• ই-পেপার

আসছে নতুন মোবাইল অ্যাপ, জানানো যাবে সমস্যার কথা : আনিসুল হক

পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

বাসস
পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী প্রাকৃতিক এ বৈরী আবহাওয়া থেকে জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সকল জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় তরুণসমাজকে সমন্বিতভাবে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের এ উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি কঠিন এ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করার প্রতি জোর দেন।

গত ৪২ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ছাড়া, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়কে পানি জমে যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

রেল প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যাত্রীদের সংকটমুক্ত করতে চাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করতে চাই। তাহলে অতিবৃষ্টি হলেও রেললাইন আর পানির নিচে তলিয়ে যাবে না এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

তিনি জানান, এ প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে আছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। যেসব যাত্রী আগাম টিকিট কেটেছেন, তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

টানা ভারি বৃষ্টিতে ষোলশহর ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বুধবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

অনলাইন ডেস্ক
দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে এ তথ্য জানায়।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অফিস চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দ্য ডেল্টাগ্রামের জরিপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন দেশের তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ। নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম

জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতার মধ্যে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাজের ধরন তারা সমর্থন করেন। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।

ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এ জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর এই জনমত যাচাই করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এই হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও সমর্থনের হার প্রায় একই রকম থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে উঠে এসেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও রয়েছে।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটি পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন—সবই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বেসরকারি জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান পুরোপুরি জনমতের প্রকৃত পার্থক্য নাও হতে পারে। কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সেখানে পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি থাকে।

জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরাসরি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কিছুটা সতর্কভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন—এ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে এই জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভেদে এই ত্রুটির সীমা আরো বেশি হতে পারে।

আসছে নতুন মোবাইল অ্যাপ, জানানো যাবে সমস্যার কথা : আনিসুল হক | কালের কণ্ঠ