kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

দেশের ১১ ভাগ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে, কমছে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের ১১ ভাগ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে, কমছে মৃত্যু

দেশে ১৩ জেলায় ১ কোটি ৮৭ লাখ জনগোষ্টি ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ১১.৩ শতাংশ। এসব এলাকায় ম্যালেরিয়া নির্মুলের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখন  শতকরা ৯০ জন  আক্রান্ত এবং মোট মৃত্যুর শতকরা ৮০ জনই মৃত্যুবরণ করেন ওই ১৩ জেলায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস।

এবারের বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই ম্যালেরিয়া সেবার অর্জনসমুহ জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া যা শুন্য ম্যালেরিয়া অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। ম্যালেরিয়া নির্মুলের লক্ষে বাংলাদেশেও ৬৪ জেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫১টি জেলায় যে ম্যালেরিয়া নেই তা প্রমানের জন্য শুধু রোগ নিরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাপক আকারে ম্যালেরিয়া কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ১৩টি জেলার ৭২টি উপজেলায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ)  অধ্যাপক ডা নাজমুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসুচী ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় সবচেয়ে আধুনিকতম ঔষধ যা শতভাগ কার্যকরী, তা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সংযোজন করেছে। আর্টিমিসিনিন জাতীয় এই ঔষধ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যা বিনা মূল্যে তৃণমূল পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া  রোগ নির্নয়ের সামগ্রী “আইসিটি” আমরা তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে রোগ নির্নয়ের জন্য ব্যবহার করছি। যা দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে  বা সর্বাধিক ২০ মিনিট সময়ের মধ্যে রোগ সনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে  বাংলাদেশ সরকার ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত এলাকায় প্রতি দুইজনের জন্য একটি বিনামুল্যে কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী বিতরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

অই পরিচালক বলেন, নানান ক্রযক্রমের ফলে  ২০০৮ সালে সনাক্তকৃত ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৪,৬৯০ যা ২০২০ সালে কমে দাড়িয়েছে মাত্র ৬,১৩০ জনে। অর্থাৎ আমরা ২০০৮ সালের চেয়ে ২০২০সালে ৯৩ শতাংশ রোগী কমিয়ে আনতে পেয়েছি।  ২০০৮ সালে ম্যালেরিয়া জনিত মৃত্যু ছিল ১৫৪ জন, ২০২০ সালে এই মৃত্যুর সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে মাত্র ৯ জনে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া জনিত মৃত্যু শতকরা ৯৪ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।  

জাতীয় ম্যালেরিয়া নিরমুল ক্রমসুচীর উপ ব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান  বলেন,বাংলাদেশ সরকার এই পর্যন্ত ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত এলাকায় মোট এক কোটি আটত্রিশ লক্ষ ছিচল্লিশ হাজার সাত শত বিরান্নবই টি কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী (এল এল আই এন) বিনামূল্যে বিতরন করা হয়েছে। যার মধ্যে এখন কার্যকর আছে ৪৭,৪০,৯৩৮টি মশারী এবং বিতরনের প্রক্রিয়াধীন আছে ৭,০৩,৫০০ এল এল আই এন।

তিনি বলেন কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মাঝেও ম্যালেরিয়াপ্রবণ অঞ্চলে আবশ্যিক ম্যালেরিয়া সেবা অব্যাহত রয়েছে। সব সরকারী হাসপাতাল ও ব্র্যাকসহ সহযোগী এনজিও সংস্থাগুলির সব ল্যাবরেটরি ম্যালেরিয়া সনাক্ত ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য খোলা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা