• ই-পেপার

জিম্বাবুয়েকে কোটি টাকার প্রস্তাব বিসিবির

বার্সায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত টের স্টেগেনের : আয়াক্সে যাওয়ার চুক্তিতে নতুন জটিলতা

ক্রীড়া ডেস্ক
বার্সায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত টের স্টেগেনের : আয়াক্সে যাওয়ার চুক্তিতে নতুন জটিলতা

ইনজুরির কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন জার্মানির তারকা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। আসন্ন ক্লাব মৌসুমে বার্সেলোনাতেও কোচ হানসি ফ্লিকের পরিকল্পনায় নেই এই তারকা গোলরক্ষক। তাই বাধ্য হয়ে চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে বার্সা ছাড়াতে চেয়েছেন তিনি। এতে আগ্রহ দেখায় ডাচ ক্লাব আয়াক্সা। দুই ক্লাবের কথাবার্তায় অনেত দূরও আগায়। শেষ মুহূর্তে বেতন বণ্টন এবং ট্যাক্স জটিলতা নিয়ে বার্সেলোনা এবং ডাচ ক্লাবটির মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ক্রীড়া সাংবাদিক রজার টোরেলো তথ্য অনুযায়ী,গত সপ্তাহে বার্সা-আয়াক্সের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও, শেষ মুহূর্তে বেতন ভাগাভাগি এবং কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চুক্তিটি থমকে গেছে।  ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে  বিধি-নিষেধের কারণে বার্সা নিজেদের শর্তে অনড়, অন্যদিকে আয়াক্সও বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে নারাজ। 

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, টের স্টেগেনকে যদি আয়াক্সের হয়ে উয়েফা কনফারেন্স লীগে কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে খেলাতে হয়। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বার্সেলোনা এবং আয়াক্স বেতনের নতুন শর্তে একমত হতে না পারে। তবে জার্মান এই গোলরক্ষককে আপাতত বার্সেলোনাতেই ব্যাক-আপ হিসেবে থেকে যেতে হতে পারে।

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের পাহাড় গড়া যেন ভারতের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে টিম ইন্ডিয়া। হারারেতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২১৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। আর তাতেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তারা।

২০২৬ ক্যালেন্ডার বর্ষেই এটি ভারতের নবমবারের মতো ২০০ বা তার বেশি রান করার কীর্তি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে আর কোনো দল এক বর্ষপঞ্জিতে এতবার দুই শতাধিক রান সংগ্রহ করতে পারেনি।

কাকতালীয়ভাবে আগের বিশ্বরেকর্ডটিও ছিল ভারতেরই দখলে—২০২৪ সালে ২৬ ম্যাচ খেলে তারা ৯ বার ২০০ পেরিয়েছিল। তবে এবার মাত্র ২৩ ম্যাচেই সেই অনন্য মাইলফলকে পৌঁছে নিজেদের রেকর্ড নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল ভারত।

চলতি ২০২৬ সালে ভারতের সামনে এখনো বেশ কয়েকটি সিরিজ ও টুর্নামেন্ট বাকি থাকায় বছর শেষে এই সংখ্যাটা যে আরো বড় হবে, তা বলাই বাহুল্য।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের অধীনে খেলার পর বর্তমানে দলের নেতৃত্ব উঠেছে শ্রেয়াস আইয়ারের হাতে। অধিনায়ক বদলালেও ভারতের অতি-আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শনে যে একটুও ভাটা পড়েনি, এই পারফরম্যান্সই তার বড় প্রমাণ।

 

হামজার পর প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে অভিষেক বাংলাদেশি ফারহানের

ক্রীড়া ডেস্ক
হামজার পর প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে অভিষেক বাংলাদেশি ফারহানের
সংগৃহীত ছবি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আঙিনায় হামজা চৌধুরীর পর আরও এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রতিভার উত্থান দেখতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব। লাল-সবুজের জাতীয় দলের জার্সি এখনও গায়ে না উঠলেও ক্লাব ফুটবলে শনিবার জীবনের সবচেয়ে স্মৃতিময় দিনটি কাটিয়ে ফেললেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। নরউইচ সিটির বিরুদ্ধে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মূল দলের হয়ে ঐতিহাসিক অভিষেক হয়েছে এই প্রতিশ্রুতিশীল উইঙ্গারের।

নরউইচের বিপক্ষে রুদ্ধদ্বার ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফারহান। স্প্যানিশ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে ফুলহামের মূল একাদশে এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ। দল ২-০ ব্যবধানে হারলেও সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেকের এই মুহূর্ত ফারহানের জন্য কোনো স্বপ্নপূরণের চেয়ে কম নয়। 

