• ই-পেপার

চরফ্যাশনে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রংপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের পোস্টার প্রদর্শনী

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রংপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের পোস্টার প্রদর্শনী
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও  বলাৎকার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক ব্যতিক্রমী পোস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজের  ছাত্রীরা সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রদর্শনীতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। পথচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

আরো পড়ুন

হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ও  রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক লায়ন মো. আজহারুল ইসলাম দুলাল,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল হুমায়রা জান্নাত ঐশি, নুসরাত নওশীন বুশরা, মোছা. নুর হাবিবা আক্তার , মোছা. মেহজাবিন রুবাইয়া, তানজিম হাসান, ও বসুন্ধরা শুভসংঘ রংপুরের সমন্বয়ক আদর রহমান প্রমুখ।

কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণাকালে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক উপস্থিত হয়ে সফলভাবে প্রদর্শনীটি সম্পন্ন করার জন্য রংপুর জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সব বন্ধু, বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে ভবিষ্যতেও সামাজিক অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে রোয়াংছড়িতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই  প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে রোয়াংছড়িতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই  প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন
নারী দক্ষতা উন্নয়নে বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই  প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নারীদের স্বাবলম্বী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে ওয়াগয় পাড়া লাইব্রেরি ভবনে নারী দক্ষতা উন্নয়নে বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই  প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমল তঞ্চঙ্গ্যা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক উয়ই সিং মার্মা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্ত চিছাম, স্পনসরশিপ অ্যান্ড সিস্টেমস অফিসার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, বান্দরবান এডিপি, আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াগয় পাড়ার গ্রাম প্রধান  ইন্দ্রলাল তঞ্চঙ্গ্যা।

সভাপতির বক্তব্যে শিমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার নারীরা ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্যোগ নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং সমাজে তাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করবে।’

স্বাগত বক্তব্যে সাংগঠনিক সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আমাদের সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব। সমাজ পরিবর্তনে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের বিকল্প নেই।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক উয়ই সিং মার্মা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিরলসভাবে কাজ করছে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একজন দক্ষ ও স্বাবলম্বী নারী একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নিতে পারেন, তেমনি একটি সমাজ ও জাতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের স্পনসরশিপ অ্যান্ড সিস্টেমস অফিসার (বান্দরবান এডিপি) শান্ত চিছাম  বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন একটি টেকসই সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পার্বত্য অঞ্চলের নারীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে চলেছেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীরা যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তখন শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয়। তাই এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।’

ওয়াগয় পাড়ার গ্রাম প্রধান ইন্দ্রলাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী। আমাদের সমাজে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে জীবনযাপন করেছেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবেন। নারীরা শিক্ষিত ও দক্ষ হলে পরিবার ও সমাজ উভয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই এবং স্থানীয়ভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অমর রাণী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা, দক্ষতা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ের মাধ্যমে নারীরা আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অন্তর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আধুনিক প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান নারীদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সদস্য শিমারাণী তঞ্চঙ্গ্যা, রেনি তঞ্চঙ্গ্যা ও রিবেল তঞ্চঙ্গ্যাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশিক্ষণার্থী এবং এলাকার নারী প্রতিনিধিরা।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং স্থানীয় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারী নারীরা এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লামায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বিনা মূল্যে ৩ মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
লামায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বিনা মূল্যে ৩ মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘শুভ কাজে সবার পাশে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বান্দরবানের লামায় দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ মে) বিকেলে লামা পৌরসভার মধুঝিরি এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  এ সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে ৪ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীসহ ২০ জন অসচ্ছল ও দরিদ্র নারী অংশগ্রহণ করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও  লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের লামা-আলীকদম প্রতিনিধি মো. তানফিজুর রহমান, দ্যা ডেইলি সান প্রতিনিধি মো. সাহাব উদ্দিন রিটু, বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম তুহিন ও মাজেদা বেগম। 

সভায় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা পার্বত্য জনপদের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনা মূল্যে তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের আয়োজন করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।  

সভায় বক্তারা বলেন, নারীর সুঁই-সুতা বুননের মধ্য দিয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হতে পারে। এই প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান নারীরা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে নিজ পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। 

বক্তারা বলেন, বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীরা যদি বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পায় তাহলে নারীরা ঘরে বসেই আয়-রোজগার করতে পারবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পারিবারিক নির্যাতন ও অশান্তি দূর হবে। 

সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া রেশমা আক্তার প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার  সহ-সভাপতি ইয়াসিন মামুন ও মো. ইরান, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস উদ্দিন ও দপ্তর সম্পাদক শাহরুখ ইন্তেজান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক মিনারা বেগমের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রমনায় শুভসংঘের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রমনায় শুভসংঘের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর রমনা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রমনা থানা শাখা।

শুক্রবার (৫ জুন ) রমনা থানা এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শুভসংঘের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন নগরী গঠন এবং সবুজ পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালনের শপথ পাঠ করানো হয়। শপথে সবাই পরিবেশদূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের সার্বিক নির্দেশনায় এবং রমনা থানা শাখার সভাপতি আশিক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।

এ সময় আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অঙ্গীকার। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন ঘর থেকে শুরু করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু একটি দিবস পালন করলেই হবে না, বছরের প্রতিটি দিন পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাহলেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে পারব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইকরা, সহসভাপতি রানা হোসেন ও আল-আমিন সিয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন আহম্মেদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রাব্বি হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মনির হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আয়েশা আকন ও জিনিয়া আক্তার, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ইমরান হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জিসান আলম, পাঠাগার ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক রাফসান আহমেদ রিফাত, শিশু ও নারী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক লিজা আক্তার ও সোনালী আক্তার, প্রচার ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক রাতুল আহমেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ওয়ারী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম লাবিব, সদস্য আরাফাত, সিয়াম শেখ, ওমর, কামরুল, পাখি, কারিমা, লিজা, আরিফা ইসলাম, রিয়াদ, মুন্নাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন নগরী গঠন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গঠনের লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করবে।