ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ নয়, বরং কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালিবিধির ৭১ ধারায় দেওয়া নোটিশের ওপর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে উত্থাপিত নোটিশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশের গণপরিবহনকে পর্যায়ক্রমে বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রস্তাব তুলে ধরেন ওই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাত থেকে দেশের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৯ শতাংশ আসে। বিশেষ করে সড়কপথে চলাচলকারী ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাক সবচেয়ে বেশি দূষণ সৃষ্টি করছে।’ এ অবস্থায় পরিবেশ রক্ষায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সিএনজি, এলএনজি, বায়োডিজেল, বায়োগ্যাস, সবুজ হাইড্রোজেন ও ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরে সম্পূরক প্রশ্নে শওকত আরা আক্তার বলেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব যান পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ে চলাচলের সুযোগ তৈরি করলেও অনিয়ন্ত্রিত পরিচালনা, অদক্ষ চালক, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের অভাব এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে যানজট, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানতে চান, এসব যানবাহন বন্ধ না করে কোনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এনে মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না?
জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঢাকার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিষয়টি মূলত সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত। তবে রাজধানীতে সমন্বিত বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অনুরূপ যানবাহনের ব্যবস্থাপনা কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ঢাকা সিটিসহ সারা বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে। সেই নির্দেশনার আলোকে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’





