• ই-পেপার

সংসদে রাশেদ খান মেনন

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আদালতের অবমাননা

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার

চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সব কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সব কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী : মাহদী আমিন

সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সকল বোর্ডের কেন্দ্রগুলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য উপযোগী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা তার ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান।

মাহ্দী আমিন বলেন, দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে।

তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।

এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আজ সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক হলেও, যেকোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যেকোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন। যদি বিরুপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য আলোচিত সেই ছবির মতো বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিশ্চিত করা হয়। কেবল একটি কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সারা দেশে ২৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উস্কানি প্রদান গণ-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় সজাগ রয়েছে।

তিনি জানান, গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আমরা ধারণ করি, সেখানে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। মতের পার্থক্যও থাকবে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। কারণ দেশটা আমাদের সবার। এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সবার। এই শিক্ষার্থীরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহযোগিতা করা ও প্রেরণা যোগানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব।

মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রবল দায়বদ্ধতা ও অবারিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বর্তমান সরকার ব্রত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিপুলসংখ্যক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট হয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য। কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে অনেক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এটি যেমন সত্য; দেশের বিরাট অংশের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি, এটিও সত্য।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, দেশের সকল পরীক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা। এই পরীক্ষা কেবল একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এমন পরিবেশ অটুট রাখা, যেন শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করবে, নিজেদের সাফল্যে নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ইনশাআল্লাহ।

ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের
সংগৃহীত ছবি

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে আবারও লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর বিরাজ করছে। এর ফলে আবারও বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। 
 
পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাংশে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
 
আবহাওয়াবিদ জানান, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
 
আগামীকাল বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
 
আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
 
আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
 
আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট প্রকাশ কবে?

অনলাইন ডেস্ক
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট প্রকাশ কবে?
সংগৃহীত ছবি

নতুন অর্থবছর শুরু হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন বৃদ্ধি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, ভাতা সংযোজন ও অবসর-সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। সব কিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে, যদিও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়াটি মূলত সরকারের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারিগরি রূপরেখা প্রণয়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের হাই-প্রোফাইল সচিব কমিটি বর্তমানে এই গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

পে স্কেলের গেজেট বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত হয়। প্রথমে বেতন কমিশন ও সচিব কমিটি সুপারিশ তৈরি করে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় এটি পর্যালোচনা করে। এরপরের ধাপে মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সবশেষে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাই শেষে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে নানা ধরনের জটিলতায় এর গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। যদিও সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই থেকেই এটি বাস্তবায়ন হবে। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামো—সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি কোনো নীতিগত বিলম্ব নয়; বরং প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সময় লাগছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া পে স্কেলের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছে না সরকার। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন অংশ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ কয়েকটি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, নবম পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে ওই তারিখ থেকেই বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাড়িভাড়া এবং একই অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া সচিব কমিটির আলোচনায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি এবং গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কম হারে বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে। এসব বিষয় কিভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও কাজ করছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি হচ্ছে : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি হচ্ছে : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে জাতীয় সংসদে। জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এবং দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ দূর করতে আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুতই এ কমিটি গঠন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘ অপেক্ষা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দাবি এবং দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও কাস্টমসের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই অর্জনের পেছনে প্রবাসী শ্রমিকদের নানা ত্যাগ ও দুর্ভোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৮১৩ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে। আর ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভিসাসংক্রান্ত বিষয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিমানবন্দরের সেবার বিষয়টি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণকারী নিবন্ধিত কর্মীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দাফন ও পরিবহন ব্যয় হিসেবে তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩১২টি পরিবারকে এ বাবদ ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে বিনা খরচে মরদেহ ও অসুস্থ প্রবাসীদের পরিবহনসেবা দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধিত প্রবাসীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে ৩ লাখ টাকা এবং গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূরক প্রশ্নে এমপি রুমিন ফারহানা বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো ও অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা রোধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট, ভিসা ও মেডিকেল সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এ ছাড়া এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আদালতের অবমাননা | কালের কণ্ঠ