‘আমরা যেন দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেলাম। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে চারপাশে যখন জাহাজ ডুবছিল, মাথার ওপর দিয়ে উড়ছিল ক্ষেপণাস্ত্র, তখনো আমরা দেশবাসীর দোয়া আর মানসিক শক্তিতে টিকে ছিলাম।’
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ তিন মাস ২৫ দিনের টানা অবরুদ্ধ দশা আর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানোর স্মৃতিচারণা করে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই জাহাজের নাবিকরা অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে উড়োজাহাজে রওনা হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন তাঁরা। বিমানবন্দরে নাবিকদের স্বাগত জানান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে টার্মিনালের বাইরে স্বজনদের মাঝে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অবরুদ্ধ সময়ের নানা লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম এবং তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, যুদ্ধের সময়ে পারস্য উপসাগরে জাহাজের ওপর দিয়ে যখন একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছিল এবং আশপাশের অনেক জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ হোটেলে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় উপসাগর এলাকায় আটকা পড়ে।





