স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয়ভাবে একটি শিক্ষিত, মেধাভিত্তিক ও শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার আপসহীন। নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে চালু হওয়া 'অটো পাস' বা ঢালাওভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো দাবি বা অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কিছু স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও এর পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে একটি মহল ইন্ধন দিচ্ছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থীও নন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নম্বর (ক্রেডিট) দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের যেসব ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে 'ডিসইনফরমেশন' বা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যা মামলার আসামিও রয়েছেন। ইউএই সরকারের অনুরোধের পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি পাঠানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সেখানেও আটক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রত্যর্পণ সম্ভব বলে জানান তিনি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের নথিপত্র গায়েব হওয়া, চিকিৎসায় বাধা এবং লাশ গুমের অভিযোগের কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহতের কথা উল্লেখ থাকলেও সরকারের ধারণা, এই সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষা ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এতে নথিভুক্ত শহীদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শহীদ ও আহত ব্যক্তির গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আহতদের 'ক', 'খ' ও 'গ'—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন।







