও একবার নয়; দুবার। টিভি রিপ্লেতে দেখেও মনে হয়েছে, জোয়ানের হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল।

এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখানোর কারণ হতে পারে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ।

ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক ল্যান্ডন ডনোভান মনে করেন, রেফারির সিদ্ধান্ত সম্ভবত সঠিক ছিল। তার মতে, জোয়ানের আচরণই রেফারিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ উগো ব্রোস। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে মেক্সিকোর খেলোয়াড়ই আমার দলের খেলোয়াড়কে বাধা দিয়েছে। ৯ খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ করা সত্যিই দুঃখজনক।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। আগের রেকর্ডটা ছিল ১৯৯০ আসরে আর্জেন্টিনা-ক্যামেরুন উদ্বোধনী ম্যাচে। সেই ম্যাচের শেষ দিকে দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরও আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল ক্যামেরুন। 

২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের ৬৪ ম্যাচ মিলিয়ে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে মাত্র ৪টি। এবার প্রথম ম্যাচেই ৩টি!

রেফারিরা কার্ড দেখানোয় এবার রেকর্ড গড়েন কি না, সেই শঙ্কা এরই মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মনে উঁকি দিতে শুরু করেছে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

৩ লাল কার্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা মেক্সিকোর

ক্রীড়া ডেস্ক
৩ লাল কার্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা মেক্সিকোর
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেস্ ছবি; ফিফা

মেক্সিকো ২-০ দক্ষিণ আফ্রিকা

শক্তিমত্তা, ইতিহাস, র‌্যাংকিং, সাম্প্রতিক ফর্ম—সবকিছুতে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। তার ওপর ম্যাচের লম্বা একটা সময় আফ্রিকার দলটিকে খেলতে হয়েছে কম খেলোয়াড় নিয়ে। লড়াইটা তাই আরো একপেশে হয়ে উঠল। 

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করল মেক্সিকো। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজকদের হয়ে গোল দুটি করেছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেজ।

এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপের ম্যাচে অজেয় থাকার রেকর্ডটা অক্ষুণ্ন রাখল মেক্সিকো (৬ জয়, ২ ড্র)। সেই সঙ্গে এ বছর ৯ ম্যাচ খেলে এখনো অপরাজিত থাকল হাভিয়ের আগিরের দল। 

এবারের মতো ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিলেও এবার মেক্সিকোর ঘরে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা।

ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো ম্যাচে লাল কার্ড বের করেছেন তিনবার। মাঠ ছাড়তে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল ও টেম্বা জোয়ানে এবং মেক্সিকোর সেজার মন্তেসকে।

আজতেকার ৮৩ হাজার দর্শক নিয়মিতই মেক্সিকান ঢেউ তুলেছেন। ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দোও। তাদেরকে ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়ের’ ভূমিকায় পেয়ে মেক্সিকো দল যেমন আরো বেশি চাঙা হয়েছে, বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের আত্মবিশ্বাসে যেন চিড় ধরেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকানদের তটস্থ রেখেছে মেক্সিকানরা। গোছানো এক আক্রমণ ৫ মিনিটে গোলটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ। কিন্তু গোলকিপার রোনওয়েন উইলিয়ামসের বীরত্বে সে যাত্রায় বেঁচে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে গোলের জন্য মেক্সিকোকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে এবারের আসরে প্রথম গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন কিনিয়োনেস।

অনেক নতুনত্বের এই বিশ্বকাপে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক (পানি পানের বিরতি) দেখা গেছে ম্যাচের ২৫ মিনিটে। এরপর আরো ছন্দময় ফুটবল খেলেছে মেক্সিকো। কিন্তু আরো কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার উইলিয়ামস দেয়াল তুলে দাঁড়ালে প্রথমার্ধে দ্বিতীয় গোলটা পাওয়া হয়নি। 

খেলায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শুরু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। ৫০ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার সিথোল।

3 red
ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখান ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো। ছবি: এক্স

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া অতিথিরা বলতে গেলে তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। হিমেনেজ সেই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেন ৬৭ মিনিটে হেডে দারুণ এক গোল করে। 

ঠিক এর ১ মিনিট আগে বদলি নেমে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারই এবারের বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। 

৮৪ মিনিটে জোয়ানেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে যন্ত্রণা আরো বাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার। 

মনে হচ্ছিল, ১১ জনের মেক্সিকোর বিপরীতে ৯ জন নিয়ে খেলা শেষ করতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। কিন্তু এ দফায় কপাল পোড়ে স্বাগতিকদেরই। খুলিসো মুদাওকে বাজেভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মন্তেস। 

তবে এতে ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। জয়ের হাসি নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে মেক্সিকো। 

ছবিতে ছবিতে মেক্সিকোয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবিতে ছবিতে মেক্সিকোয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

অনেক নতুনের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও এসেছে নতুনত্ব। এবার যেমন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একটি নয়; আয়োজক তিন দেশের তিন শহরে তিনটি!

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে তাই প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। সেই অনুষ্ঠানের নির্বাচিত কিছু ছবি নিয়েই এ আয়োজন—

1PIC
দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ বলে কথা! মেক্সিকানদের কাছে আজকের দিনটা এক উৎসবময় দিন। ছবি: ফিফা
3
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকান সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়। ছবি: ফিফা
555
বর্ণিল রঙে সাজানো হয়েছে আজকেতা স্টেডিয়াম। ছবি: ফিফা
666
‘দাই দাই’—বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং গেয়ে ও নেচে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাকিরা। ছবি: ফিফা
8888
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ! ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপের উদ্বোধন : ফুটবল মহাযজ্ঞের শুরু

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের উদ্বোধন : ফুটবল মহাযজ্ঞের শুরু
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল। তার আগে ম্যাচের ভেন্যু মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে চলছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মূলত বিখ্যাত সব সংগীত তারকাদের গান দিয়েই সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুটা হয় মেক্সিকান পপ-ব্যান্ড মানাকে দিয়ে। দুর্দান্ত পরিবেশনায় দর্শকদের কাছেও দারুণ সাড়া পায় ১৯৮১ সালে গঠিত হওয়া ব্যান্ডটি। 

এরপর মঞ্চে আসেন ভেনেজুয়েলার গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। অবশ্য তিনি হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনির ‘ওশান’ নন। ২০০৯ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালুর মাধ্যমে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। অনেকের কাছে তিনি যেন ভেনেজুয়েলার জাস্টিন বিবার।

ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে ‘পার্তিদাজো’ গান পরিবেশন করেন ড্যানি ওশান। বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকদের উপভোগ করার মতো সংগীত ও আয়োজনে জমে ওঠে অনুষ্ঠান।

এরপর মঞ্চে আসেন জে বালভিন, যিনি কার্ডি বি–র জনপ্রিয় গান ‘আই লাইক ইট’-এ অংশ নিয়েছিলেন। গানটিতে নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়ও ছিলেন।

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত! বিশ্বজুড়ে ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঞ্চে এলেন শাকিরা। বিশ্বকাপের থিম সং দাই দাই গেয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি।

শাকিরার গানের পরই শেষ হলো অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।

ঘরের মানুষের সঙ্গে ‘কথা বন্ধ’ পাপনের | কালের কণ্ঠ