• ই-পেপার

করোনা থেকে বাঁচতে কোন ধরনের মাস্ক কিভাবে পরবেন?

যে ২০ খাবার খেলে বাড়বে না ওজন

জীবনযাপন ডেস্ক
যে ২০ খাবার খেলে বাড়বে না ওজন
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে না খেয়ে থাকতে হবে—এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক খাবার বেছে নিলে পেট ভরে খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু খাবারে ক্যালোরি কম হলেও থাকে পর্যাপ্ত আঁশ, পানি ও পুষ্টি উপাদান, যা দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। জেনে নিন এমন ২০ খাবার সম্পর্কে, যেগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে পেট ভরবে, কিন্তু ওজন বাড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকবে—

পপকর্ন

এয়ার-পপড বা কম তেলযুক্ত পপকর্ন একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। এটি গোটা শস্য থেকে তৈরি হওয়ায় এতে প্রচুর আঁশ থাকে। এক কাপ এয়ার-পপড পপকর্নে ক্যালোরি তুলনামূলক কম, কিন্তু পেট ভরা রাখার ক্ষমতা বেশি। তবে অতিরিক্ত মাখন বা লবণযুক্ত পপকর্ন এড়িয়ে চলাই ভালো।

স্যুপ

ঝোলভিত্তিক সবজি বা মুরগির স্যুপ ক্ষুধা কমাতে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের আগে স্যুপ খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়। কারণ স্যুপ পাকস্থলীতে জায়গা দখল করে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভব করায়।

আপেল ও কলা

দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে আপেল ও কলা দারুণ বিকল্প। এ দুটি ফলে রয়েছে আঁশ, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন। বিকেলের নাস্তায় বিস্কুট বা ভাজাপোড়ার পরিবর্তে ফল খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি এড়ানো সম্ভব।

ওটস

ওটস বা ওটমিল দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার জন্য পরিচিত। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ হজম ধীর করে এবং ক্ষুধা কমায়। সকালের নাশতায় ওটস খেলে সারাদিন তুলনামূলক কম ক্যালোরি গ্রহণ করা সহজ হয়।

hh
ট্রেইল মিক্স

ট্রেইল মিক্স

বাদাম, শুকনো ফল ও অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেটের মিশ্রণ স্বাস্থ্যকর ট্রেইল মিক্স হতে পারে। এটি মিষ্টি বা লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা চকোলেটযুক্ত প্যাকেটজাত ট্রেইল মিক্স থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

মরিচ

ঝাল মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন নামের উপাদান ক্ষুধা কিছুটা কমাতে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তাই ঝাল খাবার পছন্দ করলে পরিমিত পরিমাণে মরিচ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ডিম

ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস। সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত নাশতা করার প্রবণতাও কমে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিমকে অনেক পুষ্টিবিদ গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন।

চিয়া সিড

চিয়া বীজে প্রচুর আঁশ রয়েছে। পানিতে বা দুধে ভিজিয়ে তৈরি করা চিয়া পুডিং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফল ও বাদাম যোগ করলে এটি আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।

ll;;
নারকেল তেল

নারকেল তেল

নারকেল তেলে কিছু মিডিয়াম-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (MCTs) থাকে, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে সব গবেষণা একমত নয়—অন্যান্য তেলের তুলনায় এর তৃপ্তি বাড়ানোর প্রভাব সীমিত বলেও মত রয়েছে। তবুও রান্নায় স্বাদ ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে এটি অনেকের খাদ্যতালিকায় থাকে।

ফুলকপি

ফুলকপিতে ক্যালোরি কম হলেও এতে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। ফলে এটি কম ক্যালোরিতে বেশি তৃপ্তি দেয়। বেকড বা ভাপা ফুলকপি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও জনপ্রিয়।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদিও এটি তুলনামূলক দামি, তবু পরিমিত পরিমাণে খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া যায়।

lkl
আদা

আদা

আদা শুধু হজমে সাহায্য করে না, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, আদা গ্রহণ করলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়।

কমলা

ভিটামিন সি ও আঁশসমৃদ্ধ কমলা কম ক্যালোরির একটি ফল। ক্ষুধা লাগলে মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

kk
পিনাট বাটার

পিনাট বাটার

পরিমিত পরিমাণ পিনাট বাটার প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির ভালো উৎস। ফল বা হোলগ্রেইন ব্রেডের সঙ্গে খেলে এটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শাকসবজি

