• ই-পেপার

বরিশাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নেত্রকোনা

উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে
ফাইল ছবি

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালী নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে পানি আরো বৃদ্ধি পেলে নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া জেলার প্রধান সবকটি নদ-নদীর পানিই ধীরে ধীরে বাড়ছে।’

পাউবোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আটপাড়া পয়েন্টে মগড়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্বধলার জারিয়া পয়েন্টে কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৫১ মিটার, খালিয়াজুড়ির ধনু নদীর পানি ১.৩৩ মিটার এবং দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে ৩.৭২ মিটার এবং সোমেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩.১৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, উপদাখালী নদীর পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত কলমাকান্দায় বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল কিংবা কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এতে জনদুর্ভোগও তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমার্জেন্সি কল সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’

নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মৃত সজীব মিয়া (৩৫) শহরের মালনী আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, গ্যাসজনিত সমস্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে সন্ধ্যায় সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা যথাযথ চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে উত্তেজিত কয়েকজন হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ নিয়ে সজীব হাসপাতালে এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

নান্দাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোস্তফাকে (৩৫) রবিবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ১১টায় আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে নান্দাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমেদাবাদ মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই এলাকার আব্দুর রাশিদের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে বাড়ির পাশের বিলে নৌকায় ওঠানোর লোভ দেখিয়ে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন মোস্তফা।

ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, তিনি তার মেয়েকে ঘরে রেখে কিছু সময়ের জন্য পাশের বাড়িতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফিরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে আহত অবস্থায় বাড়ির দিকে আসতে দেখেন। জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পাশের বাড়ির মোস্তফার কথা উল্লেখ করে। পরে তাকে ঘরে নিয়ে তিনি দেখতে পান তার শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে কাউকে কিছু না জানালেও সন্ধ্যার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আকরামুল্লাহ জানান, শিশুটি যৌন নির্যাতনের (সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট) শিকার হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

নান্দাইল থানার এসআই সম্রাজ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্ত মোস্তফাকে রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে একনজর দেখতে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভাঙ্গার বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। 

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সকাল ৭টায় ৪৫ মিনিটে ভাঙ্গা অতিক্রম করার সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সৌজন্য কথা বলে আবার রওনা দেন বরিশালের উদ্দেশে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মুদারেস আলী ইসা স্বাগত জানাতে আসা নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, ‘অনুষ্ঠান সফল হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীকে ভাঙ্গায় স্বাগত জানাতে পেরে খুশি হয়েছি। আমরা আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা ফরিদপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।