ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিরতির সময় অনেক তারকা ফুটবলারকে মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা ফেলে দিতে দেখা যায়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি থেকে হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপের—প্রায় সবাইকে কোনো না কোনো সময় এমনটি করতে দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেন, এটি হয়তো শুধুই অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলারদের এই অভ্যাসের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।
ঘন লালা দূর করতেই কুলি
ম্যাচের সময় টানা দৌড়ঝাঁপ ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে ‘এমইউসি৫বি’ নামে এক ধরনের মিউকাস বা শ্লেষ্মার পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে পড়ে। এই লালা গিলে ফেলতে অস্বস্তি হওয়ায় ফুটবলাররা মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা বাইরে ফেলে দেন।
মুখের শুষ্কতা কমাতে
খেলার সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে মুখের ভেতর শুকিয়ে যায় এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। কুলি করলে মুখ কিছুটা আর্দ্র হয় এবং অস্বস্তিও কমে।
‘কার্ব রিনসিং’ কৌশল
সব সময় মুখে থাকা তরল সাধারণ পানি নয়। অনেক সময় ফুটবলাররা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড রেখে কুলি করেন। একে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।
গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখের ভেতরের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এতে মস্তিষ্ক শরীরকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়। ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করে।
তাহলে পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত স্পোর্টস ড্রিংক বা পানি পান করলে অনেক সময় পেট ভারী লাগা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। এতে খেলায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনেক ফুটবলার পানীয়টি গিলে না ফেলে কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে বাইরে ফেলে দেন।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, এই কার্ব রিনসিং পদ্ধতি খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর সক্ষমতা, মনোযোগ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তাই মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি বা বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দেওয়া কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়; বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত একটি কার্যকর কৌশল।





