• ই-পেপার

২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতি, উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

তিতাস-হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার তিতাসে ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. এলেমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার উত্তর আকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এলেম দীর্ঘদিন ধরে বড় মেয়ের প্রতি অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। গত ১০ মে গর্ভে থাকা সন্তান প্রসবের জন্য ভুক্তভোগীর মা তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এই সুযোগে বাড়িতে একা থাকা ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে ফিরে মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার পর পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত তার আচরণ পরিবর্তন করেননি। গত ১ জুলাই রাতে তিনি আবারও মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে ভুক্তভোগীর মা তিতাস থানায় মামলা করেন।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সোমবার রাতে বাতাকান্দি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

ওসি জানান, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

সিসিটিভিতে দেখে চোর সনাক্ত

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামে প্রায় ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় চুরি হওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  প্রবাসী শাহীনের নির্মাণাধীন বাড়িতে টাইলসের কাজ চলছিল। বাড়িতে বাইরের শ্রমিক থাকায় নিজের ও দুই মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা) একটি প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ির উঠানে দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন তারা বাবা। গত ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাইলস মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর মাটি খোঁড়া দেখতে পেয়ে সেখানে রাখা স্বর্ণালংকার আর খুঁজে পাননি। পরে বিষয়টি কুয়েতপ্রবাসী ছেলে শাহীনকে জানালে তিনি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন, টাইলসের কাজ করা দুই মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে নিজেদের মধ্যে কথা বলে সেগুলো নিয়ে বাড়ির পেছনের দিকে চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই মিস্ত্রি মোমিন খান (৩৬), কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের বাসিন্দা এবং একই এলাকার মো. আলালকে (২২) শনাক্ত করেন। পরে গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মো. আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ২টি নেকলেস, ৩ জোড়া কানের দুল, ১টি বেসলেট, ৩টি চেইন, ১টি লকেট, ৭টি বালা ও ১টি বেঙ্গল বালা উদ্ধার করা হয়।

গাংনী থানার ওসি মুহাম্মদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার একটি বাড়ির বাথরুম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শুটকি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুল আজিজ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আমতৈল এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণগ্রামের ছোবহান হাজীর বাড়ির বাথরুমে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, যে বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

চিকিৎসক সেজে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভয়ংকর প্রতারণা, অবশেষে ধরা

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
চিকিৎসক সেজে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভয়ংকর প্রতারণা, অবশেষে ধরা
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভুয়া ডিগ্রিধারী ও চিকিৎসক সেজে প্রতারণার দায়ে মো. শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা সদরের নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত হাজী মুখলেছুর রহমান চক্ষুসেবা কেন্দ্র ও চশমাঘরে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়। অভিযুক্ত কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার শামসুল আলম শিকদারের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া নেতৃত্বে নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ভুয়া চিকিৎসক শহীদুল্লাহর প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা সনদ বা বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযানে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদুল্লাহ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং কুমিল্লার হোমনা এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখতেন। এমনকি বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভ্রাম্যমাণ অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান, এসআই লুতফুর রহমান এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমবার বলে আজ শুধু জরিমানা করেই রেহাই দিলাম। তার চেম্বার বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে যদি ফের রোগী দেখে তখন জেল-জরিমানা দুটোই হবে।  জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের প্রতারকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভুয়া চিকিৎসকদের অপতৎপরতা রুখতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’