• ই-পেপার

জাতিসংঘ ইতিবাচক

এবার ভাসানচর নিয়ে অপপ্রচারে আলজাজিরা

ব্যবসা সহজীকরণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

বাসস
ব্যবসা সহজীকরণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবায় ডিজিটালাইজেশন জোরদার এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে একটি সীমিত গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি একটি ‘পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি’ বা পেট্রোনাইজড ইকোনমিতে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এসব বিধিনিষেধ অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য হলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো সেগুলোর বাইরে থেকে যায়। এতে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরো বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য কামার-কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র উৎপাদক প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাজ করে গেলেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। কারণ তারা কখনোই কার্যকর নীতি সহায়তা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা বাজার সুবিধার আওতায় আসতে পারেননি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোক্তাদের জন্য রাজধানীর কাছে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, সরকার এসব উদ্যোক্তাকে সহজ ঋণ, কাঁচামাল সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রদানের পরিকল্পনা করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা এক জায়গায় আবেদন করলেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিরেগুলেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।

দুপুরের মধ্যে ৪ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক
দুপুরের মধ্যে ৪ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ফাইল ছবি

দেশের চারটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ সতর্কতা জারি আবহাওয়া অফিস।

এতে বলা হয়, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেড়েই চলেছে ব্যয়

অনলাইন ডেস্ক
বেড়েই চলেছে ব্যয়

ইরান যুদ্ধের কারণে সরকার এরই মধ্যে দুবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সার্বিকভাবে এই দামবৃদ্ধির ফলে জনজীবনের ওপর পড়তে যাচ্ছে বড় চাপ।

বিদ্যুতের নতুন দাম বৃদ্ধি বিষয়টি বিশ্লেষণ কওে দেখা যায় যে, আবাসিকের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের বর্তমান ইউনিটপ্রতি বিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এতে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৩৫ টাকার মতো বৃদ্ধি পাবে। আর আবাসিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের বিল বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা। আনুপাতিকহারে বাড়বে ভ্যাটের পরিমাণও।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে নিঃসন্দেহে জনজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় গণশুনানিতে যখন আমরা অংশগ্রহণ করি তখন দাম না বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের অবস্থান শক্ত ছিল। ক্যাবের প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের যারা দাম না বাড়ানোর কথা বলেছিলাম সরকার কারও কথার মূল্যায়ন করেনি। এখন যে দাম বৃদ্ধি করা হলো তা ৫০ ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ ইউনিটের ওপর মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরেই এর প্রভাব পড়বে। বিদ্যুতের সঙ্গে পরিবহন ভাড়াও জড়িত। ঢাকায় প্রচুর ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলছে। এর প্রভাবে ভাড়াও বৃদ্ধি পাবে। আর ভাড়া বৃদ্ধি পেলে তা দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে জনজীবনের প্রতি জায়গায় প্রভাব ফেলবে। সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে কোনো কাজ করছে না। এ জায়গা থেকে ভর্তুকির কিছুটা দেওয়া যেতে পারে।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেজওয়ান সেলিম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। সমস্যা হচ্ছে যে অর্ডারগুলো এখন আমরা তৈরি করছি তা আরও তিন মাস আগের। সে সময় জ্বালানি খরচ এক রকম ছিল এখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ আরও বাড়বে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এবার বাড়ল বিদ্যুতের দাম : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়। তেলের পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন করে আবারও বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তারা বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ গ্রাহকদের বিষয়টি মোটেও চিন্তা করেনি। এমনকি সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী কারও মতামতেরই মূল্যায়ন করেনি। এতে পণ্য উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাবে, জনজীবনের ওপর পড়বে বড় চাপ।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ আর গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। আর পাইকারি মূল্য ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা। সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা/কি.ও.ঘ থেকে দশমিক ০৭৫১ টাকা/কি.ও.ঘ. বেড়ে হয়েছে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা/কি.ও.ঘ.। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকেই এই দাম কার্যকর হচ্ছে। তবে গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। রাজধানীর রমনায় বিইআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গতকাল দুপুরে এই ঘোষণা দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ওপর দামবৃদ্ধির কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।’

