• ই-পেপার

১২টি কাটছাঁটের পর অবশেষে অ্যাডাল্ট সনদ পেল বিজয়ের সিনেমা

মুক্তি পেল জয়া আহসানের সেই সিনেমা

বিনোদন প্রতিবেদক
মুক্তি পেল জয়া আহসানের সেই সিনেমা
সংগৃহীত ছবি

দুই বছর আগে মুক্তি পাওয়া প্রশংসিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প এবার এগিয়ে যাচ্ছে নতুন মোড়ে। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়াল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ আজ শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। 

আগের ছবির মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘মেঘনা’য় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।

সম্পর্কের টানাপড়েন, দাম্পত্যের সংকট, অতীতের ক্ষত আর মানুষের জটিল মনস্তত্ত্বকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে নতুন এই চলচ্চিত্র। 

সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেলারেই মিলেছে সেই আভাস। সেখানে দেখা যায়, বিয়ের পরও সুখের দেখা মেলে না মেঘনা ও সুমনের সংসারে। অতীতের স্মৃতি, অবিশ্বাস এবং মানসিক দূরত্ব ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ককে ভেঙে দিতে শুরু করে।

গল্পের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তে নিজের ভেঙে পড়া সংসার বাঁচানোর আশায় সুমনের সাবেক স্ত্রী শুভ্রার কাছে সাহায্য চাইতে যান মেঘনা। প্রথম ছবিতে যেখানে শুভ্রা ও মেঘনার মুখোমুখি অবস্থান ছিল গল্পের মূল আকর্ষণ, সেখানে এবার সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেছে। নতুন পরিস্থিতিতে মেঘনার সেই দ্বারস্থ হওয়াই গল্পে তৈরি করেছে ভিন্ন মাত্রা।

নিজের চরিত্র নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘কৌশিকদা এবং চূর্ণীদি না থাকলে পর্দায় মেঘনা হয়ে উঠতে হয়তো পারতাম না।’

এই পর্বে নতুন চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা ইন্দ্রাশীষ রায়। গল্পে তার চরিত্র ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তিনি কি শুধুই মেঘনার বন্ধু, নাকি তার উপস্থিতি সম্পর্কের নতুন কোনো মোড় তৈরি করবে—তার উত্তর মিলবে সিনেমাতেই।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছিল সম্পর্ক, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত টানাপড়েনের এক আবেগঘন গল্প। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্মাণে ছবিটিতে কৌশিক সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়া আহসানের অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়েরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সুমনের অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে তার বর্তমান ও সাবেক স্ত্রীর এক ছাদের নিচে আসার ঘটনাকে ঘিরেই এগিয়েছিল সেই ছবির কাহিনি।

নতুন ছবির গল্প শুরু হয়েছে প্রথম পর্বের ঘটনার কয়েক বছর পর থেকে। নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এবার একটি বিয়ে এবং তাকে ঘিরে পুরোনো-নতুন সম্পর্কের জটিল সমীকরণ গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবে। অতীতের অমীমাংসিত অধ্যায় এবার শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বর্তমানের জীবনকেও প্রভাবিত করবে।

তিনি জানান, এই পর্বে চরিত্রগুলোর অজানা অনেক দিক উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে মেঘনার মেয়ে টিকলিকে ঘিরে তৈরি হবে নতুন আবেগঘন সংকট। বড় হয়ে ওঠা টিকলির পরিচয়কে কেন্দ্র করে যে প্রশ্ন তৈরি হবে, সেটিই গল্পের অন্যতম প্রধান সংঘাতে পরিণত হবে।

ছবিটির অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জয়া আহসান বলেন, ‘অর্ধাঙ্গিনী ছিল খুব পরিণত একটি গল্প। সেই ছবির সিকুয়্যালের অংশ হতে পারা আমার জন্য আনন্দের। দর্শক যেভাবে প্রথম ছবিটিকে গ্রহণ করেছেন, সেই প্রত্যাশা আমাদের ওপর বড় দায়িত্ব তৈরি করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি সেই আবেগকে আরও গভীরভাবে ফিরিয়ে দিতে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র শুটিং শুরু হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল।

এ মাসেই ঢাকায় আসছেন আতিফ আসলাম

বিনোদন প্রতিবেদক
এ মাসেই ঢাকায় আসছেন আতিফ আসলাম
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ঢাকায় কনসার্ট করতে আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ‘মেইন স্টেজ ফিচারিং আতিফ আসলাম’ শিরোনামের বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীতে।

বুধবার (৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ঢাকার কনসার্টের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আতিফ আসলাম। 

পোস্টে তিনি শুধু লিখেছেন, ‘ঢাকা – জুলাই ২৪, ২০২৬’। একই সঙ্গে কনসার্টের টিকিট সংগ্রহের লিংকও শেয়ার করেন এই শিল্পী।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ’ জানিয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের সব প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত ক্রিকেটারস একাডেমিতে বসবে এই সংগীতের আসর। আতিফ আসলামের পাশাপাশি মঞ্চ মাতাবেন দেশের জনপ্রিয় দুই ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’।

ইতোমধ্যে কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকদের জন্য তিনটি ক্যাটাগরিতে টিকিট রাখা হয়েছে। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশদ্বার দুপুর ২টায় খুলে দেওয়া হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া কনসার্ট চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজের প্রতিনিধি কাজী রাফসান বলেন, ‘এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বড় সংগীত আয়োজনগুলোর একটি। পুরো টিম, শিল্পী এবং দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্বাস, এটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং সংগীতপ্রেমীদের আবেগ, প্রত্যাশা ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।’