ম্যাচটি সম্প্রচার না হলেও ফুলহামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ফারহানের একটি বিপজ্জনক বাঁকানো শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল।

২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফারহানের রগ-রগে প্রবহমান সিলেটি রক্ত। তার পিতা-মাতা দুজনই প্রবাসে জন্মানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। লন্ডনের সড়ক থেকেই ফুটবলের প্রাথমিক পাঠ নেন ফারহান, শুরুটা হয়েছিল চেলসি একাডেমি থেকে। তবে ২০১৯ সালে তিনি পাড়ি জমান পশ্চিম লন্ডনের আরেক ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ফুলহামে।

এরপরের গল্পটা শুধুই ধাপে ধাপে নিজেকে উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এফএ ইয়ুথ কাপে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন। ২০২৩ সালে ফুলহামের সাথে স্কলারশিপ চুক্তি এবং ২০২৪ সালের শুরুতে অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক ঘটে। বাঁ প্রান্তের এই দূরন্ত উইঙ্গার ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ পজিশনে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দ্রুত কাট করে বক্সে ঢোকার দক্ষতা ও নিখুঁত টেকনিকের কারণে দ্রুতই নজর কাড়েন।

ধারাবাহিক উন্নতির পুরস্কার হিসেবে ২০২৫ সালে ফুলহামের সাথে প্রথম পেশাদার চুক্তি সম্পন্ন করেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ‘প্রিমিয়ার লিগ টু’-তে অনবদ্য পারফরম্যান্সে নভেম্বরে মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি মৌসুম শেষের বর্ষসেরা তালিকায়ও স্থান করে নেন ফারহান। এবার মূল দলের অভিষেকের মধ্য দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মূল মঞ্চে ফারহানকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীরা। 

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস

ক্রীড়া ডেস্ক
এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস
সংগৃহীত ছবি

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের এক এতিমখানা থেকে বুয়েনস আইরেসের ফুটবল মাঠ! গল্পটা রূপকথার মতো শোনালেও এটাই স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের জীবনের বাস্তবতা। জন্মসূত্রে পাওয়া অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের দেয়াল টপকে তিনি এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় নাম। এক আর্জেন্টাইন পরিবারের ভালোবাসায় নতুন জীবন, নতুন ভাষা আর সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়া সেই শিশুই এখন বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় আলবিসেলেস্তেদের আশার আলো।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব অ্যাকাডেমি থেকে নিজের জাত চিনিয়ে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

বর্তমানে ভেলেজের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলা রামোসের পছন্দের পজিশন লেফট উইং। তবে দলের প্রয়োজনে ডান প্রান্তেও একই ভাবে ঝড় তুলতে পারেন। বাঁ পায়ের জাদুকরী নিয়ন্ত্রণ, ক্ষিপ্র গতির ড্রিবলিং, ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাক এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে চটজলদি বল কেড়ে নেওয়ার প্রেস করার ক্ষমতার কারণে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে ইতিমধ্যেই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। 

চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় চোখধাঁধানো। ১৬ বছর বয়সেই নামের পাশে ঝুলিয়ে নিয়েছেন ১২টি গোল। যার মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিরুদ্ধে একাই চার গোল করে নিজের সক্ষমতা দেখান তিনি। ধারাবাহিক এই দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের নজর কাড়েন এবং জায়গা করে নেন আলবিসেলেস্তেদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে।

জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত রামোস। নিজের আবেগ চেপে না রেখে তিনি জানান, আর্জেন্টিনাই তার আসল ঘর। এই দেশ, এই ভাষাতেই তিনি আজকের রামোস হয়ে উঠেছেন। এখন তার মূল স্বপ্ন, ভেলেজের মূল দলে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের চিন্তার কারণ এক নিখুঁত লেফট উইঙ্গার। বিশ্লেষকদের মতে, সেই শূন্যতা পূরণের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে রামোসের মধ্যে। যদি তার উন্নতির এই ধারাক্রম বজায় থাকে, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তাকে দেখা যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রামোসের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে অন্যরকম এক বৈচিত্র্যও। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বেশ দুর্লভ। হাইতিতে জন্ম নেওয়া রামোস যদি ভবিষ্যতে জাতীয় দলের স্থায়ী মুখ হতে পারেন, তবে তা হবে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত কোনো ফুটবলারের জন্য এক নতুন ইতিহাস। 
 

জিম্বাবুয়েকে কোটি টাকার প্রস্তাব বিসিবির | কালের কণ্ঠ