• ই-পেপার

গুরুত্বপূর্ণ ৫ পরীক্ষা না-ও হতে পারে; এসএসসি, এইচএসসির সম্ভাবনাও কম

  • বিকল্প হতে পারে অ্যাসাইনমেন্ট

আগামী সপ্তাহে ৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী সপ্তাহে ৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড়ধসে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আগামী সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ শুক্রবার দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে (১৯-২৩ জুলাই) উজানের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

বন্যার পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হবে। এ কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। এ কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বৃষ্টির পূর্বাভাস

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ জুলাই সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখ মানুষ

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা, ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ সাতটি জেলার ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌর এলাকায় দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। এসব এলাকায় ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

মৃত্যু ও নিখোঁজ

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড়ধসে ও ঢলের পানিতে ভেসে ৩২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৫ জন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে সাতজন এবং রাঙামাটিতে তিনজন নিহত হন। মৌলভীবাজারে ঢলের পানিতে ভেসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, এগুলোয় আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপদ্রুত সাতটি জেলায় চাল, নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আইওএম প্রধানের সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
আইওএম প্রধানের সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর চিফ অব মিশন লরা টম বন্ডের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। 

সাক্ষাতে বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করা, নিরাপদ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

এদিন মাহ্‌দী আমিন বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ও নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জনশক্তি গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। 

একই সঙ্গে তিনি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে নারী শ্রমিকের বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। এ সময় নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছভাবে ও কম খরচে অভিবাসন প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা যায় এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য সহজতর অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আইওএম প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তাদের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য অত্যাধুনিক সেবা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেয় সংস্থাটি।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্বে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের আসন্ন উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টি নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টি নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে টানা পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এই সময়ে দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। 

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ জুলাই সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পরদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। 

আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। 

মাদকে বিপন্ন ৪৯ ধনীর মেয়ে

৫ লাখের বেশি নারী মাদকে সম্পৃক্ত বেশির ভাগ নারী ইয়াবা-হেরোইনে আসক্ত মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করছে শীর্ষ কারবারিরা সুস্থ হতে পুনর্বাসনকেন্দ্রে গিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন

রেজোয়ান বিশ্বাস
মাদকে বিপন্ন ৪৯ ধনীর মেয়ে
প্রতীকী ছবি

রুমি (ছদ্মনাম) দেশের স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। মাদক সেবনের কারণে উচ্চশিক্ষিত এই মেধাবী নারী এখন পরিবার, স্বামী, সংসার—এমনকি আদরের সন্তান থেকেও বিচ্ছিন্ন। শুরুতে ধূমপান করতেন, ধীরে ধীরে ইয়াবা, পরবর্তী সময়ে হেরোইনে আসক্ত হয়ে পড়েন। এখন তার জীবন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। টাকার জন্য গেছেন বিপথে।

তার মতো অন্তত ৪৯ নারীর সঙ্গে কথা বলে অনেকটা একই চিত্র পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকসেবী এসব নারীর বেশির ভাগ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিও রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন এসব নারীর ভাষ্য, শুরুতে মাদকের ক্রেতা ছিলেন তারা। এরপর ধীরে ধীরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই মূলত তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তাদের অনেকে বিপথে।

চিকিৎসাধীন এক নারীর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার বিয়ে হয়। স্বামীর মাধ্যমে তিনি মাদকের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়েন। সন্তান জন্মের পর তার আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ধরা পড়ে পরিবারে। তিনি প্রায়ই অতিউত্তেজিত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন। এসব কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে গুরুতর অবনতি এবং বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

পরে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও সমস্যা থেকেই যায়। এ সময় তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিলেও মাদকের কারণে তা হারান এবং একই সঙ্গে সংসারও ভেঙে যায়। দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তিতে তার স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি ঘটে। এখন তিনি আহছানিয়া মিশনের ওই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

আহছানিয়া মিশনের গবেষণা

ঢাকা আহছানিয়া মিশন পরিচালিত গবেষণা বলছে, নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নারী মাদকসেবীদের বড় একটি অংশ ইয়াবা সেবন করেন।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) ৬২ জন ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ জন দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত। ছয়জন মাদকের কারণে চরমভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত। তাদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৪ জন, ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২১ জন, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১৫ জন ও ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী দুজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা জেলায় ৪৮ জন।

ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্ত কেন্দ্রের ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ’ বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘এখন উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েরা বেশি মাদকে আসক্ত হচ্ছেন। বাবা-মা সন্তানদের যথাযথ সময় না দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অবহেলার কারণে অল্প বয়সে তারা মাদকে আসক্ত হচ্ছেন।’

মাদকের কারণে অপরাধেও জড়াচ্ছেন নারীরা

নারীরা মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারেও জড়িয়ে পড়ছেন। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘আগের চেয়ে দেশে নারী মাদকাসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে।’

সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ) মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ৮২ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে।’ মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে মানস বলছে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা রয়েছে প্রায় সোয়া কোটি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি নারী মাদকে সম্পৃক্ত। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের মধ্যে মাদক বিক্রেতা, ক্রেতা ও মাদকসেবী রয়েছেন। এসব নারীর মধ্যে অনেক তরুণী ও শিশুও রয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।’

পুলিশ সদর দপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশে নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও মাদক কারবারে জড়িত থাকা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদক গডফাদাররা এসব নারীকে ব্যবহার করে সারা দেশে মাদক কারবারে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন।

জীবনসঙ্গীর কারণে বেশির ভাগ নারী মাদকে জড়িয়েছেন জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, দেশে ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী এক লাখ ৫০ হাজার মাদক কারবারির মধ্যে ২৭ হাজার ৩০০ জন নারী মাদক কারবারি, যা মোট মাদক কারবারির ১৭ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত তিন হাজার ২০০-এর বেশি মাদক কারবারি নিয়ে মানসের অনুসন্ধান বলছে, প্রতি ১০ জন নারীর ৩ জনই নেশাগ্রস্ত। মাদকাসক্ত নারীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই ইয়াবাসেবী।

সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পকেন্দ্রিক অন্তত ৪৫ জন নারী ভাসমান মাদক কারবারে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী মাদক বিক্রেতা কালের কণ্ঠকে জানান, মাদক বিক্রি করে তিনি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পান। ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারিরা তাকে এ পথে এনেছে।

রাজধানীর প্রতিটি থানা-এলাকাসহ সারা দেশে ভাসমান মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী। সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সমাজে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।

গুরুত্বপূর্ণ ৫ পরীক্ষা না-ও হতে পারে; এসএসসি, এইচএসসির সম্ভাবনাও কম | কালের কণ্ঠ