এদিকে, ২০২৫ সালের ‘মেইন স্টেজ শো’-এর জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন কিন্তু রিফান্ড নেননি, তাদের নতুন করে টিকিট কেনার প্রয়োজন হবে না। তারা শুধু mainstage.show ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ‘Re-Clam’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নামে নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ ছাড়াই হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, যারা টিকিটের অর্থ ফেরতের আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও রিফান্ড পাননি, তারাও চাইলে একই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রিফান্ড আবেদন প্রত্যাহার করে টিকিট পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারবেন। যাচাই শেষে তাদের জন্যও নতুন টিকিট ইস্যু করা হবে এবং বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই কনসার্টটি মূলত ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ হলেও জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। 

তখন আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানটি বাতিল নয়; উপযুক্ত সময়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুলাই অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই কনসার্ট।

গঠিত হলো চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, থাকছেন যাঁরা

বিনোদন প্রতিবেদক
গঠিত হলো চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি, থাকছেন যাঁরা
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান প্রদানের জন্য নতুন কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আখতার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১১ সদস্যের এই কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

‘পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০২৫ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী গঠিত এ কমিটিতে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে (চলচ্চিত্র)।

সরকারি সদস্যদের পাশাপাশি কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রযোজক সরদার সানিয়াত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন এবং অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি।

এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান বাছাই কমিটির সুপারিশ ও পর্যালোচনাপূর্বক, সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা ২০২৫ (সংশোধিত) এর আলোকে এই কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনুদান প্রদান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জুলাই প্রকাশিত এক সংবাদে জানানো হয়েছিল, প্রতিবছর জুন মাসের মধ্যেই সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান ঘোষণার প্রচলন থাকলেও কমিটি গঠন না হওয়ায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের অনুদান ঘোষণা পিছিয়ে যায়। সেই আলোচনার মধ্যেই অবশেষে নতুন অনুদান কমিটি গঠনের ঘোষণা এলো।

চেক বাউন্স মামলায় আজ হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রাজপাল যাদব

বিনোদন ডেস্ক
চেক বাউন্স মামলায় আজ হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রাজপাল যাদব
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে চলা ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় আজ শুক্রবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে দিল্লি হাইকোর্ট। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী, বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা মামলার রায় ঘোষণা করবেন বলে খবর এনডিটিভির।

গত ২ এপ্রিল মামলাটিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর আদালত রায় মুলতবি রাখেন। ওই শুনানিতে রাজপাল যাদব সমঝোতার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। 

তিনি আদালতকে জানান, মামলাটির কারণে তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থও পরিশোধ করেছেন।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা দাবি করেন, রাজপাল যাদব পূর্বেই নিজের দণ্ড মেনে নিয়েছেন। ফলে এখন আর আর্থিক দায় থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। 

তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালে করা রিভিশন আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের ১ হাজার ৮৯৪ দিন পরে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এত দীর্ঘ বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

আদালতের উদ্যোগে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন সময় সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। বাদীপক্ষ ছয় কোটি রুপিতে চূড়ান্ত সমঝোতায় রাজি হলেও রাজপাল যাদব সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। পরে আদালত তিন কোটি রুপি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের একটি কাঠামোগত প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু তাতেও কোনো সমাধান আসেনি।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিচারক আপনাদের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করছেন বলে তাঁকে কখনো দুর্বল ভাববেন না।’ 

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আদালতের মূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে।

রাজপালের বর্তমান আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল ইতোমধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তি দেন, আগের আইনজীবীর ভুলের দায় বর্তমান পক্ষের ওপর চাপানো উচিত নয়।

বলা দরকার, মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। নিজের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’র জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নেন রাজপাল যাদব। তবে ছবিটি বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয় এবং পরে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে রূপ নেয়।

ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হওয়ার পর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।

পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন রাজপাল যাদব। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের জুনে আদালত তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে একই সঙ্গে বকেয়া অর্থ পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখানোর নির্দেশ দেন। এ সময়ের মধ্যে সুদ ও জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি রুপিতে পৌঁছে যায়।

২০২৫ সালের অক্টোবরে অভিনেতা দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মোট দায়ের তুলনায় এ অর্থ খুবই সামান্য। পরে আরও ৪০ লাখ রুপি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ অঙ্গীকার পূরণ হয়নি।

এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আদালতের কাছে এক সপ্তাহ সময় চেয়ে শেষ মুহূর্তের আবেদন করেন রাজপাল যাদব। তবে আদালত সেই ‘মার্সি প্লি’ খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, তিনি বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেননি।

পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে তাঁর আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির একটি চেক এবং নতুন পরিশোধসূচির প্রস্তাব দেন। কিন্তু আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। সেদিনই বিকেল চারটায় তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করেন অভিনেতা। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি।

এদিকে, এই আর্থিক সংকটের সময় রাজপাল যাদবকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলিউডের কয়েকজন তারকা। জানা গেছে, সালমান খান, অজয় দেবগন, বরুণ ধাওয়ান ও সোনু সুদসহ একাধিক অভিনেতা তাঁকে আর্থিক সহায়তা করেছেন।

এখন সবার নজর দিল্লি হাইকোর্টের দিকে। বহু বছর ধরে চলা এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়, তা জানা যাবে আজকের রায়ের মধ্য দিয়েই।