টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১০ জেলার মানুষদের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ।
পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে ৩০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এসব কথা জানায়।
অক্সফাম জানায়, ১৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, বাঁধ, কৃষিজমি, পানির উৎস, শৌচাগার ও মৎস্য খামার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩ হাজার ৫০০টি পানির উৎস ও ১২ হাজার ৪০০টি শৌচাগার নষ্ট হওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, বন্যার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও আয়ের উৎস হারিয়েছে এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবিরে সীমিত নিরাপদ আশ্রয়, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল ও ভূমিধসের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
সংস্থাটি জানায়, চট্টগ্রামে জরুরি খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট বিতরণের পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পরিবারপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ খাদ্য, ঘর মেরামত, চিকিৎসা, যাতায়াত ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা যাবে।
কক্সবাজারে অক্সফাম ও এর অংশীদাররা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই আরো বেশি মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে দাতা সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অনিল পান্ত।




