• ই-পেপার

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বন্ধ লঞ্চ ও স্পিডবোট

দেশের ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
দেশের ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্কতা

দেশের ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় সোমবার সন্ধ্যার পরও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে টানা ও ভারি বর্ষণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাঙামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন ও মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন

চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী
ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করে দিয়েছি। চলতি অর্থবছরে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ৭০০০ পরিবারের নারী সদস্যরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যরা প্রত্যেকেই ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পাশে যতক্ষণ জনগণ থাকবে ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধা না মেনে দেশের স্বার্থে কাজ করবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তাকে অনুসরণ করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌঁছায়। সেখানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

টিকিটের নামে প্রতারণা, ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

অনলাইন ডেস্ক
টিকিটের নামে প্রতারণা, ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

কয়েক শ গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে বিমান টিকিটের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় সাতজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন— ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গনি মেহেদী, হেড অব ফিন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা প্রদান করতে থাকে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথ মূলধনী কম্পানি হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ করলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইট এক্সপার্ট ও FEBD উভয় নামেই ব্যাবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করত।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (Business to Business) এবং বি-টু-সি (Business to Consumer) উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দেশ ত্যাগ করেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, FEBD-এর নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফিন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ (IATA) অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪,৬৯,৩১,০৯০ টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে তা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। 

মামলাটির তদন্ত সিআইডি কর্তৃক পরিচালিত হবে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। অনেকগুলো কর্মসূচির মধ্যে আমরা সারা দেশে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু রাখতে চাই। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এখানে দুই হাজার ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ চারা রোপণের পর দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তার পরপর বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। শিশুটাকে যত্নসহকারে গড়ে তুলে মানুষ করা হচ্ছে আসল কাজ। তাই আজকে যে গাছের চারা রোপণ করা হবে সেটি নির্দিষ্ট সাইজে বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে।’

পূর্ব নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌঁছায়। সেখানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

বরিশালের প্রবেশপথ গৌরনদীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।

তবে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধ থাকায় তার ছবি সংবলিত কোনো স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। ছিল না কোনো ব্যানার-ফেস্টুন। গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুপুরে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমিসংলগ্ন সাগরদী খালের পাড়ে আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ ছাড়াও বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলের সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বন্ধ লঞ্চ ও স্পিডবোট | কালের কণ্ঠ