• ই-পেপার

চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি

৫ জেলায় আবারও বন্যার পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
৫ জেলায় আবারও বন্যার পূর্বাভাস
সংগৃহীত ছবি

উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কু‌ড়িগ্রা‌মসহ রংপুরের পাঁচ জেলায় নিম্নাঞ্চলে ফের স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে দেওয়া এক পূর্বাভাস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে জেলা প্রশাসন।

আবহাওয়া সংস্থার তথ্যের বরাতে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, এ সময় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা সংলগ্ন এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রামের তালুক শিমুলবাড়ী এবং সেতু পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাউবো, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে, সেগু‌লো মেরামতে আমা‌দের কাজ চলমান রয়েছে।’

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ শনিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

১০ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগে অবিলম্বে ফোকাল পারসন মনোনয়ন দিতে হবে। তারা স্থানীয় কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন। দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বিবেচনায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করতে হবে।

স্থানীয়ভাবে সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রসূতিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বন্যা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিয়মিত গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে। ১২ জুলাই এ বিষয়ে একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে বন্যাকবলিত এলাকার সব হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলো জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে আনন্দঘন কিছু সময় কাটিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যালের কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনার সময় ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই থাকতেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোয়া করি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হোন।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

এ সময় স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যখন জুবাইদা রহমানকে মেডিক্যালে নিয়ে আসতাম, তখন তাকে সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে আসতাম। আজও আসার সময় তাকে বলেছি সামনের সিটে বসতে। পাশে বসিয়েই আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।’

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই ক্যাম্পাসে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময় কেটেছে। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।’

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় সামনের দিকে তাকাতে হবে। জীবনের টানাপড়েনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ পুষে রাখলে চলবে না। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে সারা বিশ্ব এখানকার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারে। একদিন যেন এই মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’

সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

জন্মের পর প্রত্যেকের একটি করে গাছ লাগানো উচিত : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাসস
জন্মের পর প্রত্যেকের একটি করে গাছ লাগানো উচিত : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘গাছ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জন্মের পর প্রত্যেক মানুষের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত।’

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সড়কের পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বাড়ির আঙিনায় বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুরো দেশকে যেন ডাস্টবিনে পরিণত না করি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।’

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত। গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ছোটবেলা থেকেই।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। শহর প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে তিনি অতিথিদের সঙ্গে বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির জানান, ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।