স্পেন ২-১ বেলজিয়াম
শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের হৃদয় ভাঙার কাজটা তিনিই করবেন—এমন পণ করেই যেন বদলি নামেন মিকেল মেরিনো।
২০২৪ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ১১৯ মিনিটে গোল করে স্বাগতিক জার্মানির হৃদয় ভেঙেছেন মেরিনো। গত বছর নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের যোগ করা সময়ে তিনি জয় কেড়েছেন নেদারল্যান্ডসের।
এবারের বিশ্বকাপ থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পতুর্গালকেও ছিটকে দিয়েছে এই মেরিনোর গোল। এবার সেই অভিজ্ঞতা হলো বেলজিয়ামের।
‘সুপার সাব’ তকমা পাওয়া মেরিনোর গোলেই বেলজিয়ামকে বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল স্পেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ৮৭ মিনিট পর্যন্ত ১-১ সমতায় ছিল। ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু ৮৬ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি নামার মিনিট দুয়েক পরেই বেলজিয়ামের জাল কাঁপিয়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড মেরিনো।
ডালাসে বাংলাদেশ সময় আগামী মঙ্গলবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন।
বেলজিয়ামের এই হারের দায় বর্তাতে পারে বদলি গোলকিপার সেনে লামেন্সের ওপর। নয়তো দুষতে পারেন ভাগ্যকে। তা না হলে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই কেন চোটে পড়বেন প্রধান গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া।
কখনো লামিনে ইয়ামালের শট, কখনো ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে নেওয়া মিকেল ওইয়ারজাবালের শট ঠেকিয়ে বীরত্ব দেখাচ্ছিলেন কোর্তোয়া।
কিন্তু এই বীরত্বের মাঝেই কোর্তোয়া পড়লেন ঊরুর চোটে। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ালে ধারণা করা হচ্ছিল, খেলা চালিয়ে যাবেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা গোলকিপার।
কিন্তু পারলেন না। ৭২ মিনিটে চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন। তার বদলি নামা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলকিপার সেনে লামেন্সকে শুরুর দিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও শেষ দিকে করে ফেললেন বড় এক ভুল।
পাউ কুবারসির নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকালেও বল হাতে রাখতে পারলেন না লামেন্স। ছুটে এসে সেই বল জালে পাঠালেন মেরিনো। লামেন্সের ভুলের চড়া মাশুল দিয়ে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের মতো বদলিতে ভাগ্য বদলেছে বেলজিয়ামেরও। বিশেষ করে রোমেলু লুকাকু বেঞ্চ থেকে উঠে এসে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু আজ তাকে সেরা ছন্দে দেখা গেল না।
এর আগে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরের অংশটা রোমাঞ্চকর ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল। এর মূলে মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ ও ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলারা।
৩০ মিনিটে রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। পেদ্রিকে বসিয়ে এই রুইজের ওপর আস্থা রেখেছিলেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেটির প্রতিদান দিয়েছেন গোল করে।
অবশ্য জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে কেটেলারার দারুণ হেডে সমতা আনে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে এটিই ছিল স্পেনের বিপক্ষে কোনো দলের প্রথম গোল। প্রায় ৬৫০ মিনিট পর স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমনকে পরাস্ত করতে পেরেছেন কেউ।




