মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্লাস্টিকশিল্পে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের এই উদীয়মান শিল্প খাত এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যে চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর দাবির প্রেক্ষিতে কিছু শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ায় এ খাতের শিল্পে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
আজ সোমবার সকাল ১২টায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের কাযার্লয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি সামিম আহমেদ।
এ সময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে এলাকাভেদে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই স্থবিরতা আরো প্রকট, দৈনিক ১ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই অনিশ্চয়তার কারণে প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিকের মূল উপাদানসমূহের দাম বেড়েছে। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমোজ প্রণালী বন্ধের ফলে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলতে কিছু কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয় এ সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটে পিভিসি রেজিন, জিপিএস রেজিন, পিইটি রেজিন এর ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। ফার্মাসিউটিক্যালস মেডিসিন প্যাকেজিং মেটেরিয়ালস অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে এবং ওয়েস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানি প্রণোদনা হতে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, নতুন বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হিসেবে আমরা দেখছি। প্লাস্টিক কাঁচামালের মূল সোর্স হলো মিডল ইস্ট যেমন ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরান। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তৈরি পণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পিভিসি, পিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যে প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগের দাম আগে ছিল ৩২০০ টাকা, তা বর্তমানে ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেজিংয়ের খরচ ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় ঠেকেছে।
তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিক খাতের সংযোজনের জন্য মোট ২৪টি আইটেমের ওপর ডিউটি বা শুল্ক ছাড়ের দাবি করা হয়েছিল। সরকার মাত্র ১২টি আইটেমে এই সুবিধা দিয়েছে। পলিসি মেকারদেরকে এটা বুঝতে হবে, প্লাস্টিক সেক্টর শুধু নিজের জন্য ব্যবসা করে না, সে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির জন্যও ব্যবসা করে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিকে প্রমোট করে, সাপ্লাই দেয়—প্যাকেজিং, কম্পোনেন্ট।




