চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম এমন তেতো স্বাদ পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধ শেষে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে। গোল হজম করে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যাওয়া, এরপর পেনাল্টি মিসের হতাশায় মিশরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে মেসিবাহিনী।
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৫ মিনিট। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক ক্রস বাড়ান মিশরের মারওয়ান আতিয়া। ডি-বক্সের ঠিক মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেডে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম। বলটি পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে জড়ালে স্তব্ধ হয়ে যায় আলবিসেলেস্তে শিবির।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পেয়েছিল সুবর্ণ সুযোগ। ২১ মিনিটে মিশরের বক্সে ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার বাঁ পায়ের শটটিতে সঠিক দিক থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গতি ছিল না। ফলে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বাম দিকে ডাইভ দিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল ফিরিয়ে দেন।
এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির ৪টিই হাতছাড়া করলেন মেসি। চলতি আসরে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস; এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে মিশরের ‘বাজপাখি’ মোস্তফার জন্যও এটি চলতি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভের কীর্তি। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের মেহদি তারেমির পেনাল্টিও ঠিক একইভাবে আটকে দিয়েছিলেন তিনি।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা আক্রমণে ধার বাড়ালেও প্রতিবারই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান মোস্তফা। ২৮ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রসে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের জোরালো হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন এই মিশরীয় গোলরক্ষক।
৩৮ মিনিটে মেসির আরেকটি বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। ঠিক পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর চমৎকার কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু এবারও বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন মোস্তফা শোবেইর। ফলে মোস্তফা-দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় আর্জেন্টিনাকে।




