• ই-পেপার

মৌলভীবাজারের বন্যাদুর্গতদের পাশে বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি

বন্যাদুর্গত এলাকায় মার্কসবাদী বাসদের ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গত এলাকায় মার্কসবাদী বাসদের ত্রাণ বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা। 

বুধবার (১৫ জুলাই) তিনি উপজেলার গুনাগরী, কাহারঘোনা, সরল ইউনিয়নের বলিপাড়া ও আনন্দপাড়াসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন তিনি।

ত্রাণ বিতরণ শেষে মাসুদ রানার নেতৃত্বে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর একটি প্রতিনিধি দল বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে।

সাক্ষাৎকালে মাসুদ রানা বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা জানান। তিনি সরকারি উদ্যোগে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান এবং এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

এসময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদ, সদস্য আসমা আক্তার, জাহেদুন্নবী কনক, দীপা মজুমদার, রিপা মজুমদার এবং বাঁশখালী উপজেলা সদস্যসচিব আবদুস শুক্কুরসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

কমলগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবি, মেডিক্যাল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
কমলগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের পাশে বিজিবি, মেডিক্যাল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা ও ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (১৫ জুলাই) কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানবিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বন্যায় পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ৪৬ বিজিবি এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ক্যাম্পটিতে ৪ জন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় ৪৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্যার পানিতে অবস্থান করায় পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে শতাধিক দুস্থ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে বিজিবি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একবেলা আহার পেয়ে স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, বন্যার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের দুর্দশা লাঘবে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। মানবিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে বিজিবি সব সময় আছে এবং আমাদের এই সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চিকিৎসাসেবা পাওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বিজিবির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি ও বেসরকারি এমন সহযোগিতা তাদের এই কঠিন সময় মোকাবেলায় সাহস জোগাচ্ছে।

মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নারীর মৃত্যু, আহত আরো একজন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নারীর মৃত্যু, আহত আরো একজন
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হতে গিয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় কোহিনুর আক্তার (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হালিমা বেগম (৬০) নামে আরেক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়তাকিয়া ইউনিয়নের মিয়নের দোকান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কোহিনুর আক্তার উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছরা এলাকার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হুদা জানান, সন্ধ্যায় বাজার থেকে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন কোহিনুর আক্তার ও হালিমা বেগম। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কোহিনুর আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হালিমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দুয়ায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪২টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরের পর উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিরাং বাজারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. খাদিজা খাতুনসহ পুলিশ সদস্যরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে বুধবার হাট বসে চিরাং বাজারে। এ হাটে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি হচ্ছে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরের পর উপজেলার সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে হাটে অভিযান চালিয়ে ২ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪২টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৩৩৬ মিটার ও আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আটক ২ জন ব্যবসায়ীকে দুইটি পৃথক মামলায় মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ জালের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন করা হচ্ছে, সেটা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর এ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান শুরু করেছি। দেশীয় মাছ রক্ষায় আমাদের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।