• ই-পেপার

ঘোড়াঘাট

ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

জাকারিয়া জামান, পলাশবাড়ী থেকে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি: কালের কণ্ঠ

অভাব কখনো মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না, যদি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে কেউ পাশে দাঁড়ায়। সে লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পলাশবাড়ীর দরিদ্র নারীদের কল্যাণে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

তিন মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে ২৪ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। আর সেই সেলাই মেশিন যেন শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং দরিদ্র নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন প্রশিক্ষিত নারীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) পলাশবাড়ী উপজেলা অডিটরিয়ামে সুরুজ হক লিটনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় আয়োজিত সেলাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোছা. সায়মুম মুসতারী।

উপকারভোগী নারীদের একজন উপজেলা পর্যায়ের পরিচিত নারী ফুটবলার হাবিবা। মাঠে দৌড়ে বেড়ানো এই স্বপ্নবাজ তরুণীর জীবনও ছিল অভাবের বেড়াজালে আটকে। কৃষক বাবার চার সন্তানের সংসারে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবারের আর্থিক সংকট তাকে বারবার থামিয়ে দিতে চাইলেও হার মানেননি তিনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন এখন তার নতুন আশার আলো। ফুটবলের পাশাপাশি নিজের আয়ে পরিবারকে সহায়তা করার স্বপ্ন দেখছেন হাবিবা।

একই গল্প লিমা আক্তারেরও। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমার বাবা একজন অটোরিকশাচালক। চার ভাই-বোনের সংসারে প্রতিদিনই অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাদের। বাবার সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় সেলাই প্রশিক্ষণ ও একটি সেলাই মেশিন পেয়েছে লিমা। তার বিশ্বাস, এই মেশিন একদিন তাকে পরিবারের শক্তিতে পরিণত করবে।

হাবিবা কিংবা লিমা—তাদের গল্প আলাদা হলেও বাস্তবতা একই। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এমন ২৪ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আত্মনির্ভরতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘এটি কোনো সাহায্য নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার। আমরা চাই, এই সেলাই মেশিনকে কাজে লাগিয়ে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হোক, নিজের পরিবারের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখুক। একটি মেশিন থেকেই একদিন তারা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে আরো অনেক নারীর।’

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেন, ‘যে সমাজে নারীরা এগিয়ে যায়, সেই সমাজকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে না। তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’

তিনি উপকারভোগীদের সেলাই মেশিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। সেই জায়গায় বসুন্ধরা শুভসংঘ এগিয়ে এসে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি, যারা আজ সেলাই মেশিন পেয়েছেন তারা এর সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ ও বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার এই মানবিক উদ্যোগের জন্য। পলাশবাড়ী উপজেলার ২৪ জন নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সেলাই মেশিন বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই সেলাই মেশিন শুধু একটি উপকরণ নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। আমি আশা করি, এই কার্যক্রম শুধু ২৪ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে আরো বেশি সংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত নারী এর আওতায় আসবেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। কারণ এখানে অসচ্ছল নারীদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়নি, তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজেরা আয় করতে পারবেন, অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবেন।’

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজ যারা এই সেলাই মেশিন পেলেন, তারা এটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারবেন। তাদের সাফল্যই বসুন্ধরার এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’

বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ

আব্দুস সালাম বাবু, বগুড়া
বগুড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালের চারা রোপণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার গাবতলীতে সড়কের দুই পাশে ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘের বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সোন্দাবাড়ী এলাকার সড়কের দুই পাশে মোট ১০০টি ডাব ও তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ ও রোপণের মতো কাজ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে দুস্থদের সহায়তা ও পরিবেশবান্ধব নানামুখী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাবতলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হামিদুল হক শিলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসার রহমান এবং জেলা যুবদলের সদস্য সাব্বির।

