• ই-পেপার

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের পরিবহন ও রসদ পরিষেবা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের সিইওসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাঁর সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জানায়, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি বে (Bay) টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় তাদের বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী।

এ ছাড়া রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগে আগ্রহী বলে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও উদ্যোগ সম্পর্কে সৌদি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

প্রতিনিধি দল জানায়, তারা বাংলাদেশে বন্দর, রেলওয়েসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে।

বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশের জন্য সৌদি প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন, সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রাবউল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন সৌদি আরবের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী প্রকৌশলী আম্মার আল-তাফ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিইও আমের রেদা (Amer Reda), রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সিইও লার্স ভ্যাং (Lars Vang), বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ বিন আবিয়া এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশন সমাপনী-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

গত ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।

গত ৭ জুন শুরু হওয়া অধিবেশন ২৬ কার্যদিবস চলার পর আজ ১৫ জুলাই শেষ হয়। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ-সদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে।

কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১(ক) বিধি অনুযায়ী ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশ আলোচিত হয়েছে। ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও নিষ্পত্তি হয়েছে।

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত?

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত?
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে নতুন নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান পদ্ধতিতে সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার নিয়ম বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নবম পে স্কেলের খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্ভাব্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ। পঞ্চম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট ধরা হয়েছে ৪ শতাংশ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বিতীয় গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার প্রস্তাব করা হয়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট নির্ধারিত থাকছে।

বর্তমান পে স্কেলে সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এ ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশ ছিল ২ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ ভাগ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কারণে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তী বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা সরাসরি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই নতুন পে স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে পরিশোধ করা হবে। আর সব ধরনের ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে চালু থাকা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, মূল বেতন এক লাফে দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বিশেষ ভাতা বহাল রাখার যৌক্তিকতা থাকবে না।

শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ
সংগৃহীত ছবি

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগেই আমরা উল্লেখ করেছি, আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেটিরই অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সরকার কোনোর ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না।’

আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনের বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় কিভাবে প্রতিবছর এই দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক, সেটি হাত বেঁধেই হোক, টুঁটি চেপেই হোক, যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের অন্যতম চাওয়া হচ্ছে একটি নিরাপদ পরিবেশ। একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী—যে-ই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি এবং সম্মান করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের জীবন এবং সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক আর নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।’

আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার | কালের কণ্ঠ