• ই-পেপার

নিজের মতো থাকতে চাই : রিচি

মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে না নেওয়া হয় : রোজিনা

বিনোদন প্রতিবেদক
মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে না নেওয়া হয় : রোজিনা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশের কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা রোজিনা। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও এফডিসির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর যেন তাঁর মরদেহও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে না নেওয়া হয়।

রবিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী।

রোজিনার অভিযোগ, এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি বিভিন্ন ধরনের অসংগতি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন।

এফডিসির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে রোজিনা বলেন, ‘এফডিসি এখন আর আগের মতো নেই। এখানে সম্মান, মূল্যবোধ সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।জীবনে কোনোদিন আমি শিল্পী সমিতিতে যাব কিনা আমার জানা নেই। তবে মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে নেয়া না হয়।’

এটি কোনো তাৎক্ষণিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয় বলেও জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গনের পরিবর্তিত পরিবেশ তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে উল্লেখ করেন রোজিনা। 

তাঁর কথায়, ‘এখনকার মানুষগুলোর মধ্যে শিল্পীদের শ্রদ্ধা করার মতো মানসিকতা একেবারেই নেই।’

কথার প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাককে। রোজিনার দাবি, রাজ্জাকও জীবদ্দশায় অভিমান করে বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর যেন মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তিনি অনেক আগেই নিজের পরিবারকেও একই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।

নির্বাচনে নিজের পরাজয় প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, ‘আমাকে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে বলে আমি এমনটি বলছি না। এটা আমি আগে ভেবে রেখেছিলাম। এমনকি আমার পরিবারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।’

তবে শিল্পী সমিতির প্রতি ক্ষোভ থাকলেও এফডিসির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। সরকারি কোনো অনুষ্ঠান বা প্রযোজক সমিতির সদস্য হিসেবে প্রয়োজন হলে তিনি সেখানে যাবেন। তবে সাধারণ কোনো কারণে এফডিসিতে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর আর নেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই একাধিক প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। 

এদিকে রোজিনার এই মন্তব্য প্রকাশের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একজন প্রবীণ শিল্পীর গভীর হতাশা ও উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

‘পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত ও বিয়ে করেই যাবে’, আমিরকে নিয়ে সালমান

বিনোদন ডেস্ক
‘পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত ও বিয়ে করেই যাবে’, আমিরকে নিয়ে সালমান
সংগৃহীত ছবি

বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়ের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সালমান খানের একটি পুরোনো মন্তব্য। কয়েক বছর আগে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে মজার ছলে করা সেই মন্তব্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সঞ্চালক কপিল শর্মা আমির খানের প্রসঙ্গ তুললে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় সালমান খান বলেন, ‘আমির একজন পারফেকশনিস্ট। একদম পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত সে বিয়ে করেই যাবে।’

সালমানের এই মন্তব্যে তখন স্টুডিওজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্প্রতি আমিরের তৃতীয় বিয়ের পর সেই ক্লিপ আবারও নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

অনেক নেটিজেনের মতে, হাস্যরসের ছলে বলা সালমানের মন্তব্যটি সময়ের সঙ্গে যেন নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

সম্প্রতি দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন আমির খান। মুম্বাইয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিনন্দনের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনও।

আমির প্রথম বিয়ে করেছিলেন রীনা দত্তকে। সেই সংসার ভেঙে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন নির্মাতা কিরণ রাওকে। ২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধু গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। অবশেষে তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন এই বলিউড তারকা।

অন্যদিকে, ৬০ বছর বয়সেও সালমান খান বলিউডের অন্যতম আলোচিত অবিবাহিত তারকা। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তিনি কখনো বিয়ে করেননি।

বিয়ে প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলেই বরাবরের মতো রসিকতার আশ্রয় নেন সালমান। আর সেই কারণেই আমিরকে নিয়ে তাঁর বহু বছর আগের মন্তব্যটি আবারও নতুন করে নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিচ্ছেদের ১১ বছর পর বিয়ে করলেন অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
বিচ্ছেদের ১১ বছর পর বিয়ে করলেন অভিনেত্রী
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১১ বছর একাই সন্তানকে বড় করার পর আবারও নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ওহ ইউন-আহ। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বিয়ের সুখবর জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর হবু স্বামী বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত নন।

ভিডিওতে ওহ ইউন-আহ জানান, বিবাহবিচ্ছেদের পর জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল ছেলে মিনকে মানুষ করে তোলা। সেই কারণেই এতদিন নিজের ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে ছেলেকেই সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিনেত্রী বলেন, তিনি একসময় ভেবেছিলেন, ছেলেকে নিয়েই বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এমন একজন মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে হবু স্বামীর পরিবারের আচরণ। ওহ ইউন-আহ জানান, তাঁর হবু স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ছেলে মিনকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এমন ঘটনা সহজে ঘটে না। তাই আমার মনে হয়েছে, এই সম্পর্ক নিয়তিতেই ছিল।'

হবু স্বামী শোবিজের বাইরের মানুষ হওয়ায় সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি প্রকাশে সতর্ক ছিলেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী। 

তাঁর কথায়, অনেক ভেবেচিন্তেই বিষয়টি সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। অন্য কোনো মাধ্যমে নয়, প্রথমে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারীদের কাছেই সুখবরটি জানাতে চেয়েছেন।

ভক্তদের আশ্বস্ত করে ওহ ইউন-আহ বলেন, বিয়ের পরও তাঁর জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। আগের মতোই অভিনয় চালিয়ে যাবেন এবং পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন কাটাতে চান। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে তাঁদের নতুন জীবনের জন্য আশীর্বাদ ও সমর্থন কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বিয়ে করেছিলেন ওহ ইউন-আহ। সেই সংসারে জন্ম নেয় তাঁর ছেলে মিন। ২০১৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে একাই ছেলেকে লালন-পালন করে আসছেন এই অভিনেত্রী।

অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর
অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভী। ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

আলভীর পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ আসে। এর আগে গত ৩০ জুন এ মামলায় তাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণের পর জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২১ জুন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৪ জুন তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।  দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি। 

আলভী ও ইকরা ২০১০ বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।