• ই-পেপার

চাকরি পেতে জীবনবৃত্তান্তে কী থাকবে? গুগলের নিয়োগকর্মীর ৩ পরামর্শ

পরিমিত ব্ল্যাক কফি কমাতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

জীবনযাপন ডেস্ক
পরিমিত ব্ল্যাক কফি কমাতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা
ছবি : এআই জেনারেটেড

অনেকের দিনই শুরু হয় এক কাপ কফি দিয়ে। কফিপ্রেমীদের জন্য এবার এসেছে স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, অর্থাৎ প্রায় ৩ থেকে ৫ কাপ ব্ল্যাক কফি পান নিরাপদ। শুধু তাই নয়, পরিমিত কফি পান হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

সম্প্রতি দি ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই পরিমিত ব্ল্যাক কফির উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনের কারণে নয়, এর প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর কারণেও পাওয়া যায়।

তবে এই সুবিধা ব্ল্যাক কফির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা বেশি দুধ মেশানো কফি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ করে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উপকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। কিছু গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহারও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, এনার্জি ড্রিংকস ও ক্যাফেইন শট সাধারণ কফির মতো নিরাপদ নয়। এসব পানীয়তে অল্প পরিমাণ তরলে অনেক বেশি ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি সুস্থ তরুণদের মধ্যেও অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংকস পান করার পর হৃদস্পন্দনের সমস্যা দেখা গেছে।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন ২ থেকে ৪ কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি সবচেয়ে কম দেখা গেছে। তবে নিয়মিত ৪–৫ কাপের বেশি কফি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিমিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

কফি তৈরির পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। পেপার-ফিল্টার করা কফি বা ইনস্ট্যান্ট কফি তুলনামূলক ভালো, কারণ এতে ক্যাফেস্টল নামের এমন একটি উপাদান কম থাকে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ প্রেস, তুর্কি কফি বা ফুটিয়ে তৈরি করা কফিতে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে।

তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ওষুধ সেবন, লিভারের কার্যকারিতা এবং নিয়মিত কফি পান করার অভ্যাসের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, নিয়ন্ত্রণে না থাকা উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা, গর্ভাবস্থা বা ক্যাফেইনের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের কফি পানের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত ব্ল্যাক কফি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, তবে এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। 

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে যা খাবেন?

অনলাইন ডেস্ক
স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে যা খাবেন?
সংগৃহীত ছবি

আমাদের শরীরের অন্যতম অঙ্গ মস্তিষ্ক। আর এমন কিছু খাবার আছে, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মনোযোগ ধরে রাখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা সমস্যা সমাধান এসব কাজের জন্য মস্তিষ্কের প্রয়োজন পর্যাপ্ত শক্তি ও সঠিক পুষ্টি। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম মস্তিষ্কের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস উপলক্ষে ভারতের নিউরোসার্জন ডা. শ্রীকান্ত শর্মা জানিয়েছেন, মস্তিষ্ক শরীরের মোট শক্তির প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। তাই সঠিক পুষ্টির ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। তার মতে, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও বয়সের মতো কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও, প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব।

  • অন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য

বিশেষজ্ঞের মতে, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস বলা হয়। অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া মেজাজ, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে তিনি নিয়মিত দই, ঘোল, ছোলা, রাজমা এবং বিভিন্ন ধরনের মিলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। এসব খাবার অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দিতে পারে।

  • স্বাস্থ্যকর চর্বি

চর্বি মানেই ক্ষতিকর এ ধারণা সবসময় ঠিক নয়। ডা. শ্রীকান্ত শর্মা বলেন, বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস হিসেবে তিনি স্যালমন, সারডিন মাছ, আখরোট ও তিসির বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার

রঙিন ফল ও শাকসবজিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় বেরিজ, পালং শাক, টমেটো, গাজর ও বিট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই নিউরোসার্জন। তার মতে, এসব খাবার মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।

  • প্রয়োজনীয় ভিটামিন 

ডা. শ্রীকান্ত শর্মার মতে, ভিটামিন বি৬, বি১২ এবং ফোলেট মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো শরীরে হোমোসিস্টেইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ভিটামিনের ভালো উৎস হলো সবুজ শাকসবজি, ডাল, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এবং ফোর্টিফায়েড খাদ্য। তবে নিরামিষভোজীদের জন্য তিনি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ভিটামিন বি১২-এর বেশিরভাগ প্রাকৃতিক উৎস প্রাণিজ খাদ্য। তাই এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং স্নায়ুর কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

  • সঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট

মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। তবে সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট সমান উপকারী নয়। চিনি ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, ফলে ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এর পরিবর্তে ওটস, মিলেট, পূর্ণ শস্য ও বিভিন্ন ধরনের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শ্রীকান্ত শর্মা। এসব খাবার ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, যা মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সবকিছু মিলিয়েই ভালো থাকে মস্তিষ্ক। আর প্রতিদিনের খাবারের ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা

জীবনযাপন ডেস্ক
জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা
সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের নাম আম। স্বাদ, গন্ধ আর পুষ্টিগুণে ছোট-বড় সবার কাছেই এটি প্রিয়। শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেও আমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। সেই গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ২২ জুলাই পালিত হয় জাতীয় আম দিবস।

দিবসটির সূচনা ভারতে হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ড এটি উদযাপনে যুক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালন করা হয়।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আমের চাষ শুরু হয়। পরে মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আম মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আম উৎপাদন হয় ভারতে।

বাংলাদেশ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়। আর চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। 

আম শুধু একটি ফল নয়, অনেক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জাতীয় ফল হলো আম। আর বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ।

বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে আতাউলফো (হানি ম্যাঙ্গো), হেডেন, আরউইন ও টমি অ্যাটকিনস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। কোনো আম খুব মিষ্টি, কোনোটি টক-মিষ্টি, আবার কোনোটি স্মুদি বা জুস তৈরির জন্য বেশি উপযোগী।

স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ আম। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একটি আম শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর বড় অংশ পূরণ করতে পারে। এসব পুষ্টি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে।

বিশ্বে বছরে প্রায় ২ কোটি টন আম উৎপাদিত হয়। একটি আমগাছ ১০০ থেকে ১৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আবার অনেক আমগাছ ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে ফল দিতে পারে।

ভারতে আমের ঝুড়ি বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। দেশটিতে ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আম উৎসবও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই দিবস উদযাপনের সহজ উপায় হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে আম খাওয়া, নতুন নতুন আমের রেসিপি তৈরি করা বা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত আম কেনা। চাইলে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ছোট্ট একটি 'ম্যাঙ্গো পার্টি'ও আয়োজন করা যেতে পারে।

জাতীয় আম দিবস শুধু একটি ফল উদযাপনের দিন নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, কৃষকের জীবিকা এবং সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ গল্প।

আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা

জীবনযাপন ডেস্ক
আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা
সংগৃহীত ছবি

আজকের দ্রুতগতির জীবন, সারাক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারছে না। সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক আজকের আধুনিক পরিবেশে নয়, বরং হাজার হাজার বছর আগে ছোট ছোট দল বা সম্প্রদায়ে বসবাসের পরিবেশে গড়ে উঠেছে। তখন মানুষের সামনে ছিল সীমিত মানুষ, পরিচিত পরিবেশ এবং তাৎক্ষণিক সমস্যার মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু এখনকার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় শহরের ব্যস্ততা, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা মানুষের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।

গবেষকদের মতে, এ কারণেই বর্তমানে অনেক মানুষ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং ক্লান্তিতে ভুগছেন। তাদের ভাষায়, এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে নয়। মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে, আধুনিক জীবন তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে মানুষের ওপর একসঙ্গে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে অনিরাপত্তাবোধ বাড়ছে, প্রতিযোগিতার চাপও বাড়ছে। অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বা বার্নআউটের শিকার হচ্ছেন।

গবেষকদের পরামর্শ, মানুষের মানসিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে শহর, কর্মস্থল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিকল্পনা করা উচিত। শহরে আরো সবুজ জায়গা, কম চাপের পরিবেশ এবং এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দরকার, যেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কম থাকবে। এতে মানুষের মানসিক সুস্থতা উন্নত হতে পারে।

তবে গবেষকরা বলেছেন, এই বিষয়ে আরো বাস্তবভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মানুষের বিবর্তন এবং আধুনিক জীবনের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আরো কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হবে।