২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতোয়ারা আলবিসেলেস্তেরা। তবে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবারের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষের উদযাপনের মাঝেই ঘটল এক মজার ঘটনা। মাঠের ভেতরের সব আলো যখন ফাইনাল নিশ্চিতের উদযাপনে, তখন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির চোখ অন্য একটি জিনিসে, যা ফুটবল ম্যাচকেও ছাপিয়ে রীতিমতো বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ শেষের পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং তার সতীর্থরা মাঠের ভেতরেই বেশ মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা পড়ছেন। অনুসন্ধিৎসু চোখে মেসি আসলে দেখছিলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে সেঁটে রাখা পেনাল্টির ‘গোপন নোট’ বা চিরকুট!
আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল বোতলে লিখে রাখা গোলরক্ষকদের জন্য বেশ পরিচিত দৃশ্য হলেও ইংল্যান্ডের এত নিখুঁত ও চুলচেরা প্রস্তুতি দেখে বেশ কৌতূহলী ও আমোদিত দেখাল মেসিকে। সতীর্থ নিকো গঞ্জালেস বোতলটি মেসির সামনে উঁচিয়ে ধরেছিলেন, আর ট্রফি জয়ের নায়ক মেসি হাসিমুখে সেই চিরকুট পড়ার চেষ্টা করছিলেন। মেসির পড়ার সুবিধার্থে নোটটিতে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল— পেনাল্টি শুটআউটের সময় পিকফোর্ডকে কোন শটের ক্ষেত্রে কোথায় ডাইভ দিতে হবে।
ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পক্ষে শেষ হওয়ায় পেনাল্টির সেই নোট শেষ পর্যন্ত পিকফোর্ডের কোনো কাজে আসেনি। তবে হৃদয়ভঙ্গ হলেও ম্যাচ শেষে ফুটবলের মহাতারকা মেসিকে প্রশংসায় ভাসাতে ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের স্তুতি গেয়ে কেইন বলেন, ‘লিও এখনো ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করে চলেছে। ম্যাচের একটা বড় সময়জুড়ে আমরা তাকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যা হয়— যখনই ফাইনাল থার্ডে বল তাদের পায়ে যায়, তারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আজ ও (মেসি) ঠিক সেটাই করেছে। ও যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, তা এমনি এমনি নয়।’
নকআউট পর্বের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ঠিক আট দিন পর, আটলান্টার মাটিতে আবারও নিজের চিরচেনা জাদুকরি রূপ দেখালেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে যখন ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়, তখন থ্রি-লায়ন্সরা হয়তো ছয় দশক পর তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার কাছে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।
কিন্তু নীল-সাদা জার্সিধারীরা যে কখনো হাল ছাড়ে না, তা তারা আবারও প্রমাণ করল। ৮৫ মিনিটে যখন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে রক্ষণ সামলাচ্ছিল ইংল্যান্ড, ঠিক তখনই মেসির সেই ক্ষুরধার মস্তিষ্ক সচল হয়ে ওঠে। একটি শর্ট কর্নার নিয়ে ফিরতি পাস পেতেই ২৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস বাড়ান মেসি। সেখান থেকে ফার্নান্দেজের বাঁকানো শট পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর ইনজুরি টাইমে লাউতারোর গোলে জয় নিশ্চিত হওয়া যেন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে স্বপ্নের ফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই বিরল কীর্তির সামনে এখন দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসির দল।




