• ই-পেপার

জেন-এক্স ও জেন-জি : দুই সময়ের দুই মানুষ, একসঙ্গে চলা কি সহজ?

চিপস ও পপকর্নে মারণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
চিপস ও পপকর্নে মারণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি : গবেষণা
সংগৃহীত ছবি

চিপস ও পপকর্ন ছোট শিশুদের কাছে খুবই জনপ্রিয় খাবার। এমনটাও হয়ে থাকে যে অবসরে বাসা-বাড়ির শিশুদের সঙ্গে বড়রাও নাশতা হিসেবে খেয়ে থাকেন এসব।

সাধারণত মুখরোচক হওয়ায় কমবেশি সবাই পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খেতে সুস্বাদু হলেও সম্প্রতি এক গবেষণা জানিয়েছে, চিপস ও পপকর্ন যারা খায় তাদের ক্যান্সার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সংবাদমাধ্যমে পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুটগার্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বাধীন গবেষকদল নিউ জার্সির ৩৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন। তাদের থেকে সংগ্রহীত প্রস্রাবের নমুনায় ‘মাইকোটক্সিন’ পাওয়া গেছে, যা কিছু ছত্রাকের মাধ্যমে উৎপাদিত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শস্যদানা, বাদাম, শুকনো ফল, আপেল ও কফি বিনের মতো খাবারে মাইকোটক্সিন নামক উপাদান জন্মাতে পারে। যা তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে মারণব্যাধি ক্যান্সার এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির মাত্রার সঙ্গে নারীদের খাওয়া পছন্দের পপকর্ন, কর্ন চিপস ও কর্ন টরটিলার (ভুট্টার রুটি) মতো ভুট্টা ও শস্যজাত পণ্যের পরিমাণের শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে। গবেষকরা প্রধানত ‘জিয়ারালিনোন’র ওপর আলোকপাত করেছেন। যা ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক থেকে সৃষ্টি এক প্রকার মাইকোটক্সিন, এটি ভুট্ট, গম ও ওটসের মতো ফসল দূষিত করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষাক্ত উপাদানটি দূষিত খাদ্য খাওয়া গবাদি পশুর মাংস ও দুধের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। যা উচ্চ তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আর জিয়ারালিনোন হচ্ছে এমন এক ধরনের মাইকোটক্সিন, যা মাইকোইস্ট্রোজেন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। কারণ, উপাদানটি মানবদেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করতে পারে। যা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘জেন-জি’দের কাছে আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?

সৈয়দা আশাপূর্ণা
‘জেন-জি’দের কাছে আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

একসময় সমাজে একটি নির্দিষ্ট ধারণা ছিল—জীবনের একটি নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, আর ছেলেদের ক্ষেত্রে বলা হতো আগে ভালো আয় ও প্রতিষ্ঠা তৈরি করতে হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের চিন্তাভাবনা। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—আগে বিয়ে, নাকি আগে নিজের ক্যারিয়ার?

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মনে করছে, বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও এটি জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। নিজের শিক্ষা, দক্ষতা, পেশা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত স্বপ্ন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতে চায় নিজের প্রস্তুতি ও পছন্দের ভিত্তিতে। শুধু বয়স হয়েছে বা সমাজের চাপ আছে বলে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয়।

জেন-জি প্রজন্ম কিভাবে ক্যারিয়ারকে দেখে?

জেন-জি প্রজন্ম বলতে বর্তমান সময়ের সেই তরুণদের বোঝায়, যারা প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের মধ্যে বড় হয়েছে।

এই প্রজন্মের কাছে ক্যারিয়ার বা পেশা মানে শুধু চাকরি করা বা টাকা উপার্জন করা নয়। তাদের কাছে ক্যারিয়ার হলো—

  • নিজের পরিচয় তৈরি করা
  • নিজের দক্ষতা বাড়ানো
  • নিজের পছন্দের কাজ করা
  • আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়া
  • নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা

আগের অনেক প্রজন্মের মতো শুধু ‘একটা চাকরি পেলেই জীবন স্থির’—এমন চিন্তা জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে কম দেখা যায়। তারা বরং এমন কাজ খুঁজছে, যেখানে শেখার সুযোগ আছে, নিজের উন্নতি করা যায় এবং নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।

তাদের অনেকের চিন্তা— ‘আগে নিজের জায়গা তৈরি করি, তারপর জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিই।’

জেন-জি কেন আগে ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিচ্ছে?

বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রা আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ, প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

এ কারণে অনেক তরুণ-তরুণী মনে করছে, বিয়ের আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা দরকার—

  • নিজের আয় বা উপার্জনের পথ তৈরি করা
  • নিজের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা
  • মানসিকভাবে পরিণত হওয়া
  • ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা

তাদের কাছে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি বড় দায়িত্ব। তাই তারা মনে করে, দায়িত্ব নেওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরি।

আগের প্রজন্মের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

আগের প্রজন্মের অনেকের কাছে জীবনের পথ ছিল তুলনামূলক নির্দিষ্ট—

পড়াশোনা শেষ → চাকরি → বিয়ে → সংসার

কিন্তু নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে পথটা অনেক বেশি ব্যক্তিগত।

তারা মনে করে—

  • সবার জীবনের সময় এক নয়
  • সবার লক্ষ্য এক নয়
  • সবার সফলতার সংজ্ঞাও এক নয়

কেউ আগে পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, কেউ ব্যবসা শুরু করতে চায়, কেউ উচ্চশিক্ষা বা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়।

মেয়েদের বয়স, ছেলেদের ক্যারিয়ার—পুরোনো ধারণা কি এখনও আছে?

বিয়ের আলোচনায় এখনও সমাজে একটি পার্থক্য দেখা যায়।

মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা হয়—

‘মেয়ের বয়স কত হলো?’

আর ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা হয়—

‘ছেলের ক্যারিয়ার কেমন?’

এই পার্থক্য দীর্ঘদিনের সামাজিক চিন্তাধারা থেকে তৈরি হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের মূল্যায়ন করা হয় বয়স দিয়ে, আর ছেলেদের মূল্যায়ন করা হয় তাদের আয়, চাকরি বা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

একজন ৩০ বছর বয়সী অবিবাহিত নারীকে অনেক সময় শুনতে হয়—

‘এখনও বিয়ে করলে না কেন?’

অন্যদিকে একই বয়সী একজন পুরুষকে বলা হয়—

‘আরেকটু প্রতিষ্ঠিত হও, তারপর বিয়ে করো।’

একই বয়স হলেও নারী ও পুরুষকে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও অনেক ক্ষেত্রে আলাদা।

মেয়েদের ওপর বয়সের চাপ কেন বেশি?

এর পেছনে রয়েছে কিছু পুরোনো সামাজিক ধারণা।

বিয়েকে মেয়েদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য ভাবা

অনেক সমাজে এখনও মনে করা হয়, মেয়েদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিয়ে ও পরিবার। ফলে বয়স বাড়াকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

সামাজিক তুলনা

‘অমুকের মেয়ের তো বিয়ে হয়ে গেছে’—এ ধরনের কথাগুলো অনেক পরিবারে মেয়েদের ওপর চাপ তৈরি করে।

ফলে অনেক সময় একজন নারী নিজের ইচ্ছা, শিক্ষা বা পেশার চেয়ে সামাজিক প্রত্যাশাকে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য হন।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গা কমে যাওয়া

বয়স নিয়ে অতিরিক্ত চাপের কারণে কেউ কেউ নিজের পছন্দ, স্বপ্ন বা প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ছেলেদের চাপ কি কম?

ছেলেদের ক্ষেত্রেও চাপ রয়েছে। তবে সেই চাপের ধরন আলাদা।

ছেলেদের বলা হয়—

  • ভালো কাজ করতে হবে
  • বেশি আয় করতে হবে
  • পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে
  • জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে

অর্থাৎ ছেলেদের ওপর থাকে সফল হওয়ার চাপ।

তবে পার্থক্য হলো, ছেলেদের সাধারণত সময় দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, যেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ তৈরি হয়।

জেন-জি কি বিয়ের বিরুদ্ধে?

না। নতুন প্রজন্ম বিয়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা বিয়েকে আরো সচেতনভাবে দেখতে চায়।

তাদের কাছে একটি ভালো সম্পর্কের অর্থ হলো—

  • পারস্পরিক সম্মান
  • একে অপরের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া
  • দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া
  • মানসিক সমর্থন দেওয়া

তারা এমন সম্পর্ক চায়, যেখানে বিয়ের পরও দুজন মানুষ নিজের লক্ষ্য ও পরিচয় ধরে রাখতে পারে।

ক্যারিয়ার ও বিয়ে—দুটো কি একসঙ্গে সম্ভব?

অনেক তরুণ-তরুণী মনে করে, ক্যারিয়ার ও বিয়ে একে অপরের বাধা নয়।

সঠিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা থাকলে দুটোই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তবে এর জন্য প্রয়োজন—

  • সঠিক সময় নির্বাচন
  • মানসিক প্রস্তুতি
  • আর্থিক পরিকল্পনা
  • একে অপরের প্রতি সম্মান

শুধু বয়স বা সামাজিক চাপের কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বদলাচ্ছে কি সমাজের চিন্তা?

ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

অনেক পরিবার এখন মেয়েদের শিক্ষা ও পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একইভাবে ছেলেদের ক্ষেত্রেও শুধু আয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্ম এখন মনে করছে, জীবনের সাফল্য শুধু বিয়ে বা অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

একজন মানুষের সফলতা নির্ভর করে—

  • সে কতটা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে
  • কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে
  • কতটা ভালোভাবে নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারছে

শেষ কথা

বিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নয়, আর ক্যারিয়ার শুধু টাকা আয়ের বিষয় নয়। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের প্রস্তুতি বোঝা।

মেয়েদের শুধু বয়স দিয়ে এবং ছেলেদের শুধু ক্যারিয়ার দিয়ে বিচার না করে, দুজনকেই একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ সুন্দর জীবন তৈরি হয় সমতা, সম্মান, ভালোবাসা এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে।

বারবার ঘাম, মাথা ব্যথা, ক্লান্তির সমস্যা কি রোগের ইঙ্গিত?

অনলাইন ডেস্ক
বারবার ঘাম, মাথা ব্যথা, ক্লান্তির সমস্যা কি রোগের ইঙ্গিত?
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

গরমে একটু বের হলেই অস্বস্তি, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঝিমঝিম বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি এগুলোকে অনেকেই সাধারণ গরমের প্রভাব বলে এড়িয়ে যান।

কিন্তু শরীর যদি স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে এটি হতে পারে ‘হিট ইনটলারেন্স’ বা তাপ-অসহিষ্ণুতার লক্ষণ। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে না পারলে হিট এক্সহস্টশন থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথের প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা জানান, হিট ইনটলারেন্স কোনো রোগ নয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে সামান্য গরম পরিবেশেও অস্বস্তি, দুর্বলতা বা অসুস্থতা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এর পেছনে ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্নায়বিক রোগ বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের জটিলতা দায়ী থাকে।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

হিট ইনটলারেন্সের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত দেখা যায়—

  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
  • মাথা ব্যথা
  • মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা
  • বমিভাব
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • মেজাজের পরিবর্তন
  • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন

এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। তাই বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যেসব কারণে শরীর গরম সহ্য করতে পারে না

হিট ইনটলারেন্স বা গরম সহ্য করতে না পারার প্রধান কারণ হলো, শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর অন্যতম সাধারণ কারণ ডিসঅটোনোমিয়া বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের কার্যকারিতার সমস্যা। শরীরের এই স্নায়ুতন্ত্রই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ঘাম হওয়া, হৃদস্পন্দনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে। এই সিস্টেমে সমস্যা হলে শরীর গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। ডিসঅটোনোমিয়ার সঙ্গে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কিত, সেগুলো হলো— 

  • ডায়াবেটিস
  • গিলেইন-বারে সিনড্রোম
  • হাইপোথাইরয়েডিজম
  • পারকিনসনস রোগ
  • ভিটামিন বি–১২-এর ঘাটতি

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকা, খুব বেশি বা খুব কম আর্দ্রতাযুক্ত এলাকায় অবস্থান করা, উঁচু এলাকায় দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদের মধ্যে থাকলেও গরম সহ্য করার সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে এ সময় যদি উপযুক্ত পোশাক না পরা হয় বা পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয়, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সমাধান : হিট ইনটলারেন্সের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো কারণ শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি কিছু অভ্যাসও সাহায্য করতে পারে—

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়া কমান।
  • ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুন।
  • প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ পরিবর্তন করুন।
  • শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা ঠান্ডা পরিবেশে বেশি সময় থাকুন।
  • গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে 

হঠাৎ করে গরম একেবারেই সহ্য না হলে বা হিট-সম্পর্কিত জরুরি অবস্থার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষ করে যদি প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়, মাথা ঘোরে বা ঝিমঝিম অনুভূত হয়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তীব্র মাথাব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। এসব লক্ষণ শরীরে পানিশূন্যতা বা গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়তে পারে।

গরমকে হালকাভাবে নেবেন না। বারবার গরম সহ্য করতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এর পেছনের কারণ জেনে নেয়া ভালো।  

বিশ্ব আইভিএফ দিবস : কখন ডাক্তার দেখানো উচিত?

