বাংলাদেশের বরেণ্য আলেম জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আরববিশ্বসহ বিশ্বের বরেণ্য আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা। আল্লামা শফীর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেন, পাকিস্তানের শরিয়াহ আদালতের সাবেক প্রধান বিচারক ও দারুল উলুম করাচির মহাপরিচালক আল্লামা তাকি উসমানি, মিসরের বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ফ্যাকাল্টির প্রধান আল্লামা ড. ইউসুফ আল কারজাভি, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের প্রবীণ মুহাদ্দিস ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আল্লামা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি, খ্যাতিমান আরব লেখক ও গবেষক ড. আলি সাল্লাবি, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের শীর্ষ নেতা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানি, ভারতের লৌখনো প্রদেশের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার রেক্টর ও অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি মাওলানা রাবে হাসান নদভি, ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ ইসলামিক কলেজের পরিচালক ও আস সালাম ইনস্টিটিউটের প্রধান ড. আকরাম নদভি ও বাংলাদেশের জামেয়া দারুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়ার চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারীস বাংলাদেশের সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব বিশ্ববরেণ্য আরবি সাহিত্যিক আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী। বিশ্ব বরেণ ব্যক্তিরা নিজেদের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও বিবৃতি দিয়ে শোক ও সমবেদনা জানান। আল্লামা তাকি উসমানি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর মাওলানা আহমদ শফীর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। তাঁর খেদমত ও অবদানগুলো শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং পুরো উপমহাদেশে বিস্তৃত। তাঁর মতো প্রজ্ঞাবান ও আল্লাহওয়ালা আলেম খুবই কম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম জাতির জন্য অনেক বড় সম্পদ ছিলেন। মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।’ আল্লামা ড. ইউসুফ আল-কারজাভি বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন। এ মহান ব্যক্তিত্বকে সিদ্দিকের মর্যাদা দান করুন। সুউচ্চ মর্যাদায় তাঁকে উন্নীত করুন। ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ প্রতিদান দিন।’ আল্লামা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি শোক জ্ঞাপন করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীব্যাপী তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। মরহুমের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর খেদমতের ময়দান ছিল অনেক বিস্তৃত। দেশ ও জাতির জন্য তিনি নানামুখী খেদমত করেছেন। তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত একজন আলেম।’ কাতার বিশ্ববিদল্যালয়ের ইবনে খালদুন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. নায়েফ বিন নাহার বলেন, ‘আল্লাহ শায়খ আহমদ শফীর মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহকে সমবেদনা জ্ঞাপনের তাওফিক দিন। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ আলেম। দীর্ঘ জীবন কোরআনের সেবায় কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিটি সামাজিক ইস্যুতে সরব ছিলেন। মানুষের হৃদয়ে তাঁর সম্মানজনক অবস্থান ছিল।’ লিবিয়ার প্রখ্যাত গবেষক, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মুহাম্মাদ আলি সাল্লাবি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকাল নতুন হিজরি বর্ষের সবেচেয়ে বড় হৃদয় বিদারক ঘটনা। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন এবং সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন।’ ড. আকরাম নদভি নিজের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৪২১ হিজরিতে অক্সফোর্ড নগরীর বাঙ্গালি মসজিদে আমি তাঁর কাছে হাদিসের সনদ গ্রহণ করি। তখন তিনি আমাকে নিজ হাতে সহিহ ছয় গ্রন্থের সনদ প্রদান করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহমতের মেঘমালা দিয়ে আবৃত করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ত বাগিচায় স্থান দান করুন।’ মাওলানা রাবে হাসান নদভি বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকাল ইসলামী জ্ঞানের জগতে অপূরণীয় শূণ্যতা তৈরি করে। হাদিসের অধ্যাপনা ও মাদারাসার পরিচালনার জগতে তাঁর অনুপস্থিতি কষ্টদায়ক। আল্লাহ তাআলা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং হাদিসের খেদমতের উত্তম বিনিময় দান করুন।’ জামেয়া দারুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়ার চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিশ্ববরেণ্য আরবি সাহিত্যিক আল্লামা সুলতান যওক নদভী বলেন, ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী ছিলেন ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের সিপাহসালার সায়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানি (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ। ইসলামের সুমহান ঐতিহ্যের সুরক্ষায় এ মনীষী ছিলেন মুসলিম উম্মাহর একনিষ্ঠ পথপ্রদর্শক ও ওলামায়ে কেরামের ঐক্যের প্রতীক। তার মৃত্যুতে এদেশের সর্বস্তরের আলেম-উলামা , দ্বীনদার মুসলিম জনতা একজন প্রকৃত রাহবারকে হারালো। মহান আল্লাহ উম্মাহর প্রতি তাঁর বিশাল অবদানের উত্তম বিনিময় দান করুন ও সব ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করুন। শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (১৮ সেপ্টেম্বর) (আনুমানিক) ১০৫ বছর বয়সে ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় ৩৪ বছর যাবৎ তিনি চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা পরিচালনা করেন। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদিস হিসেবেও ছিলেন তিনি। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আল আরাবিয়ার সভাপতি ও আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়াহ বাংলাদেশের সম্মানিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তথ্যসূত্র : ফেসবুক, টুইটার ও ওয়েবসাইট