পালং শাক, লাল শাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি কম ক্যালোরিতে বেশি পুষ্টি দেয়। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজির পরিমাণ বাড়ালে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সহজ হয়।

সেলারি

সেলারিতে প্রচুর পানি এবং খুব কম ক্যালোরি থাকে। সালাদ, স্যুপ কিংবা স্বাস্থ্যকর ডিপের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়।

চুইংগাম 

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় চুইংগাম চিবালে ক্ষুধা কিছুটা কমে এবং পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। যদিও এতে কোনো ক্যালোরি পোড়ে না, তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর চুইংগাম চিবালে মিষ্টি বা স্ন্যাকসের আকাঙ্ক্ষা কমে এবং দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

জাম্বুরা

জাম্বুরা বা গ্রেপফ্রুটে পানি ও আঁশের পরিমাণ বেশি। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ডার্ক চকোলেট

মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেট ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এবং এটি অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত পানি পান

সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, এটি আপনার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে আপনি অপ্রয়োজনীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন। পানি শক্তি বাড়াতে এবং বিপাক ক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি খাবারের আগে প্রায় এক থেকে দুই গ্লাস পানি বা ভেষজ চা পান করার পরামর্শ দেয়, কারণ এটি আপনার ক্যালোরি গ্রহণ কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বেশি আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফলমূল, শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত পানি—এই সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দামি ‘সুপারফুড’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার হতে পারে কাঁঠালের বিচি

অনলাইন ডেস্ক
দামি ‘সুপারফুড’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার হতে পারে কাঁঠালের বিচি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন নানা ধরনের বীজের কদর বেড়েছে। চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, কুমড়ার বিচি, কাজু বা কাঠবাদাম—এসব খাবারকে অনেকেই সুপারফুড হিসেবে নিয়মিত খেয়ে থাকেন। অথচ আমাদের আশপাশেই এমন একটি পুষ্টিকর খাবার রয়েছে, যা বেশির ভাগ সময় অবহেলিত থেকে যায়। সেটি হলো কাঁঠালের বিচি।

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল কাঁঠাল খাওয়ার পর অনেকেই এর বীজ ফেলে দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই বীজে রয়েছে এমন অনেক উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সঠিকভাবে রান্না বা প্রস্তুত করে খেলে এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন বি-গ্রুপের কিছু উপাদান এবং বিভিন্ন খনিজ। পাশাপাশি এতে পাওয়া যায় আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রোটিনের বাড়তি উৎস

নিরামিষভোজীদের জন্য কাঁঠালের বিচি হতে পারে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম বীজে কয়েক গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতে সহায়তা করে। যদিও এটি ডাল, মাছ, ডিম বা মাংসের বিকল্প নয়, তবু প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত প্রোটিন যোগ করার একটি সহজ উপায় হতে পারে।

হজমে সহায়ক

কাঁঠালের বিচিতে থাকা খাদ্যআঁশ বা ফাইবার হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বিশেষভাবে উপকারী। একই সঙ্গে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
 
এই বীজে থাকা ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রের ভেতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে কাঁঠালের বীজ খেলে অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের সুবিধা

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা সাধারণ শর্করার মতো দ্রুত হজম হয় না। এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ধরনের স্টার্চ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে তুলনামূলক কম ক্যালোরি থাকায় ওজন ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বীজে কিছু প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

কিভাবে খাবেন?

কাঁঠালের বিচি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। কেউ সেদ্ধ করে খান, কেউ ভেজে বা হালকা মসলা দিয়ে রান্না করেন। অনেক এলাকায় তরকারি, ভর্তা বা ডালের সঙ্গেও এটি ব্যবহার করা হয়। 

সহজলভ্য এই বিচিটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করলে পুষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি ফেলে না দিয়ে সেটিকে খাবারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

পেট ভালো রাখতে সকালের নাশতায় রাখতে পারেন এই ৭ খাবার

অনলাইন ডেস্ক
পেট ভালো রাখতে সকালের নাশতায় রাখতে পারেন এই ৭ খাবার
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গরমের সময়ে অনেকেরই হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবারের পাশাপাশি এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজমে সাহায্য করে।

সাধারণত টক দই বা ইয়োগার্টকে অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরকে খাবারের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। তবে অনেকেই টক দই খেতে পছন্দ করেন না বা খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

