kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

অপসারণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো : তুরিন আফরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপসারণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো : তুরিন আফরোজ

শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচারণের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছে।

অপসারণের বিষয়ে তুরিন আফরোজ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, শুনেছি আমাকে অপসারণ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমি শুধুই এই টুকু বলবো, আমি ট্রাইব্যুনালে থাকাকালে শতভাগ দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জানা মতে বিশ্বাস ভঙ্গে মতো এমন কোনো কিছুই করিনি।

তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই অপসারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো। মোবাইল ফোনে এই প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি।

এদিকে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধিতার অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম। তিনি বলেছেন, শুধুই পেশাগত অসদাচরণ নয়, তিনি ফৌজদারি অপরাধও করেছেন। তার কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রবিরোধিতার সামিল। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুণালের বিচার কার্যক্রম রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করি।

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকালে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ওয়াহিদুল হকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গুলশানে একটি রেস্তোরায় ওয়াদিুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এই বৈঠক থেকে তুরিন আফরোজ তাকে পালিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় তদন্ত করে। এই অভিযোগ ওঠার পর তাকে ট্রাইব্যুনালের মামলা দেখভালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগটি তদন্তের জন্য তুরিন আফরোজ ও ওয়াহিদুল হকের কথোপকথনের সিডিসহ আইন মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠান চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর তদন্ত শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান। তদন্ত সম্পন্ন করে ওইবছরের ৩০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই তদন্তের ভিত্তিতে গত বছর ২৪ এপ্রিল ওয়াহিদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৭ মে এক আদেশে তুরিন আফরোজকে ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে রংপুর সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় ৫/৬শ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, বাড়িঘরে আগুন ও পেট্রোল দিয়ে নিহতদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করার মধ্যে দিয়ে তার বিচার শুরু হয়। আগামী ২৪ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা