• ই-পেপার

জুনে ৩০৮ কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করেছে বিজিবি

জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদ ভবনে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর আওতায় আয়োজিত বাজেট বিষয়ক এক ডিব্রিফিং সেশন পরিচালনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ডিব্রিফিং সেশনে প্রতিমন্ত্রী জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ, উন্নয়ন তহবিলের আওতায় খাতভিত্তিক অর্থবণ্টন এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা ও নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ সময় তিনি জাতীয় বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহি এবং কার্যকর সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন।

উপস্থাপনা শেষে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর আওতায় আয়োজিত এ ডিব্রিফিং সেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামসহ জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ

তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংশোধিত আইন পাস হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কাটেনি। তাদের মতে, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য এখনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন আইনের কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধে পৃথক ও কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) আয়োজিত সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশে তামাক কোম্পানির প্রভাব ও কৌশল কঠোরভাবে মোকাবেলা, খুচরা শলাকা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়া তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, তামাক চাষ নীতি ও তামাক করনীতি প্রণয়ন এবং সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সুফল নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

এ সময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আধুনিক উপস্থাপন ও আগ্রাসী বিপণন কৌশলের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এসব পণ্যকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বা আধুনিক হিসেবে প্রচার করা হলেও এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এগুলো তরুণদের নিকোটিন নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত তামাকপণ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সভায় বক্তারা বলেন, সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এসব পণ্য কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা শিশু, কিশোর ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন তিনি।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের হলফনামায় উল্লিখিত এক হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি, ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৪২ কোটি টাকার পারিবারিক রাইস মিল বিক্রি সম্পর্কিত তথ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে তার দপ্তর।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সালের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তির জবাব দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে তিনি পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। পরে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার, পরিচালনা এবং সার্বিক মালিকানাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পরিচালনা করছেন।

হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠান হল, রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সেখানে বলা হয়, ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মিলটির ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার গণেশপুর গ্রামের রাইস মিল ব্যবসায়ী রবিউল আলম। তার ভাষ্যমতে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৪২ কোটি টাকায় মিলটি ক্রয় করেছেন এবং মালামালসহ প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে হলফনামার তথ্য আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হলফনামায় এক হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য থাকলেও প্রতিবেদনে মাত্র ৩১ শতাংশ সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। সচেতন মহলের ধারণা, ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই।