আর দুই ম্যাচ পর শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ৩৮ তম দিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালে দুই পরাজিত দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপকে বিষণ্ণ বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দুই দলই ফ্লোরিডায় পৌঁছেছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স গেল মঙ্গলবার স্পেনের কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয়।
অন্যদিকে বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পরাজয় বরণ করে। এতে দীর্ঘ ইতিহাসে আরো একটি অধ্যায় যোগ হল ইংল্যান্ডের। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।
এখন দুই দলকেই এমন একটি ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির শেষটুকু জড়ো করতে হবে, যেটি ফুটবল বিশ্বে সাধারণভাবে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। এমন ম্যাচ সাধারণত কোনো দলই খেলতে চায় না।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল বলেন, ‘আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবু আমরা পেশাদারির সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।’
৫৭ বছর বয়সী দেশমের ১৪ বছরের সফল কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন এই ম্যাচ দিয়ে। তাঁর অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং এবারো শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
সেমিফাইনালে হারের পর দেশম বলেন, ‘তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
সান্ত্বনা হিসেবে খুব বেশি মূল্য না থাকলেও, এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি—দুজনই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন এমবাপ্পে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। ভালো পারফরম্যান্স করলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরতে পারেন।
ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তাই এই ম্যাচকে সামনে রেখে দু’দলের মধ্যে নিরুত্তাপ ভাব বহন করছে।