• ই-পেপার

আর উইন্ডোজ ৭ এর দেখভাল করবে না মাইক্রোসফট

ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চিপ চুক্তি করল অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চিপ চুক্তি করল অ্যাপল
ছবি : রয়টার্স

অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি চিপ সরবরাহ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ব্রডকমের একটি কারখানাও সম্প্রসারণ করা হবে।

বুধবার (৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে সোমবার ব্রডকম জানায়, ২০৩১ সাল পর্যন্ত অ্যাপলের কাছে চিপ সরবরাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি হয়েছে।

অ্যাপল জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় এফবার ফিল্টার নামে বিশেষ ধরনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি চিপ তৈরি করা হবে। এসব চিপ আইফোনসহ অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তারবিহীন (ওয়্যারলেস) সংযোগ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে। ২০২৩ সাল থেকে এ প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে অ্যাপল ও ব্রডকম।

চুক্তির অংশ হিসেবে ব্রডকম কলোরাডোর ফোর্ট কলিন্স শহরের কারখানা সম্প্রসারণে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এই কারখানায় অন্তত ১৫ বিলিয়ন চিপ উৎপাদন করা হবে।

অ্যাপল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আরও বেশি চিপ সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক বলেন, ফোর্ট কলিন্সে তৈরি উন্নতমানের এই চিপগুলো অ্যাপল ডিভাইসের কর্মক্ষমতা ও সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়াতে পেরে তারা গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের প্রতি অ্যাপল কৃতজ্ঞ।

আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস

অনলাইন ডেস্ক
আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ রেবেলিয়নস আগামী বছরের প্রথমার্ধে দেশটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান রেবেলিয়নসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পার্ক সাংহিউন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া। এরপর আমেরিকান ডিপোজিটারি রিসিপ্ট (এডিআর)-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে পারেন।

পার্ক জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আইপিওর সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হবে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে আসবে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এআই খাত নিয়ে উচ্ছ্বাস কিছুটা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে চিপ কম্পানিগুলোর শেয়ারের দামেও চাপ দেখা যায়। তবে এ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রেবেলিয়নস।

চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিনিয়োগ হিসেবে ৪০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। এতে কম্পানিটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। এটি দেখায় এনভিডিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে কম খরচে এআই চিপ তৈরি করা কম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

সর্বশেষ বিনিয়োগ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ন্যাশনাল গ্রোথ ফান্ড ২৫ হাজার কোটি ওন (প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে। এটি সরকারের ‘কে-এনভিডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম সরাসরি বিনিয়োগ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্বমানের একটি দক্ষিণ কোরীয় চিপ কম্পানি গড়ে তোলা।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত রেবেলিয়নস মূলত এআই ইনফারেন্সের জন্য নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট ডিজাইন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ায় হলেও যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে।

উল্লেখ্য রেবেলিয়নসের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরামকোর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়াদ ভেঞ্চারস, স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং এসকে টেলিকম। আর কম্পানিটির আইপিও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জেপি মরগান।

ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল
ছবিঃ রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপ করা নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে করা মামলায় হেরে গেছে অ্যাপল। বুধবার (৮ জুলাই) লুক্সেমবার্গভিত্তিক ইইউর জেনারেল কোর্ট এ রায় দেন।

একই দিন বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

আদালত বলেছেন, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেমকে ইইউর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) অনুযায়ী ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ, অ্যাপলকে এই আইনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট ২০২৩ সালের মে মাসে কার্যকর হয়। এর লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব কমানো। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে সমান সুযোগ তৈরি করা এবং ব্যবহারকারীদের আরো বেশি বিকল্প দেওয়া।

এই আইনের নিয়ম ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাপল, মেটা ও বাইটড্যান্স এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়।

২০২৪ সালে অ্যাপল আদালতে মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি ও অ্যাপল ওয়াচের অ্যাপ স্টোরগুলোকে একসঙ্গে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হয়নি।

তবে আদালত ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালতের মতে, সব অ্যাপ স্টোরের উদ্দেশ্য একই। এগুলো অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করে এবং সফটওয়্যার বিতরণে সহায়তা করে।

অ্যাপল তাদের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছিল। এই মর্যাদার কারণে অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার সঙ্গে আরও সহজে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এ ছাড়া আইমেসেজ (iMessage) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল অ্যাপল। তবে আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে অ্যাপলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বর্তমানে আইমেসেজের ওপর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের বাধ্যবাধকতাগুলো প্রযোজ্য হয়নি।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, তাদের মতে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই আইন তাদের দীর্ঘদিনের গোপনিয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আইনি আপিল করার সুযোগ এখনো রয়েছে অ্যাপলের।

বিলম্বের পর বৃহস্পতিবার আসছে ওপেনএআইয়ের জিপিটি- ৫.৬

অনলাইন ডেস্ক
বিলম্বের পর বৃহস্পতিবার আসছে ওপেনএআইয়ের জিপিটি- ৫.৬
ছবিঃ রয়টার্স

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই  আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জিপিটি-৫.৬ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে মডেলটির প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই জানায়, জিপিটি- ৫.৬ সল-এর পাশাপাশি কম খরচের টেরা ও লুনা নামের দুটি মডেলও উন্মুক্ত করা হবে।

এর আগে সীমিত পরিসরে কিছু অনুমোদিত অংশীদারের কাছে জিপিটি-৫.৬ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল ওপেনএআই। তাদের তথ্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উন্নত এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেল সাইবার হামলা আরো জটিল ও কার্যকর করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পুরনো ও জটিল প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো এ ধরনের হামলার ঝুঁকিতে বেশি।

এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার উন্নত এআই মডেল উন্মুক্ত করার আগে সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি নজরদারি করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব প্রযুক্তি চীন, রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সামরিক কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা অপব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে, চীনও তাদের সবচেয়ে উন্নত এআই মডেল বিদেশে ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ নিয়ে দেশটির শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকও করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জাতীয় নিরাপত্তার কারণে তাদের উন্নত মিথোস ফাইভ ৫ ও ফেবল ৫ মডেল সাময়িকভাবে সবার জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার পর ফেবল ৫-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও মিথোস এখনো কেবল কিছু বিশ্বস্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬ সবার জন্য উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

এদিকে, ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি ইলন মাস্কও ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এআই-এর সর্বাধুনিক এআই মডেল গ্রক ৪.৫ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর আওতায় উন্নত এআই মডেল তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে মডেল উন্মুক্ত করার আগে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পর্যালোচনার জন্য জমা দিতে পারবে।

আর উইন্ডোজ ৭ এর দেখভাল করবে না মাইক্রোসফট | কালের কণ্ঠ