কিছু কিছু কথা বা উক্তি ইতিহাস হয়ে থাকে। কারণ সেগুলো কোনো এক বিশেষ ঘটনার বর্ণনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আবার কিছু উক্তি বা কথা চিরন্তন হয়, কারণ সেগুলো একটি মানসিকতার পরিচয় বহন করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ফরমান আলীর উক্তি-‘ইপি’র (পূর্ব পাকিস্তান) জমিনের সবুজ লাল রঙে রাঙাতে হবে’-দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত। ইতিহাসবিদেরা শেষ পর্যন্ত এ বাক্যের সঠিক প্রকৃত অর্থ বা প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করতে পারেন কি না পারেন অথবা তা যতই বিতর্কের বিষয় হোক না কেন, কথাটি কিন্তু ইতিহাসে আলোচিত। কারণ এটি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
১৯৭১ সালে বাংলার সবুজ প্রান্তর সত্যিই রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তবে তা কোনো ভাষণ বা কথার রূপে নয়, বরং তা ঘটেছিল সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরার মধ্য দিয়ে, যারা একটি বর্বর সামরিক অভিযানের শিকার হয়েছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, কৃষক, রাজনৈতিক কর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ পরিবার একটি সংঘাতে আটকা পড়েছিল, যার শুরু হয়েছিল জনগণের গণতান্ত্রিক রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে এবং ইতি ঘটেছিল নতুন এক রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস কেবল জাতীয়তাবাদের ইতিহাস নয়, এটি গণতন্ত্রেরও ইতিহাস।
আরো পড়ুন
দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির
১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ জনসমর্থন দিয়েছিল। যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ফলাফলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী জনগণের সেই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হয়। এরপর যা ঘটে তা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকারময় অধ্যায়ের একটি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাদের প্রথম দিকের অন্যতম নিশানা। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক-অনেকেই সেই অভিযানে নিহত হন। সারা দেশে একের পর এক গ্রামে হামলা চালানো হয়, জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। আর এই সহিংসতার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তবে তারা একা এসব বর্বরতা চালায়নি।
এজন্য তারা তাদের স্থানীয় সহযোগী এবং সহায়ক বাহিনীর ওপর নির্ভর করেছিল, যার মধ্যে রাজাকার, আলবদর এবং আল-শামস বাহিনী ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণা ও বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু ব্যক্তি এসব বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং অবিভক্ত পাকিস্তান অক্ষুণœ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং এসব সহযোগী গোষ্ঠীর পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
আরো পড়ুন
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৪ জুলাই)
এ সহায়ক বাহিনীগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে স্থানীয় তথ্য প্রদান ও নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করত। স্বাধীনতায় সমর্থন দিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তি-যাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও ছিল- চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করত। বিশেষ করে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও হত্যাকান্ডে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেসব শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং চিন্তাবিদকে হারানো কেবল যুদ্ধকালীন একটি ট্র্যাজেডি ছিল না; এটি ছিল পৃথিবীর মানচিত্রে ভূমিষ্ঠ হতে যাওয়া নতুন একটি রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি হীন প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশের জন্য এ ইতিহাস কোনো বিমূর্ত রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। এটি এমন এক জাতির সম্মিলিত স্মৃতির অংশ, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকল্পনীয় মূল্য দিয়েছে।
তবে ১৯৭১ সালের শিক্ষা শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল কারণ এ দেশের মানুষ কর্তৃত্ববাদী শাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে কারণ একটি জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা, জাতিসত্তা, রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদানের দাবি করেছিল। ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুধু বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল সেই মৌলিক নীতির জন্যও একটি সংগ্রাম, যার ভিত্তিতে একটি সরকারের বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে। সেই নীতি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিযাত্রার সবচেয়ে বড় পরিহাস সম্ভবত এটাই যে, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া একটি দেশকেই বারবার গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্নে নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আরো পড়ুন
মালয়েশিয়ায় ২৯০ বাংলাদেশিসহ পাঁচ শতাধিক বিদেশি আটক
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার পড়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত করা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার মতো অভিযোগের মুখে। স্বাধীনতা আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ভূমিকা দেশের জাতীয় ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার অর্থ এই নয় যে, কোনো দল বা সরকার চিরদিনের জন্য সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে যাবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচকদের এই অভিমত যে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে দলটি ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে সরে এসেছে।
বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হওয়া, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের একটি অংশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক ভারসাম্য ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়া এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে তাদের শাসনামলে। এসব নিয়ে সমালোচনা ১৯৭১-এর বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এর ভিত্তিতে রয়েছে এই বিশ্বাস যে, ১৯৭১ সালের যে মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্ম, তা প্রত্যেক সরকারের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি। বরং এটি প্রতিষ্ঠা করেছে জনগণের সেই অধিকার, যার মাধ্যমে তারা প্রত্যেক সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে।
আরো পড়ুন
ঢাকাসহ ১৯ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ
এ কারণেই ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো আদতেই বেশ গভীর ও সতর্ক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মতোই জুলাই ২০২৪-ও নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এর কারণ ব্যাখ্যা করার, এতে নিজেদের অবদান সামনে আনার এবং এর লক্ষ্য ও আকাক্সক্ষার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। রাজনীতিতে এমন প্রতিযোগিতা অস্বাভাবিক নয়। তবে ইতিহাস আমাদের আরেকটি সতর্কবার্তাও দেয় যে, কোনো জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের ওপর এককভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
একটি গণ অভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থাৎ সেসব ছাত্রছাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যারা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করে আন্দোলনে অংশ নেয়। এ ধরনের আন্দোলনের তাৎপর্য কেবল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। জুলাই ২০২৪-এর প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারার মতো ব্যাপারের ওপর নির্ভর করবে না। বরং তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে কি না, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে কি না, নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে কি না এবং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে কি না, যেখানে মতভিন্নতাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নয়, বরং গণতন্ত্রেরই স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হবে।
আরো পড়ুন
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৪ জুলাই, ২০২৬
বিতর্কিত ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে এমন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঘিরে আলোচনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ইতিহাসকে উপেক্ষা করতে পারে না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল যারা, তাদের ভূমিকা সততার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, গণতন্ত্র কেবল ইতিহাসের বিচারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। এর ভিত্তি হতে হবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর আইন এবং সচেতন নাগরিকের অবাধ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধকে রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় রাজনৈতিক বর্জন নয়; বরং এমন একটি আত্মবিশ্বাসী গণতন্ত্র গড়ে তোলা, যেখানে বিভিন্ন মত ও ধারণাকে খোলামেলাভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নানা ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে। যে জাতির জন্ম হয়েছিল কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে, সেই জাতিকেই বিভিন্ন সময় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। যে আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিল, সেই আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী শক্তিকেই কখনো কখনো একই অধিকার সীমিত করার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশাল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়া একটি রাষ্ট্রেও আজ এ বিতর্ক ব্যাপকভাবে চলমান যে কীভাবে তার স্বাধীনতার চেতনাকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
সম্ভবত এটিই একটি জাতি গঠনের অনিবার্য চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা ইতিহাসের শেষ অধ্যায় নয়। প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, তারা কি সেই নীতিগুলো রক্ষা করবে যেগুলোর ভিত্তিতে রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল।
আরো পড়ুন
বন্দি মানুষ বিপর্যস্ত জনজীবন
পাকিস্তানি জেনারেল ফরমান আলীর নামে প্রচলিত-‘ইপির সবুজকে লালে রাঙাতে হবে’-এ উক্তির উৎস বা প্রেক্ষাপট নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা হয়তো ভবিষ্যতেও চলবে। কিন্তু ১৯৭১ সালের যে বৃহত্তর শিক্ষা, তা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। সেই ট্র্যাজেডির সূচনা হয়েছিল তখন, যখন একটি সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং সংলাপের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছিল। বাংলাদেশের আর কখনো সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উত্তরাধিকার মানে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অন্য দলের ওপর বিজয় নয়। এটি নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিজয়ের ইতিহাস।
এটি সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন যে, সরকার জনগণকে নীরব করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের সেবা করার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার জমিনের সবুজ এ দেশের প্রতিটি মানুষের। সেই সবুজের রক্ষায় শুধু অতীত স্মরণ করলেই চলবে না; প্রতিদিন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানও নিতে হবে। কারণ ১৯৭১ সালে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তাঁরা যে আদর্শের জন্য লড়েছিলেন, সেই আদর্শ যেন আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হয়ে থাকে-তা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।