সে ক্ষেত্রে সকালের খাবারে এমন কিছু বিকল্প রাখা যেতে পারে, যা পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।

ইডলি

দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় খাবার ইডলি তৈরি হয় চাল ও ডালের ফারমেন্ট করা মিশ্রণ দিয়ে। ভাপে রান্না হওয়ায় এতে অতিরিক্ত তেল লাগে না।

ইডলির সঙ্গে সবজিসমৃদ্ধ সাম্বার খেলে শরীর পায় ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন। সঙ্গে নারকেলের চাটনি থাকলে স্বাস্থ্যকর চর্বির চাহিদাও পূরণ হয়। হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পেটের জন্য উপকারী।

কলা

সকালের নাশতায় কলা একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ।

কলার ফাইবার অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। কলার সঙ্গে সেদ্ধ ডিম বা হোল-হুইট টোস্ট খেলে খাবারটি আরো পুষ্টিকর হয়।

ওটস, আপেল ও খেজুর

ফাইবারসমৃদ্ধ ওটস অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রাতে দুধে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে তার সঙ্গে কুচি করা আপেল, খেজুর ও বাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও পেটবান্ধব সকালের খাবার।

মুগ ডালের চিলা

মুগ ডালে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফাইবার। তাই এটি হজমের জন্য ভালো এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।

ভেজানো মুগ ডাল আদা, কাঁচামরিচ ও সামান্য মসলা দিয়ে ব্লেন্ড করে পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন। এরপর অল্প তেলে ননস্টিক প্যানে দোসার মতো ছড়িয়ে রান্না করুন। এর সঙ্গে পনির বা সবজি খাওয়া যেতে পারে।

কিমচি

কোরিয়ান খাবার কিমচি তৈরি হয় ফারমেন্ট করা বাঁধাকপি ও মূলা দিয়ে।

ফারমেন্টেড খাবার হওয়ায় এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় সালাদের অংশ হিসেবে কিমচি যোগ করা যেতে পারে।

পেঁপে

পেঁপে হজমশক্তি উন্নত করার জন্য পরিচিত একটি ফল। এতে থাকা ‘প্যাপেইন’ নামের এনজাইম খাবার ভাঙতে ও হজমে সহায়তা করে।

এ ছাড়া পেঁপেতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডিম ও পালং শাকের রোল

পালং শাকে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস।

অল্প তেলে রসুন দিয়ে পালং শাক ভেজে তার সঙ্গে ডিম মিশিয়ে রান্না করুন। এরপর আটার বা রাগির রুটিতে মুড়ে রোল তৈরি করে খেতে পারেন। এটি পুষ্টিকর হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে হজমপ্রক্রিয়া উন্নত হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং শরীর খাবার থেকে পুষ্টি ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। তাই প্রতিদিনের সকালের নাশতায় ফাইবার, প্রোটিন এবং অন্ত্রবান্ধব খাবার রাখলে পেটের নানা সমস্যা কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখা সম্ভব।

গরমে কি ঘন ঘন চুল ধোয়া উচিত? চুলের ধরন অনুযায়ী জেনে নিন সঠিক নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক
গরমে কি ঘন ঘন চুল ধোয়া উচিত? চুলের ধরন অনুযায়ী জেনে নিন সঠিক নিয়ম
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গ্রীষ্মকাল এলেই ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্ন নিয়েও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়। তীব্র গরমে মাথার ত্বকে ঘাম জমে, ধুলোবালি সহজে আটকে যায় এবং চুল দ্রুত ময়লা হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে মাথার ত্বক তেলতেলে হয়ে যায়, আবার কারো কারো চুলকানি বা অস্বস্তিও দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবেন, চুল পরিষ্কার রাখতে কি প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য এক নয়। কারণ চুল ধোয়ার সঠিক সময়সূচি নির্ভর করে মাথার ত্বকের প্রকৃতি, চুলের ধরন, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং আবহাওয়ার প্রভাবের ওপর। গরমে ঘাম বেশি হলেও প্রতিদিন শ্যাম্পু করা সব সময় প্রয়োজনীয় নয়। বরং অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে চুলের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কেন প্রতিদিন শ্যাম্পু করা সব সময় ভালো নয়?

