• ই-পেপার

যেসব জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড় হতে পারে

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না : চিফ হুইপ

অনলাইন ডেস্ক
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না : চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না।’

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে ব্রিফিংয়ে হুইপ এ কথা জানান তিনি। 

চিফ হুইপ বলেন, আসছে বাজেট দরিদ্র মানুষের সুরক্ষায় কাজ করবে। বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে সরকার।’ 

চিফ হুইপ বলেন, ‘সেইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন, ২৫ কোটি গাছ লাগিয়ে বনায়ন করা হবে।’

বাজেট

বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এ খাতে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়নি। 

এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার পরিমাণ ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। 

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বা মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত পে কমিশন যে বেতন কাঠামো সুপারিশ করেছিল, তা হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে না। ওই কমিশনের সুপারিশ করা রিপোর্ট পরযালোচনা করতে সরকার সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখন সুপারিশ জমা দেয়নি। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সচিব কমিটি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো রিভাইজ করে বেতন বৃদ্ধির হার কমিয়ে সুপারিশ করতে পারেন। তবে সরকার জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে চাইলে বাজেটে অর্থের কোনো সংকট হবে না। বিভিন্ন খাতে থাকা থোক বরাদ্দ এবং অপ্রত্যাশিতখাতে থাকা বরাদ্দের অর্থ থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য বিভিন্ন খাতে থোক বরাদ্দ হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাজেট

দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি, ভরসা ঋণ

অনলাইন ডেস্ক
দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি, ভরসা ঋণ

বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবারও সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

ঘাটতি অর্থায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকার ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে আসন্ন অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে আরো ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে।

এবার বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সরকার এরই মধ্যে নিট এক লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, যা ১০ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। এই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক উভয় উৎস থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারের প্রধান আয়ের উৎস রাজস্ব খাত হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থরতা ও আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।

তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সরকার এভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে থাকলে তাঁদের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ঋণের সুদের হারেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে এখন ৪.৭ শতাংশে নেমেছে, যা চরম বিনিয়োগ মন্দার প্রমাণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০.৬০ শতাংশ। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণও দ্রুত বাড়ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত বড় বাজেট করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কমে যাবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বদলে সংকোচন ঘটাতে পারে।’

পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর  উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’
 
বুধবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলা যথাক্রমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ড সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক রিফারেল সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচি অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।’

কর্মসূচিগুলো হলো, নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

কৃষক কার্ড-এর প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার-প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক-৬৬৬টি খাল খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান। খনন/পুনঃখননকৃত খালের মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫.০৪ কিলোমিটার।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের অংশ হিসেবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে।

আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ হতে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটি’র ভিত্তিতে এ ঋণ প্রদান সহজীকরণ করা হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

১২-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‌‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোপর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল তারকা চিহ্নিত ৫টি প্রশ্ন। এরমধ্যে ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারকা চিহ্নিত তিনটি প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।