• ই-পেপার

বৃক্ষ নিধন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের

স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, বর্তমানে পৃথিবী ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ। পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বেশির ভাগ প্রকল্পভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি নয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর সুফল জনগণ পায় না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, বেসরকারি সংগঠন, পরিবার, নারী, শিশু, তরুণসমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন
বীরগঞ্জে প্রাইভেট কার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

বীরগঞ্জে প্রাইভেট কার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ), ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডাব্লিউবি) এবং ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। 

একই সংগঠনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আকতার মাহমুদ, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ)-এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরি এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ্ সুমন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি আনিছুর রহমান বলেন, পরিবেশ উন্নয়নে ইতোমধ্যেই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা, নগরের সবুজায়ন, মাঠ পার্ক সংরক্ষণে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় বর্জ্য অপসারণ, নদী দখলমুক্তকরণ, নদী ভাঙ্গন প্রতিহত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার টেকসই অবকাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ড. আকতার মাহমুদ বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনগণ শহরমুখী হচ্ছে। আমরা উন্নয়নের যথার্থ দর্শন বিবেচনায় না নিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ফিক্সড গ্লাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক দালান নির্মাণ করছি। মাঠ-পার্ক-জলাধার দখল ভরাট করে ফেলছি। ফলে শহরের জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানা জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতারই সামগ্রিক চিত্র। যে উন্নয়ন হয়ে গেছে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার লক্ষ্যে সবুজায়ন, গণপরিসর, জলাধার বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

আরো পড়ুন
‘পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই’ লিখে ছাত্রীর আত্মহনন

‘পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই’ লিখে ছাত্রীর আত্মহনন

 

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি। শহরমুখী পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন কেবলমাত্র পরিবেশগত বিষয় নয় বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি সর্বোপরি টেকসই উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চরম ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

জরিপের সারসংক্ষেপ ও লার্ভার উৎস :

ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ (KoboToolbox) প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

লার্ভার উপস্থিতি : পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

স্থাপনার ধরন : বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫.২৩%, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭.৭৬%, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪% এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯% লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

পানির উৎস : মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬%, বালতিতে ১০.৩৪% এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯% এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও কর্মসূচি :

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া আগামী ৬ জুন ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকাতেও হবে।

আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৩ দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহনন

অনলাইন ডেস্ক
নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহনন

তেজগাঁও কারওয়ান বাজার নিজ বাসায় আহনাফ তাজুয়ান (২২) নামের এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

মৃতের মামা মো. ফারুক হোসেন জানান, তার ভাগনে আহনাফ তাজুয়ান বনানীতে একটি ইউনিভার্সিটিতে অনার্সে পড়তো। সে মাদকে আসক্ত ছিল। তার মানসিক সমস্যাও ছিল। ভোরের সবার অগোচরে রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। পরে তার মা দেখতে পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তেজগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক এসআই সৈয়দ বাইজিদ বলেন, ছেলেটা মাদকাসক্ত ছিল। ঠিকমতো ঘুমাতো না, মানসিক সমস্যা ছিল। ভোরে তার মা ও ছেলে একইসঙ্গে নামাজ পড়েছে। পরে তার মা ঘুমিয়ে পড়ে কিছু সময় পর ছেলের রুমে বাল্ব জ্বালানো দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসে দেখেন তার ছেলে গলায় ফাঁস দিয়েছে‌।

পরে সেখান থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

স্বামী-সন্তান কানাডাপ্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বামী-সন্তান কানাডাপ্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

বৃদ্ধা নূরুজাহান বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের আলোচনার মধ্যেই মিরপুরের একই এলাকায় এবার আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাতে একটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মিরপুর ৬ নম্বর এলাকার ওই ফ্ল্যাটে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সেলিনা আফরোজের স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। প্রায় ১২ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে এসে ওই ফ্ল্যাটে একা বসবাস শুরু করেন।

পুলিশের ধারণা, ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কারণ সর্বশেষ ২৬ মে রাতে তার ভাতিজা মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, এর পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

এদিকে একই এলাকায় গত রবিবার (৩১ মে) একটি বাসা থেকে বৃদ্ধা নূরুজাহান বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একা বসবাসরত ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ জানায়, মৃত বৃদ্ধার ৩ ছেলের একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েট শিক্ষক ও আরেকজন কানাডায় বসবাস করেন। মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে, সন্তানরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও বৃদ্ধা মায়ের যথাযথ দেখাশোনা করেননি।