এ ছাড়া বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য সজল শেখ, দৌলত জামান দীপু, আব্দুল গনি, ছনি, নিপুল, বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের চারা রোপণ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের বসুন্ধরা শুভসংঘের উপহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও মানসিক সাহস জোগাতে গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দিকনির্দেশনামূলক আলোচনাসভাও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি পরীক্ষা শুধু ফলাফলের বিষয় নয়; বরং এটি আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও সৎ প্রচেষ্টার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তারা শিক্ষার্থীদের ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার প্রধান উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এটিই জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। আত্মবিশ্বাস, নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং সততার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভয় বা দুশ্চিন্তা নয়, নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বিষয়ভিত্তিক বোঝাপড়া, নিয়মিত অনুশীলন এবং ইতিবাচক মানসিকতা বেশি প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরীক্ষায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরুপ কুমার রায় বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ক্ষুদ্র উপহার আমাদের ভালোবাসা ও শুভ কামনার প্রতীক। আন্তরিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবাই ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু দুর্যোগে মানবিক সহায়তা বা সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সমৃদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতেও নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই আয়োজন তারই একটি অংশ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সহ-সভাপতি প্রদীপা রাণী, শাহরিয়ার কবির ও আসাদুল্লাহ আসিফ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিফাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর ইসলাম আতিক, নারীবিষয়ক সম্পাদক রুবিয়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোনাইম ইসলাম নিয়নসহ কার্যকরী সদস্যরা।

এ সময় প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী রোকন, আর্প, পূজা, মিতু, জুই, জুনায়েদ, রিয়াদ, কলি, আল-আমিন, রিতা, সুমাইয়া, মাহমুদ, শান্ত, কবির, ডোলা, স্বাধীন, তমাল ও ইমনসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপহার গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষার আগে এমন আয়োজন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভালো ফলাফলের জন্য নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সব পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, সফলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভ কামনা জানানো হয়। 
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে আরো উৎসাহিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা

অনলাইন ডেস্ক
দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা

অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিং বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য এই তিনটি শব্দ যেন এক নীরব ঘাতকের নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেট যেমন এনে দিয়েছে অগণিত সম্ভাবনার দুয়ার, তেমনি এর অপব্যবহার ঠেলে দিচ্ছে অনেক তরুণ-তরুণীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। এই বাস্তবতা থেকেই সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে এলো বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে নকলা উপজেলার গ্রিন রোড এলাকায় ‘দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহার: অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সচেতনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা ও খইরাপাড়া দাখিল মাদরাসার সহ-সুপার মো. আব্দুল আজীজ অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এটি একজন তরুণের নৈতিক ও মানসিক ভিত্তিকেও ধ্বংস করে দেয়। এ সময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুব হাসান বক্তব্য রাখেন এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি ও নকলা সহযোগিতা সমৃদ্ধি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য জুনায়েদ আহাম্মেদ তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি সংগঠনকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং সদস্যদের সামাজিক কার্যক্রমে আরো সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

গুজব ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ইভেন্ট সম্পাদক লিমন আহমেদ।

তিনি বলেন, একটি মিথ্যা তথ্য বা একটি নেতিবাচক মন্তব্য মুহূর্তেই একজন মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে; তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করা এবং অনলাইনে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোকছেদুল আলম (প্রভাষক, আইসিটি এবং প্রতিষ্ঠাতা, নকলা সহযোগিতা সমৃদ্ধি ফোরাম) ও তারিক জামিল, সহ-সভাপতি নাঈমুল ইসলাম ফাহিম ও ফাতেমা জান্নাত (সহকারী শিক্ষক) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আসমাউল হুসনা। প্রযুক্তির এই সদ্ব্যবহার প্রমাণ করে, বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা নিজেরাই দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাজর খান, সহ-সভাপতি মিলন (সিনিয়র রোভারমেট, বাংলাদেশ স্কাউট, শেরপুর পলিটেকনিক শাখা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, আতিকা ইসলাম ও রাতুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রিফাত, অর্থ সম্পাদক হুমায়রা জান্নাত সায়মা, দপ্তর সম্পাদক শামীম, নারী বিষয়ক সম্পাদক বৃষ্টি, প্রচার সম্পাদক সিফাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মীম জান্নাত, ক্রীড়া সম্পাদক আবু হুরায়রা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ হাসান, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক হাফসা মীম, শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক ইশরাত জাহান মিতু, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রুপা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ এবং কার্যকরী সদস্য হাবিবা জান্নাত মাইমুনা, জান্নাত, জাকির, ইসমাইল হাসান প্রান্ত ও শ্রাবন্তী।

আলোচনা সভায় বক্তারা একবাক্যে বলেন, শুধু আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে অনলাইন জুয়া, গুজব ও সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যা সমূলে দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি অভিভাবককে সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি নজর রাখার এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক তথ্য যাচাই করে বিশ্বাস করার পরামর্শ দেন বক্তারা।

ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা | কালের কণ্ঠ