• ই-পেপার

ভারসাম্যহীন রাজুর পরিবারের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

কুড়িগ্রামে গুণী শিক্ষক খন্দকার খায়রুল আনমকে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মাননা

রোকনুজ্জামান মানু
কুড়িগ্রামে গুণী শিক্ষক খন্দকার খায়রুল আনমকে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মাননা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে গুণী শিক্ষক ও সমাজসেবক খন্দকার খায়রুল আনমকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। গত রবিবার (১২ জুলাই) কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির আয়োজনে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান মানুর সঞ্চালনায় বক্তব‌্য রা‌খেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি ও কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আনম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, খন্দকার খায়রুল আনম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে জেলার মানুষের কাছে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার অবদান নতুন প্রজন্মকে সমাজসেবামূলক কাজে আরো উদ্বুদ্ধ করবে।

খন্দকার খায়রুল আনম ১৯৫৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার চাকরির সুবাদে লালমনিরহাট ও সৈয়দপুরে তার বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৬৭ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পাকিস্তান জাতীয় জাম্বুরিতে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও পদক লাভ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।

দীর্ঘদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১০ সালে অবসর নেন। ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিনি বসুন্ধরা শুভসংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের এক নম্বর সদস্য। পাশাপাশি তিনি সুজনের জেলা সভাপতি, প্রবীণ হিতৈষী সংঘের জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এবং ‘স্বজন’-এর সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এদিকে, গত ১১ জুলাই বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ক‌মি‌টিতে উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন খন্দকার খায়রুল আনম, ডা. আমিনুল ইসলাম, আব্দুল খালেক ও প্রতিমা চৌধুরী।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন হারুন অর রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন খন্দকার রাশেদুল আনম। এ ছাড়া সহ-সভাপতি মোহায়মিনুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও রুবামা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া, ফরহাদ মিয়া, প্রভাতী রায় ও খাদিজা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক খাদিজা আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হোসেন রাসেল, অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের, দপ্তর সম্পাদক আরফিনা আক্তার, ইভেন্ট সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন প্রামানিক, প্রচার সম্পাদক রুবাইয়া ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হেমলতা রায়, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামিউল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক সামাউন ইসলাম (সামি), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হুদা রিয়াদ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বৃষ্টি রাণী সরকার, শিক্ষা ও পাঠ্যচক্র বিষয়ক সম্পাদক রাকিব আল রিয়াদ, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মাহিয়া বিনতে মৌ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাকিল হোসাইন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন খোকন মণ্ডল।

কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মিফতাহ উল ইসলাম, ইব্রাহিম হক, ফুয়াদ মাহি, সাজ্জাদুল ইসলাম, আল ইমরান, জোবায়ের ইসলাম, শিহাব ইবনে সামস, সাবিনা আক্তার, সুরুজ ইসলাম ও শাহিদুল ইসলাম।

এ সময় নতুন কমিটির সদস্যরা সমাজের মানুষের পাশে থেকে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চিরিরবন্দর

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সবজির চারা বিতরণ

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর
গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সবজির চারা বিতরণ

‘অল্প জায়গায় সবজি চাষে, অভাব মিটে সংসার চলে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী ও পুষ্টি সচেতন করে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ৩০টি পরিবারের মাঝে বিনা মূল্যে বিভিন্ন জাতের সবজি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় নারীরা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেন। লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, করলা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁপেঁসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চারা তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। শুধু চারা বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা; বাড়ির আঙিনার পতিত ও খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে কীভাবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা যায়, পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় নিশ্চিত করা যায়—সেসব বিষয়েও নারীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ হাসান বলেন, বসতবাড়ির আঙিনায় বিষমুক্ত সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্তমান সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মোস্তাকিম আল-হাসনাত বলেন, আমাদের মা-বোনেরা যদি বাড়ির আঙিনার সামান্য জায়গাটুকুও ফেলে না রেখে সবজি চাষ করেন, তাহলে একদিকে যেমন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বাজার খরচও অনেক কমে যাবে। অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চারা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয় গৃহিণীরা। তাদের একজন বলেন, অনেক দিন ধরেই বাড়ির উঠানে সবজি চাষ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভালো চারা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আজ শুভসংঘ থেকে বিনা মূল্যে চারা পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম। এখন নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারব, আর অতিরিক্ত হলে বিক্রিও করতে পারব। এতে সংসারের আয়ও কিছুটা বাড়বে।

স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো গ্রামের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাড়ির পতিত জায়গাকে উৎপাদনের আওতায় এনে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরো শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল রায়, প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পলাশ রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা জানান, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত হবে এবং একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও স্বাবলম্বী সমাজ গড়ে তুলতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লামায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

মো. তানফিজুর রহমান, লামা-আলীকদম (বান্দরবান)
লামায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

বান্দরবানের লামায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে লামা পৌরসভা এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত  অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসংকটে থাকা প্রান্তিক পরিবারগুলো এ সহায়তা পেয়ে গভীর সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে এই ত্রাণসামগ্রী তাদের মানবেতর জীবনযাপনে বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সহায়তাপ্রাপ্তরা।

টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সম্প্রতি বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকাসহ উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পাহাড়ধসে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের দুর্ভোগ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে দেখা দেয় খাদ্যসংকট। এ অবস্থায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখা।

মঙ্গলবার বিকেলে বসুন্ধরা শুভ সংঘের উদ্যোগে লামা পৌরসভার নয়া বাজার, মধুঝিরি পূর্বপাড়া, ফরেষ্ট কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকার বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত গরীব অসহায়দের ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়।

এ সময় খাদ্য সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীরা সন্তোষ  প্রকাশ করে বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খাদ্যসংকটে ভুগছিলেন। দুর্যোগ-দুর্দিনে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ খাদ্য সহায়তা তাদের ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফুটাবে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশব্যাপী গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সার্বিক সহায়তায় বন্যা এবং পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারের মাঝে আজকে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার সদস্যরা যেকোনো দুর্যোগে সবার সহায়তায় আরো বৃহৎ পরিসরে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

লামা পৌর এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. ইরান, মো. ইয়াছিন মামুন, মো. তারিফুল ইসলাম,  যুগ্ম-সাধারণ  সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন,   সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুল হক, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আবিদুল হক এবং সদস্য মো. মামুন ও মো. সিহাবসহ অন্যরা।

রাজিবপুরে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
রাজিবপুরে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘সবুজে সুন্দর আগামী’ গড়ার প্রত্যয়ে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার শিবেরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু গাছের চারা গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে যে সবুজায়ন কার্যক্রম চলছে, বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের এই উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরো বেগবান করবে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, একটি দেশের পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় মোট আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। নির্বিচারে বন উজাড় ও গাছ কাটার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নেওয়া উচিত।

রাজিবপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম কিবরিয়া বলেন, সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সবুজায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবেরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী, রাজিবপুর উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের আরিফ মাহমুদ, রাসেদুল, মাসুদ রানা, ওসমান, আশিক, মামুন, রাজিবপুর সরকারি কলেজ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

ভারসাম্যহীন রাজুর পরিবারের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ | কালের কণ্ঠ