• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব : মাহদী আমিন

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

ওআইসির সদস্য ১৮ দূতবাসের সহযোগিতা

বন্যাদুর্গত দুই হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেবে ফিলিস্তিন দূতাবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গত দুই হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেবে ফিলিস্তিন দূতাবাস

চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুই হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাস। ত্রাণসামগ্রী প্যাকেটজাত করার কাজ চলমান রয়েছে দূতাবাসে। বাংলাদেশে নিযুক্ত অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওয়াইসি) সদস্যভুক্ত ১৮টি মুসলিম দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দূতাবাসে সরেজমিনে দেখা যায়, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্যাকেট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে স্বেচ্ছাসেবী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। 

দূতাবাস সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে। তারা অন্যদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের কাছে এসব ত্রাণ পৌঁছে দেবে। প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে চাল, খেজুর, চিড়া, মুড়ি, চিনি, লবণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নুডলস রাখা হয়েছে। এমন খাদ্যসামগ্রী বেছে নেওয়া হয়েছে যা দুর্গত মানুষ সহজে ও দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রান্নার প্রয়োজন হবে না।

1

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ মানবিক। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাই এ দুর্যোগে ফিলিস্তিনের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। এটি বাংলাদেশের প্রতি ফিলিস্তিনের ঋণের সামান্য অংশ হলেও শোধ করার একটি প্রচেষ্টা।’

ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, ‘১৮টি মুসলিম দেশের দূতাবাসের সহায়তায় প্রায় ৪০ টন ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে। যদিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষের সবার কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবু সরকার, সেনাবাহিনী, এনজিও এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আরো অনেক মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির আমন্ত্রণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ইরান দূতাবাসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।

সাক্ষাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের (পীর সাহেব চরমোনাই) পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। প্রতিনিধিদল অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং ইরানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার প্রত্যাশার কথাও জানায়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু, ব্যবসা-বাণিজ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আলহাজ গোলাম মসীহ। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ সজল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাজন সিকদার।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ কাজ করছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বাসস
মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ কাজ করছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
বান্দরবান পৌরসভার আমতলী পাড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পাহাড়ি, বাঙালি কিংবা অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষ, সবাই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কোনো বৈষম্য নয়, সবার দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে সরকার একা ছেড়ে দেবে না।

বুধবার বান্দরবান পৌরসভার আমতলী পাড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বান্দরবানে এসেছেন। 

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যার প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা নিরলস উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্যায় আক্রান্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না করা খাবার ও কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার সরবরাহের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল টিমও কাজ করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খাদ্য সহায়তা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে, যেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারেন ও তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হয়।

তিনি বলেন, বন্যায় যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সরকারের উদ্যোগে প্রতিটি ঘরবাড়ি পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে, যেন মানুষ দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন।

এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ায়, এখন বিভিন্ন এলাকায় কাদা, আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যেন রোগব্যাধির ঝুঁকি কমে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত বসবাস উপযোগী হয়ে ওঠে।

ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।