জীবনযাপন ডেস্ক
বিশ্ব আইভিএফ দিবস : কখন ডাক্তার দেখানো উচিত?
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বিবাহিত জীবনের কিছুদিন যাওয়ার পরই অনেক দম্পতির মনে একটি প্রশ্ন জাগে—‘সবকিছু কি ঠিক আছে, নাকি আমাদের চিকিৎসা নেওয়া দরকার?’ বিশেষ করে যখন সন্তান আসতে দেরি হয়, তখন আইভিএফ (টেস্টটিউব শিশু) নামটির কথা মাথায় এলেও সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

আজ ২৫ জুলাই, ‘বিশ্ব আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) দিবস’। ১৯৭৮ সালের এই দিনে জন্ম নিয়েছিল বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব শিশু লুইস ব্রাউন। এরপর থেকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আধুনিক চিকিৎসার বদলিতে লাখ লাখ নিঃসন্তান দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই প্রযুক্তি।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে—কখন একজন দম্পতির আইভিএফ-এর কথা ভাবা উচিত? আর চিকিৎসা শুরুর আগেই বা কী কী বিষয় মাথায় রাখা জরুরি? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নতুন দিল্লির বিখ্যাত এলান্টিস হেলথকেয়ারের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. মান্নান গুপ্তা।

lll

কখন আর দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন?

ড. মান্নান গুপ্তার মতে, কতদিন চেষ্টা করছেন এবং নারীর বয়স কত—এই দুটো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার সময় নির্ধারণ করা উচিত:

  • নারীর বয়স ৩৫ বছরের কম হলে: কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে টানা ১ বছর চেষ্টা করার পরও যদি সন্তান না আসে, তবে আর দেরি না করে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।

  • নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে : বয়সের সাথে সাথে সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই ৩৫ বছর পার হয়ে গেলে টানা ৬ মাস চেষ্টার পরও সন্তান না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কাদের জন্য আইভিএফ প্রয়োজন হতে পারে?

সব বন্ধ্যাত্বেই যে আইভিএফ লাগবে, বিষয়টি তেমন নয়। তবে নিচের সমস্যাগুলো থাকলে চিকিৎসকরা আইভিএফ-এর পরামর্শ দেন: ১. নারীর ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে।

২. পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা অনেক কম বা শুক্রাণুর মান দুর্বল হলে।

৩. ডিম্বাণু তৈরিতে বা নিঃসরণে (ওভিউলেশন) সমস্যা থাকলে।

৪. জরায়ুর জটিল সমস্যা যেমন—অ্যান্ডোমেট্রিওসিস থাকলে।

৫. সব রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সন্তান না এলে।

৬. সাধারণ ওষুধ বা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে।

ll
১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই লুইস ব্রাউন জন্মগ্রহণ করার সাথে সাথে বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত বা অধ্যায়ের সূচনা প্রত্যক্ষ করে।

আইভিএফ নিয়ে সাধারণ কিছু ভুল ধারণা

চিকিৎসক জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আইভিএফ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে:

  • ভুল ধারণা ১: “বয়স কোনো বিষয় নয়, আইভিএফ করলেই সন্তান হবে।”

    বাস্তবতা: আইভিএফ-এর সফলতার প্রধান চাবিকাঠি হলো নারীর বয়স। বয়স বাড়লে ডিম্বাণুর গুণমান ও সংখ্যা কমতে থাকে, যা সফলতার হার কমিয়ে দেয়।

  • ভুল ধারণা ২: “আইভিএফ করলেই যমজ সন্তান হয়।”

    বাস্তবতা: আগে একাধিক ভ্রূণ জরায়ুতে দেওয়া হতো বলে যমজ শিশু বেশি হতো। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে একটিই ভালো মানের ভ্রূণ স্থাপন করা হয়, ফলে একটি সন্তান হওয়ার ধারণাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক।

আইভিএফ শুরুর আগে দম্পতিদের যা করা উচিত

আইভিএফ চিকিৎসায় ভালো ফল পেতে ল্যাবরেটরির প্রযুক্তির পাশাপাশি দম্পতির নিজেদের জীবনযাত্রাও অনেক বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসা শুরুর আগেই দম্পতিদের যে নিয়মগুলো মানা উচিত:

  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ওজন: পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত বা খুব কম ওজন দুটোই গর্ভধারণে বাধা দেয়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

  • পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম : প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে হবে এবং হালকা হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে।

  • বাজে অভ্যাস ত্যাগ : ধূমপান, মদ্যপান বা যেকোনো ধরনের মাদক সেবন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

  • রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সাপ্লিমেন্ট : ডায়াবেটিস, প্রেসার বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তা আগেই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফোলিক অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় ভিটামিন খাওয়া শুরু করতে হবে।

সবশেষে চিকিৎসক মনে করিয়ে দেন, আইভিএফ কোনো ম্যাজিক বা অলৌকিক কিছু নয়—এটি একটি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা। সবার ক্ষেত্রে প্রথমবারেই ফল নাও আসতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থেকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

জেন-এক্স ও জেন-জি : দুই সময়ের দুই মানুষ, একসঙ্গে চলা কি সহজ? | কালের কণ্ঠ