• ই-পেপার

৫ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, রংপুরে এখনো শঙ্কা

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকাস্থ কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির বাবা।

দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণ করবে সরকার : গৃহায়ণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণ করবে সরকার : গৃহায়ণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ‘পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের তীব্র সংকট নিরসনে সারা দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জাকারিয়া তাহের বলেন, ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে দেশব্যাপী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তিনি জানান, রাজধানীর ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যানে একটি পার্ক নির্মাণ, রামপুরা, খিলগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা এবং খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি খেলার মাঠ উন্নয়ন, পাশাপাশি খিলগাঁওয়ে ঈদগাহ, পার্ক ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে দুটি এবং কক্সবাজারে দুটি পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার রমনা পার্ক আধুনিকায়নের কাজ শেষ করে তা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দায় আরো একটি পার্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সরকার সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বহুতল ভবন নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া নগর উন্নয়ন প্রকল্পে আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্বতন্ত্র পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) এবং পর্যাপ্ত সবুজায়নের ব্যবহারে সরকার উৎসাহিত করছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অক্সফামের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অক্সফামের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ
সংগৃহীত ছবি

টানা ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জেলার মানুষদের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ।

পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে ৩০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এসব কথা জানায়।

অক্সফাম জানায়, ১৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, বাঁধ, কৃষিজমি, পানির উৎস, শৌচাগার ও মৎস্য খামার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩ হাজার ৫০০টি পানির উৎস ও ১২ হাজার ৪০০টি শৌচাগার নষ্ট হওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, বন্যার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও আয়ের উৎস হারিয়েছে এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবিরে সীমিত নিরাপদ আশ্রয়, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল ও ভূমিধসের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

সংস্থাটি জানায়, চট্টগ্রামে জরুরি খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট বিতরণের পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পরিবারপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ খাদ্য, ঘর মেরামত, চিকিৎসা, যাতায়াত ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা যাবে।

কক্সবাজারে অক্সফাম ও এর অংশীদাররা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই আরো বেশি মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে দাতা সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অনিল পান্ত।

বাংলাদেশ-সৌদি সহযোগিতা জোরদারে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ-সৌদি সহযোগিতা জোরদারে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

বন্দর, পরিবহন ও লজিস্টিকস সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-সৌদি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, সামুদ্রিক পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, লজিস্টিকস খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ড. রুমাইহ বিন মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের নৌখাতের চলমান রূপান্তরমূলক উদ্যোগ, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি সৌদি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বন্দর, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ খাতে যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

সৌদি আরবের ভাইস মিনিস্টার ড. রুমাইহ বিন মোহাম্মদ আল-রুমাইহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পরিবহন ও নৌপরিবহন খাতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং সৌদি আরব এ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে আগ্রহী।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পরিবহন, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।