ইতালিয়ান ফুটবলের আকাশে আস্থার যে নতুন সূর্য উদয় হতে শুরু করেছিল, তিন সপ্তাহের মাথায় তা যেন গ্রহণের মুখে পড়ল। ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের (এফআইজিসি) কারিগরি পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি। তার সঙ্গে দায়িত্ব ছেড়েছেন তার উপদেষ্টা ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার লিওনার্দোও। সোমবার স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়া এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্বজয়ী ইতালির ফুটবলকে নতুন করে টেনে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মালদিনিকে। গাত্তুসোর বিদায়ের পর জাতীয় দলের নতুন কোচ খুঁজে বের করাই ছিল ৫৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই তাদের এই আকস্মিক পদত্যাগে ফুটবল বিশ্বে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় দলের কোচের দৌড় থেকে ইতালি ও এসি মিলানের সাবেক তারকা ফুটবলার আন্দ্রেয়া পিরলো নিজের নাম তুলে নেওয়াই হলো এই ভাঙনের মূল অনুঘটক। মালদিনির প্রথম পছন্দ ছিলেন পিরলো। কিন্তু রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি থাকায় পিরলোকে কোচ করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। আর এই জেরেই কোচ হওয়ার পথ থেকে সরে দাঁড়ান পিরলো। এর আগে অবশ্য পেপ গার্দিওলাকে কোচের অফার করা হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন।
এদিকে মালদিনি ও লিওনার্দোর এই যৌথ পদত্যাগ এফআইজিসি-র নবনিযুক্ত সভাপতি জোভান্নি মালাগোর জন্য বিরাট বড় এক ধাক্কা। দেশটির হতাশাজনক ইউরোপীয় পারফরম্যান্স এবং টানা বিশ্বকাপ মিসের খরা কাটিয়ে ওঠায় যখন পুরো নীল শিবির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পুরো প্রক্রিয়াটি বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
নতুন কোচ খুঁজে বের করা তো দূরের কথা, এখন ইতালিয়ান ফেডারেশনকে পুরো জাতীয় দলের কৌশলই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। পিরলোর বিদায়ের পর শূন্য পদে এখন বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কোচের নাম গুঞ্জন হিসেবে ভেসে বেড়াচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছেন রবার্তো মানচিনি, থিয়াগো মোত্তা এবং আন্তোনিও কোন্তে।
তবে আকস্মিক এই পদত্যাগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।




