জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচের মান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
ট্যোবাকো অ্যান্ড ট্যোবাকো প্রোডাক্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংস্থাটি এটি করছে। যেখানে সরকারের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এবং তামাকবিরোধী সংস্থাগুলোর কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
অথচ এ কমিটিতে তামাক কম্পানি যুক্ত রয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) আর্টিক্যাল ৫ দশমিক ৩ লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য নিকোটিন পাউচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তামাক কম্পানি নিকোটিন পাউচকে ‘তুলনামূলক কম ক্ষতিকর’ বলে দাবি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, নিকোটিন পাউচে তামাকপাতা না থাকলেও এতে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা তীব্র আসক্তি সৃষ্টি করে। শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করাসহ হৃদ্রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় গ্রাহক হয়ে উঠছে কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়াসহ কমপক্ষে ১৬টি দেশ তাদের জনস্বাস্থ্য ও তরুণদের মাঝে আসক্তি রোধে নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। এখন পণ্যটি বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিকোটিন পাউচের জাতীয় মান প্রণয়নের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সরাসরি পরিপন্থী বলে মনে করে প্রজ্ঞা-আত্মা।




