• ই-পেপার

‘পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই’ লিখে ছাত্রীর আত্মহনন

কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠকে অংশ নেবে না ডিএমকে

অনলাইন ডেস্ক
কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠকে অংশ নেবে না ডিএমকে

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নাটকীয় রাজনৈতিক পুনর্গঠনে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) সঙ্গে সর্ম্পকে ফাটল ধরে। তারই প্রেক্ষিতে ৮ই জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রস্তাবিত ‘ভারত জোটে’র বৈঠক থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএমকের দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে অভিনেতা বিজয়ের টিভিকেকে সমর্থনেই কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের সূত্রপাত। এই পদক্ষেপ ডিএমকে নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এতে প্রকাশ্যে অনেক ডেএমকে নেতা কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘ পেছন থেকে ছুরি মারার’ জন্য অভিযুক্ত করেছেন। যুক্তি দিয়েছেন যে দলটি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কয়েক দশকের পুরনো অংশীদারি ত্যাগ করেছে।

এই ফাটল ইতোমধ্যেই লোকসভায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পর্কের অবনতির এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে, ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিরলাকে চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএমকে সাংসদদের জন্য পৃথক আসনের ব্যবস্থা। এই পদক্ষেপটিকে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের মধ্যে ফাটলের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১২
ছবি : এপি

শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন নিহত ও আরো আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় কলম্বো থেকে প্রায় ৬৫ ​​কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কালুতারা জেলার আঙ্গুরুওয়াতোটায় অবস্থিত মাওপিয়া সেভানা বৃদ্ধাশ্রমে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশের মুখপাত্র ফ্রেডরিক উটলার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সেখানে মানসিক রোগীদেরও রাখা হতো বলে জানান তিনি।

প্রথমে ১১ জনের মৃত্যুর খবর এলেও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৮ জন গুরুতর আহত হয়ে হোরানা বেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে বৃদ্ধাশ্রমটির মালিক ও পরিচালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনটি ভস্মীভূত হয়ে গেছে, এর আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আশপাশে মৃতদেহ পড়ে আছে।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরুর লাইভ দৃশ্যে দেখা গেছে, দমকলকর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে মোট ৭১ জন বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় ৫১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

ন্যাশনাল সেক্রেটারিয়েট ফর এল্ডার্সের পরিচালক চতুরা মিহুদুম জানিয়েছেন, বৃদ্ধাশ্রমটি নিবন্ধিত ছিল না। মাত্র ১৫ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ছোট জায়গায় গাদাগাদি করে ৭১ জনকে রাখা হয়েছিল।

বৃদ্ধাশ্রমটিতে বয়স্কদের পাশাপাশি কিছু মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণ ও শিশুও ছিল। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের মধ্যে সবচেয়ে কম বযসী একজনের বয়স ছিল ১৭।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

চলছিল শেষকৃত্যের প্রস্তুতি, জীবিত ফিরলেন ৬ দিন পর

অনলাইন ডেস্ক
চলছিল শেষকৃত্যের প্রস্তুতি, জীবিত ফিরলেন ৬ দিন পর
ছবি : দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্ট।

ছয় দিন আগে মাউন্ট এভারেস্টে নিখোঁজ হওয়া এক নেপালি শেরপা গাইডকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মাউন্ট এভারেস্ট ও হিমালয় পর্বতমালার স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের ‘শেরপা’ বলা হয়। তারা চরম উচ্চতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন অভিজাত পর্বতারোহী এবং গাইড।

বৃহস্পতিবার সকালে খুম্বু আইসফলের কাছে বরফে ঢাকা ঢাল বেয়ে একাই হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পের দিকে নামছিলেন ৫২ বছর বয়সী দাওয়া শেরপা। এ সময় একটি উদ্ধারকারী দল তাকে দেখতে পায় এবং নিরাপদে নিচে নিয়ে আসে। উদ্ধারের পর তাকে খাবার ও পানি দেওয়া হয়। পরে একটি হেলিকপ্টারে করে তাকে রাজধানী কাঠমাণ্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রী ও মেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