মাথার ত্বক থেকে স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়, যা চুলকে আর্দ্র ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে। ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে এই প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যেতে পারে। ফলে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি চুল ভাঙা বা আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তৈলাক্ত মাথার ত্বকের জন্য কী নিয়ম?

যাদের মাথার ত্বকে খুব দ্রুত তেল জমে, তাদের ক্ষেত্রে গরমের সময়ে তুলনামূলক বেশি বার চুল ধোয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা প্রচুর ঘামেন, তাদের স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা জরুরি। এ ধরনের ক্ষেত্রে সপ্তাহে প্রায় ৪ থেকে ৬ বার চুল ধোয়া যেতে পারে। তবে প্রতিবার শক্তিশালী বা অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। মাইল্ড বা কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকবে, আবার অতিরিক্ত শুষ্কতাও তৈরি হবে না।

আরো পড়ুন
একঘেয়ে খাবার বদলে মাত্র ৫ মিনিটেই তৈরি করুন ডিম-ওটসের সুস্বাদু স্যুপ

একঘেয়ে খাবার বদলে মাত্র ৫ মিনিটেই তৈরি করুন ডিম-ওটসের সুস্বাদু স্যুপ

 

স্বাভাবিক স্ক্যাল্প হলে কতবার চুল ধোয়া যথেষ্ট?

যাদের মাথার ত্বক না খুব বেশি তৈলাক্ত, না খুব বেশি শুষ্ক, তাদের জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া সাধারণত যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে মাথার ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার হয়ে যায়, পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় থাকে। অযথা বেশি শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হয় না।

শুষ্ক চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে কী করবেন?

যাদের চুল এবং মাথার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক, তাদের জন্য ঘন ঘন শ্যাম্পু করা উপকারী নয়। কারণ এতে চুল আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং রুক্ষতা বাড়তে পারে। এ ধরনের চুলের জন্য সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার শ্যাম্পু করাই সাধারণত যথেষ্ট। পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

কোঁকড়ানো চুলের জন্য আলাদা যত্ন কেন প্রয়োজন?

কোঁকড়ানো চুলে স্বাভাবিকভাবেই আর্দ্রতা ধরে রাখা তুলনামূলক কঠিন। এ কারণে বারবার শ্যাম্পু করলে চুল দ্রুত শুষ্ক ও ফ্রিজি হয়ে যেতে পারে। সাধারণত সপ্তাহে ১ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া যথেষ্ট হলেও, এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। চুলের অবস্থা বুঝে রুটিন ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

গরমে মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

শুধু চুল ধুলেই হবে না, গরমকালে কিছু অতিরিক্ত যত্নও প্রয়োজন। এতে মাথার ত্বক পরিষ্কার ও আরামদায়ক থাকে।

খুব গরম পানি এড়িয়ে চলুন

অতিরিক্ত গরম পানি চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করতে পারে। তাই কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা ভালো।

মাইল্ড শ্যাম্পু বেছে নিন

প্রতিদিন বা ঘন ঘন চুল ধোয়ার প্রয়োজন হলে কোমল ও সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

চুল ধোয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম থাকে এবং শুষ্কতা কমে।

ঘামে ভেজা চুল বেশিক্ষণ বেঁধে রাখবেন না

ভেজা বা ঘামে স্যাঁতসেঁতে চুল দীর্ঘ সময় আটকে রাখলে মাথার ত্বকে অস্বস্তি, দুর্গন্ধ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিরুনি পরিষ্কার রাখুন

চুলের পাশাপাশি ব্যবহৃত চিরুনিও নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। এতে ধুলো-ময়লা ও জীবাণু জমার সম্ভাবনা কমে।

রোদ থেকে চুলকে সুরক্ষা দিন

প্রখর রোদে বের হলে ছাতা, টুপি বা ওড়না ব্যবহার করে মাথা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। এতে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুল ও মাথার ত্বক কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে।


গরমে চুলের যত্নের ক্ষেত্রে ‘প্রতিদিন শ্যাম্পু’ বা ‘একেবারেই কম শ্যাম্পু’- এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নিজের মাথার ত্বকের ধরন, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস বিবেচনা করে চুল ধোয়ার রুটিন ঠিক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক যত্ন নিলে গরমের মধ্যেও চুল থাকবে পরিষ্কার, সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

করোনা থেকে বাঁচতে কোন ধরনের মাস্ক কিভাবে পরবেন? | কালের কণ্ঠ