• ই-পেপার

চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার

প্লাস্টিকের ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্লাস্টিকের ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়িতে র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি দল অভিযান চালায়।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে শাকিলা শারমিন রেশমীকে গ্রেপ্তার করেন। তবে তার এক সহযোগী পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বসতঘর ও ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি প্লাস্টিকের ড্রাম তল্লাশি করে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার শাকিলা শারমিন রেশমী উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া ওয়াপালং এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আবুল কালামের মেয়ে এবং মোহাম্মদ ইদ্রিসের স্ত্রী।

আ. ম. ফারুক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিলা শারমিন রেশমীর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার এবং পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাসহ তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং এ চক্রের মূল হোতা ও পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল

স্বাস্থ্য পরিচালককে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
স্বাস্থ্য পরিচালককে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ শেষে বিক্ষুব্ধরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। তবে সে সময় স্বাস্থ্য পরিচালক সেসময় তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরিচালকের দাবি, বিএনপি পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন বলে জানিয়েছেন। ড্যাব বরিশাল জেলা শাখাসাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ। তবে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি করেছেন সংগঠনটির সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান। 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘ডাক্তার মনিরুজ্জামান একটানা চার বছর শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের সময় তাদের নিজস্ব দলের সক্রিয় সদস্য না হলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হত না। তিনি জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তি মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এখন তিনি পুনরায় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না তাই তার প্রত্যাহার দাবি করছি। 

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ‘ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন আমাদের সংগঠনের সদস্য হলেও তিনি জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শান্তি সমাবেশ অংশ নিয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। তিনি বলেন জুলাই এর বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ কবিরুজ্জামান বলেন, ‘ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়। তেমনি একটি কর্মসূচির ছবি নিয়ে শুনেছি বিক্ষোভ হয়েছে। বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি এটির সমাধান হবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, তিনি সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেওয়ার জন্য গিয়েছেন। শুনেছেন তাকে স্বৈরাচার দাবি করে একটি গ্রুপ বিক্ষোভ করছে। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের বরিশালে দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপ তাকে সমর্থন করছেন অপর গ্রুপ তার বিরোধিতা করছেন। গ্রুপিং এর কারণে তার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ও উপপরিচালক থাকাকালীন সময়ে বাধ্য হয়েও কিছু প্রোগ্রামে তার উপস্থিত হতে হয়েছে। আর সেই প্রোগ্রামের কিছু ছবি নিয়ে এখন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান শাহীন।এর আগে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর পূর্বে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টানা চার বছর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং পরবর্তীতে দেড় বছরেরও বেশি সময় উপপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

 

সাপের কামড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
সাপের কামড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর
ছবি: কালের কণ্ঠ

রান্না করতে গিয়ে সাপের কামড়ে খাদিজা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কোলচরি (সস্থাল) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খাদিজা বেগম ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও মো. জাকির বেপারীর স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, রান্নার জন্য মঙ্গলবার সকালে রান্না ঘরে প্রবেশ করলে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ তার হাতে কামড় দেয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
 

বান্দরবান

মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

১০ জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ছড়ায় ভেসে গেছে এক শিশু নাফাখুমে ৭৮ পর্যটক আটকা

জহির রায়হান, বান্দরবান
মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টি একসঙ্গে বহু সংকট ডেকে এনেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীনতা, জলাবদ্ধতা- সব মিলিয়ে এ জেলার  জনজীবন কার্যত স্থবির। 

এদিকে, নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়, ঝর্ণা, ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের অংশ বসতবাড়ির ওপর ধসে পড়েছে, কোথাও প্রধান সড়কে ধসে পড়েছে পাহাড়ের মাটি।

সরেজমিন গিয়ে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে টানা বৃষ্টি। এতে থানচি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে রেমাক্রী খাল ও বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় পানি দ্রুত অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হওয়ায় রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের তখনি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। নদীর স্রোত কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

বান্দরবান-থানচি সড়কের নীলগিরি এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত মাটি অপসারণ করে সড়কটি সচল করে। অন্যদিকে লামার ফাইতং ইউনিয়নেও পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের গ্রিনপিক রিসোর্টসংলগ্ন এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এতে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টানা ১৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টায় পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।  

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মক ব্যাহত হয়। মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে না পারায় অনেক এলাকায় জরুরি যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে একটি পরিবারের ঘরবাড়ির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু অতিভারী বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে, তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও চূড়ায় বসবাসরত সব জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান শহরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া, সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এছাড়া পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দুই উপজেলায় বন্যা
স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলে লামা ও আলীকদম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, সোনাইছড়ি ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। দুর্যোগের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে। 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ আহমেদ জানান,  সোমবার (৬ জুলাই) সকালে প্রবল স্রোতের একটি ছড়ায় ভেসে যায় পাঁচ বছরের শিশু আলিয়া সুলতানা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ছড়াগুলোর আকস্মিক স্রোত কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই ঘটনাই তার নির্মম উদাহরণ।

জেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও বিতরণ করা শুরু হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। সময়মতো সড়ক সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো শক্তিশালী না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা) পর্যন্ত বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, গত দুই দিন ধরে বান্দরবানে অতি বৃষ্টি রয়েছে। বৃষ্টিতে যাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ায়  যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।