• ই-পেপার

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

মণিরামপুর

স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের মণিরামপুরে আরিফুর রহমান (৮০) নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করেছেন বলে এ অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমকে (৫৫) হেফাজতে নিয়েছে।

নিহত উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ডান পা পঙ্গু হওয়ায় আরিফুর রহমান স্বভাবিক হাঁটাচলা করতে পারতেন না। দুই মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ৩০-৪০ বছর আগে শেফালিকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এরপর দুই ছেলের বাবা হন তিনি। তার দুই ছেলে বিদেশে কর্মরত।

নিহতের বড় মেয়ের স্বামী আইয়ুব আলী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরের সঙ্গে আমার কথা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে শুনি শ্বশুর মারা গেছেন। রাতেই এসে দেখি শ্বশুরের মরদেহ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্বশুরের ঘরের সামনে পাকা রাস্তার অপরপাশে চায়ের দোকান আছে। দোকানের লোকজন বলাবলি করছিল, রাতে শ্বশুর আমারে বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন। বাড়ির গেটে তালা দেওয়া দেখে দোকানের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে পারেনি। শ্বশুরের কপালের ওপরে কাটা ক্ষত ছিল। রাতেই এসে বলেছি, আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে যে সুস্থ ব্যক্তি ফোনে কথা বলেছে, দুই-তিন ঘণ্টার ব্যবধানে কোনো কারণ ছাড়া তার মৃত্যু হতে পারে না। মরদেহের ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে আমরা খুনির উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

স্থানীয় মদনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন, ‘আরিফুরের এক ছেলের স্ত্রী বাড়িতে থাকত। সে শ্বশুরের দেখাশোনা করত। শাশুড়ির ওপর রাগ করে সোমবার দুপুরে সে বাবার বাড়িতে চলে গেছে। আরিফুর তখন ছেলের বউকে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করে। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে আরিফুরকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে স্ত্রী শেফালি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিকেলে এ ঘটনা ঘটার তিন থেকে চার ঘণ্টা পর শেফালি বেগম নিহতের এক চাচাতো ভাইকে বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনা এলাকায় জানাজানি হয়। আরিফুর পঙ্গু হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত তার স্ত্রী। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় খরাপ কথা ছড়ায়। তখন থেকে তাদের পরিবারে দ্বন্দ্ব লেগে ছিল।’

মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে কি না তা বলা যাচ্ছে না। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

জুলাইযোদ্ধাদের ‘মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
জুলাইযোদ্ধাদের ‘মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া জুলাইযোদ্ধাদের ‘মারতে’ ১-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে নড়াইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে দলটির জেলা কমিটির সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখালেখি, বিভিন্ন ভুয়া ভিডিও পোস্ট এবং আমাকেসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকা, ৫ লাখ টাকাসহ ইত্যাদি পরিমাণে অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করছেন। যা আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

অভিযুক্তরা হলেন- মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮),  সৌরভ কর্মকার (২৬), ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), ইমন শিকদার (২৪), মিলন জমাদ্দার (২৯), মো. ইস্রাফিল (২৫), মো. সজীব চৌধুরী (২৬), এস কে আসলাম (২৫), মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও  মো. জুবায়ের শেখ (২০)।

নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এমনকি যিনি এই অভিযোগ করেছেন, তাকেও আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার সঙ্গে আমার কখনো কোনো কথা হয়নি। তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে কি না, সেটিও আমার জানা নেই। তাই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কী ভিত্তিতে আনা হয়েছে, সেটি আমার বোধগম্য নয়।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

টাঙ্গাইলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ আসামির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ আসামির যাবজ্জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলে এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একজনকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ এই আদেশ দেন। 

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। তাদের দুজনকেই এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি আব্দুর রহিমকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আব্দুর রহিম জামালপুর জেলার সদর উপজেলার কটার বাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁশসুলি (পিপি) ওমরাও খান দীপু জানান, জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ গ্রামের এক নারীকে দণ্ডিতরা বিগত ২০২৩ সালের ২২ জুন টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা এলাকার ইয়াদ আলীর চালা নামক স্থানে বনের ভেতর একটি মেশিনের টংঘরে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী বাদী হয়ে ঘটনার চার দিন পর ২৬ জুন মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

মধুপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার আদালতে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত বিগত ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারী কৌঁশসুলি (পিপি) ওমরাও খান দীপু। আসামিপক্ষে ছিলেন শাহান শাহ সিদ্দিকী।

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দায়ে যুবককে কারাদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দায়ে যুবককে কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দায়ে নুর মোহাম্মদ বিজয় (২৫) নামে এক যুবককে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদ বিজয় চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং সুরুজ্জামান সবুজের ছেলে। রায় কার্যকরের জন্য তাকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে নুর মোহাম্মদ বিজয়কে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।