• ই-পেপার

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ম্যাচ রেফারি

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে না থাকা তারকা চ্যাম্পিয়নস লিগে গড়লেন ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে না থাকা তারকা চ্যাম্পিয়নস লিগে গড়লেন ইতিহাস
ছবি : রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালকে স্পটকিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। এতেই রিয়াল মাদ্রিদের রড্রিগোকে পেছনে ফেলে সর্বকনিষ্ঠ ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দুইটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ইতিহাস গড়েছেন লুকাস বেরালদো। 

২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমে বেরালদো প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে টানা দুইটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেরালদো ২২ বছর, ৬ মাস এবং ৬ দিন বয়সে দুইটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেন। 

এর আগে রিয়ালের হয়ে রড্রিগো ২৩ বছর, ৪ মাস এবং ২৩ দিন বয়সে দুইটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে এই রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন। 

পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের যত ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের যত ইতিহাস
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরো একবার প্রমাণ করল পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছেন ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতো ছিল আর্সেনালের জন্য। মাত্র ছয় মিনিটেই কাই হাভার্টজ গোল করে এগিয়ে দেন লন্ডনের ক্লাবটিকে। তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে খভিচা কাভারেস্খেইয়ার ওপর ক্রিস্তিয়ান মস্কেরার ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান উসমান দেম্বেলে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও ফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে এবেরেচি এজে ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের শট ব্যর্থ হলে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে পিএসজি।

পরিসংখ্যানে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল—

এই জয়ের মাধ্যমে পিএসজি ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই মৌসুমে একই সঙ্গে ঘরোয়া লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কীর্তি গড়ল। এর আগে এমন কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছিল শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ও আয়াক্স।

আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। কোচ হিসেবে এটি তার তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। ফলে তিনি পেপ গার্দিওলা, জিনেদিন জিদান ও বব পেইসলির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। তার ওপরে রয়েছেন শুধু কার্লো আনচেলত্তি, যার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপ।

২৪.৭
ফাইনালে আর্সেনাল বলের দখল রাখতে পেরেছিল মাত্র ২৪.৭ শতাংশ সময়, যা ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে পিএসজি বল দখলে রেখেছিল ৭৫ শতাংশ সময় এবং ম্যাচের ২৮টি শটের মধ্যে ২১টিই ছিল তাদের।

২২৬
হারের মধ্য দিয়ে আর্সেনালের দীর্ঘ অপেক্ষাও আরো দীর্ঘ হলো। ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগে ২২৬টি ম্যাচ খেলেও এখনো শিরোপার দেখা পায়নি গানাররা, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।


তবে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নাম তুলেছেন কাই হাভার্টজ। তিনি ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। এর আগে ২০২১ সালে চেলসির হয়ে ফাইনালে গোল করেছিলেন জার্মান এই তারকা।


ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে পিএসজির আধিপত্যও অব্যাহত রয়েছে। নকআউট পর্বে ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা সাতটি ম্যাচ জিতেছে তারা এবং শেষ ১০ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে।

১৭
উসমান দেম্বেলে আবারও নিজেকে বড় ম্যাচের নায়ক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে তার গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান এখন ১৭টি, যা এই সময়ে যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

৪৫
এদিকে চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ এ। এর মাধ্যমে তারা ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বার্সেলোনার গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে।
 

তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে এনরিকে বললেন, ‘কিংবদন্তি? ওসবে আমার আগ্রহ নেই’

ক্রীড়া ডেস্ক
তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে এনরিকে বললেন, ‘কিংবদন্তি? ওসবে আমার আগ্রহ নেই’
ছবি : রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালের ষষ্ঠ মিনিটের গোলটি ছিল পিএসজির জন্য সবচেয়ে কঠিন ধাক্কা বলে মনে করেন কোচ লুইস এনরিকে। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখেন ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। মাত্র ছয় মিনিটে কাই হাভার্টজ একক প্রচেষ্টায় গোল করে লন্ডনের ক্লাবটিকে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন। হঠাৎ পাওয়া সেই গোলের পর পিএসজিকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আর্সেনাল রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধে উসমান দেম্বেলের পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে পিএসজি। এরপর নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় তুলে নেয় প্যারিসের ক্লাবটি।

ম্যাচ শেষে এনরিকে বলেন, ‘ম্যাচটা তাদের জন্য আদর্শভাবেই শুরু হয়েছিল। তারা ভাগ্যের সুবিধায় প্রথম দিকেই গোল পেয়ে যায়। এরপর আমাদের জন্য কাজটা আরো কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ আর্সেনাল জানে কীভাবে রক্ষণ সামলাতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওদের বিপক্ষে খেলাটা খুব কঠিন ছিল। আমরা সাধারণত অনেক খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণ করি, কিন্তু আর্সেনাল শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী দল। তারা প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। তবুও আমি মনে করি আমরা সমতায় ফেরার যোগ্য ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পেরে আমরা ভীষণ খুশি।’

এই জয়ের মাধ্যমে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে (১৯৯২ সালের পর) রিয়াল মাদ্রিদের পর মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ল।

এদিকে কোচ হিসেবে নিজের তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পরও ‘লিজেন্ড’ তকমা নিতে রাজি নন এনরিকে। তিনি বলেন, ‘লিজেন্ড? ওসবে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমার এখনো মাত্র তিনটি শিরোপা। তাই আরো উন্নতি করতে হবে। অবশ্যই আমি চতুর্থটাও জিততে চাই।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে অনুভূতিগুলো মিশ্র। আনন্দ, ক্লান্তি সবকিছু একসঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু মৌসুমের সেরা মুহূর্ত এটি। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

অন্যদিকে পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি জানিয়েছেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এনরিকে ক্লাবেই থাকবেন। নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও স্প্যানিশ এই কোচকে বিশ্বের সেরা কোচ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

আল-খেলাইফি বলেন, ‘তিনি শুধু অসাধারণ কোচ নন, একজন দুর্দান্ত মানুষও। আমাদের প্রকল্পের জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তরুণ একটি দল নিয়ে তিনি যা করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ।’

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব, ৪১৬ গ্রেপ্তার

ক্রীড়া ডেস্ক
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব, ৪১৬ গ্রেপ্তার
ছবি : রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার পিএসজি ইউরোপ সেরার মুকুট জিতলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ থাকেনি। ফ্রান্সজুড়ে সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষে ৪০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

ফাইনাল জয়ের পর রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার পিএসজি সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি, ফ্লেয়ার ছোড়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কোথাও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে, আবার কিছু দোকানের কাচও ভেঙে ফেলা হয়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ঐতিহাসিক শঁজেলিজে সড়কে সমর্থকদের ঢল নামে। এর আগেই পিএসজির মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হওয়া সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮০ জনই প্যারিসে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ এই সহিংসতাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার কারণ হতে পারে। এমনকি বিজয়ের রাতেও মানুষকে সহিংসতার ভয়ে ঘরে থাকতে হয়।’

এদিকে রবিবার পিএসজি খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তারা আইফেল টাওয়ারের পাশের শঁ দ্য মার্স এলাকায় সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন এবং পরে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরও পিএসজির ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের পর উদযাপন সহিংস রূপ নিয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুইজন, যার মধ্যে একজন ছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোর।

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ম্যাচ রেফারি | কালের কণ্ঠ