দাওয়া শেরপাকে মৃত ভেবে তার পরিবার ইতোমধ্যেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তার স্ত্রী দামু শেরপা জানান, প্রথমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিচিত একজনের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, দাওয়া এখনো বেঁচে আছেন। পরে ফোনে খবর পান যে তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে। দীর্ঘ ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর দাওয়া শেরপার জীবিত ফিরে আসা তার পরিবার ও উদ্ধারকারীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য ও আনন্দের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৯ মের দিকে দাওয়া শেরপাকে শেষবার এভারেস্ট থেকে নামতে দেখা গিয়েছিল। তার সঙ্গে থাকা একজন পোলিশ পর্বতারোহী নিরাপদে বেস ক্যাম্পে পৌঁছালেও দাওয়া সেখানে পৌঁছাননি। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দাওয়াকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। পরে হেলিকপ্টার দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ফলে পরিবারের সদস্যরা ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি আর বেঁচে নেই।

দাওয়ার মেয়ে মেন্ডো লামু শেরপা জানান, তারা তখন বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে যখন শুনলাম বাবা জীবিত আছেন, তখন আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তাই আমরা ছবি দেখতে চেয়েছিলাম। ছবি পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, তিনিই আমাদের বাবা, আর তখন আমরা খুবই খুশি হয়ে যাই।’

দাওয়াকে খুঁজে পাওয়া দলটি ছিল সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য। এই কমিটি প্রতিবছর আরোহণ মৌসুমে পর্বতারোহীদের জন্য পথে মই ও দড়ি স্থাপন করে এবং মৌসুম শেষে সেগুলো সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর দাওয়া শেরপার জীবিত ফিরে আসা এভারেস্ট অভিযানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য উদ্ধার ঘটনার একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে গত মাসে মাউন্ট এভারেস্টে চলতি মৌসুমে এক হাজার জনের বেশি পর্বতারোহী ও শেরপা গাইড আরোহণে অংশ নেন। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুমগুলোর একটি। তবে এই মৌসুমে দুর্ঘটনা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

খাবার ও অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে শেরপা, অতঃপর...

অনলাইন ডেস্ক
খাবার ও অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে শেরপা, অতঃপর...
রয়টার্স ছবি

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত খাদ্য ও অক্সিজেন ছাড়া নিখোঁজ ছিলেন এক নেপালি শেরপা গাইড। অবশেষে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার এই বেঁচে ফেরাকে অনেকে বিরল বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন।

৫২ বছর বয়সী দাওয়া শেরপা এক পোলিশ পর্বতারোহীকে নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার শিখরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে তারা ক্যাম্প-৪ থেকে ফিরে আসছিলেন। এ সময় ক্যাম্প-৩ ও ক্যাম্প-৪-এর মধ্যবর্তী এলাকায় গত ২৯ মে দাওয়া নিখোঁজ হন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তার সঙ্গে থাকা পর্বতারোহী নিরাপদে বেস ক্যাম্পে ফিরলেও দুজন কিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এভারেস্ট মৌসুম শেষ হওয়ার পর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সময় সাগরমাথা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটির (এসপিসিসি) একটি দল খুম্বু আইসফলের কাছে দাওয়াকে খুঁজে পায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্য লামা কাজি শেরপার নেতৃত্বে তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।

উদ্ধারের পরও দাওয়া শেরপার গায়ে ছিল তার পর্বতারোহণের জ্যাকেট। পরে তাকে হেলিপ্যাড থেকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ফ্রস্টবাইটসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দাওয়ার মেয়ে মেন্দো লামো শেরপা জানান, তার বাবা এখন কথা বলতে পারছেন এবং স্বজনদের চিনতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন, ভালো আছেন এবং কথা বলছেন।’

নেপাল মাউন্ট এভারেস্ট হাইকিং কম্পানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, দাওয়া প্রায় এক সপ্তাহ ধরে একা, খাদ্য, পানি ও অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া বিপজ্জনক খুম্বু আইসফলে টিকে ছিলেন। মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় তখন নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত স্থায়ী মইগুলোও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে ‘অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ছাড়া কিছু নয়’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, এ বছর এভারেস্টে ১ হাজারের বেশি পর্বতারোহী ও গাইড সফলভাবে আরোহণ করেন। নেপাল সরকার মোট ৪৯৪টি আরোহণের অনুমতি দেয়। তবে মৌসুমজুড়ে পাঁচজন পর্বতারোহী ও গাইডের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে এপ্রিল মাসে হিমবাহের বিশাল বরফখণ্ডের কারণে এভারেস্টের রুট খুলতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক পর্বতারোহী বেস ক্যাম্পে আটকে পড়েছিলেন বলেও জানা গেছে।