শুধু মাঠের জাদুকরী ফুটবলই নয়, মাঠের বাইরেও নিজের কঠোর কিছু নীতি ও আদর্শের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত কিলিয়ান এমবাপ্পে। একজন গ্লোবাল আইকন হিসেবে তিনি কখনোই অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড কিংবা জুয়ার মতো নেতিবাচক বিষয়ের প্রমোশন বা বিজ্ঞাপন করেন না। কোটি কোটি টাকার লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলে সবসময় এসব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন ফরাসি অধিনায়ক। নিজের এই অনড় অবস্থানের কারণে কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার ট্রফিতে থাকা অ্যালকোহলের লোগো ঢেকে রেখে জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেকে একজন আদর্শ রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান এমবাপ্পে। আর এ কারণেই নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন তিনি। সবসময় স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং যুবসমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন ব্র্যান্ডগুলোর সাথেই কেবল চুক্তিবদ্ধ হন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
নিজের এই কড়া নীতির প্রতিফলন তিনি দেখালেন চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের হাইভোল্টেজ জয়ের ম্যাচেও। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। তবে অবধারিতভাবেই টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল অ্যালকোহল স্পনসরের কোনো ব্র্যান্ডিং বা লোগো ছিল না তার ট্রফিতে।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে ফিফা। এই নতুন নিয়মে স্পেশাল ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য ট্রফি ও মঞ্চ থেকে অ্যালকোহল সম্পর্কিত ব্র্যান্ডিং সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত ম্যাচসেরার পুরস্কারে বিয়ার ব্র্যান্ড ‘মিশেলব আল্ট্রা’র লোগো ব্যবহৃত হলেও, মুসলিম ফুটবলারদের জন্য রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ডিজাইন এবং ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্র্যান্ডিং। এম্বাপ্পে নিজে খ্রিষ্টান ধর্মানুসারী হলেও, ব্যক্তিগত নৈতিকতার খাতিরে মুসলিমদের জন্য বরাদ্দকৃত সেই নিরপেক্ষ পুরস্কারটিই গ্রহণ করেন।
অবশ্য কাতার বিশ্বকাপ থেকেই এই ধারা বজায় রেখেছেন এমবাপ্পে। সেবার ম্যাচসেরা হওয়ার পর ট্রফি হাতে ছবি তোলার সময় সচেতনভাবেই স্পনসর কোম্পানির লোগোটি হাতের আড়ালে রাখতেন তিনি। নিজের আদর্শ ধরে রাখতে ফিফা কিংবা স্পনসরদের রোষানলে পড়া বা জরিমানা গোনা কোনো কিছুতেই পিছু হটেন না এই ফরাসি তারকা।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এর ঠিক ৬ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফরাসিরা যখন সেমিফাইনালের টিকিট কাটল, ততক্ষণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ২০তম গোলটি করে ফেলেছেন এমবাপ্পে।