নতুন খুচরা মূল্যহার অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন বা শূন্য থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। আর আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৯টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, ৫ম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬ষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফপিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিকে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা, ধর্মীয়, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা শূন্য পাঁচ পয়সা করা হয়েছে। রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্রশিল্পের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা করা হয়েছে। নির্মাণশিল্পে ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা শূন্য ৯ পয়সা করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ভেহিকেল ও ব্যাটারিচার্জিং স্টেশনে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা করা হয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মূল্যস্ফীতি হবে, দাম বাড়বে জিনিসপত্রের

--- ড. ম. তামিম

অনলাইন ডেস্ক
মূল্যস্ফীতি হবে, দাম বাড়বে জিনিসপত্রের

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি হবে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে এবং পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়বে বলে জানিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যা কিছুই আছে সবকিছুর দাম বাড়বে। বিশেষ করে ইলেকটিক্যাল পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের দাম বৃদ্ধি পাবে। এর অর্থ সাবান, প্লাস্টিক পণ্যসহ তেল, চিনি, ডাল সব কিছুর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে প্রভাব পড়বে। আর পারিবারিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি বাড়িতেই বৈদ্যুতিক বিল বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, লাইফলাইনে এবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে সর্বোচ্চ ভর্তুকি লাইফলাইনেই যায়। লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের যে রেট তা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। বিদ্যুতে ভর্তুকির সিংহভাগ যায় লাইফলাইনে। সুতরাং লাইফলাইনে গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল না বাড়িয়ে ভর্তুকি কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

গণশুনানি শেষে এত দ্রুত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বাজেটের কারণেই হয়তো দ্রুত সময়ে এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাজেট যেহেতু চলে এসেছে এজন্য ভর্তুকি কমিয়ে বাজেট করতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের জন্য বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকার বিশাল পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়েছে। আর এই বিশাল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দিলে দেশের তো আর উন্নয়ন হবে না। তবে বেশির ভাগই বিদ্যুতে ভর্তুকির বিপক্ষে। ভর্তুকির পক্ষে একটিই যুক্তি তা হলো একে একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। এই ভর্তুকি দিয়ে কি লাভ হবে- তার হিসাব কোনো সরকারই করে না। এই যে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া হচ্ছে এর বেশির ভাগই যাচ্ছে বাসাবাড়িতে। যেহেতু গ্রিড বিদ্যুতের ৫৭ শতাংশ গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত হয় সুতরাং ভর্তুকির সিংহভাগ পাচ্ছে সাধারণ জনগণ। এই বিষয়টি অনেকটা সরকারি সাহায্যের মতো, যা সবাই পাচ্ছে। বিদ্যুতের দাম কম থাকার অর্থ হচ্ছে মাসিক খরচ কম থাকা। দাম বৃদ্ধির কারণে এখন মাসিক খরচ বেড়ে যাবে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে যে সহায়তা করছিল তা এখন থাকবে না। আর থাকলেও তা কমে যাবে। তবে ভর্তুকি সম্পূর্ণ উঠে যাবে না।

অধ্যাপক ড. ম. তামিম আরও বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বলা হচ্ছে ১২ টাকা। এই উৎপাদন খরচ কমানোর অনেক সুযোগ আছে। দেশে বিদ্যুতের সিস্টেম অপারেশনে দক্ষতার অভাব আছে। এখনো আমরা ৫ হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। মোট বিদ্যুতের ১১ শতাংশই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ। মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ১০-১২ শতাংশই ২৭-২৮ টাকায় ব্যবহার করছি। এতে করে বিদ্যুতের দামের ওপর বিরাট প্রভাব পড়ে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতেই হবে। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে অন্তত দিনের বেলা তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি। এই উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মাধ্যমে দিনের বেলার তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রতিস্থাপন করা প্রথম থেকেই জরুরি ছিল। এটা অনেক আগেই করা উচিত হলেও হয়নি। এখন সময় ও সুযোগ আছে।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, কলকারখানা থেকে শুরু করে সব জায়গায় সৌর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের উচিত এখন সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর যে কর আছে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা যাতে সারা দেশে ব্যাপকভাবে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হতে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভাসানচর নিয়ে অপপ্রচারে আলজাজিরা | কালের কণ্ঠ