• ই-পেপার

শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মো. সিয়ামুল ইসলাম সিয়াম (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সোয়া ১২টায় উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন (হাজী বাড়ি) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন
শহীদ জিয়ার বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ : তথ্যমন্ত্রী

শহীদ জিয়ার বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ : তথ্যমন্ত্রী

 

নিহত সিয়াম ওই গ্রামের সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন ও মৃত রুকন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ি সংলগ্ন মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত সিয়ামকে পাশ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় যুবক শুভ বলেন, সিয়াম এইচএসসি পাস করে বাড়িতে কৃষি কাজ করছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক বিকেলেই ৫ জনের মৃত্যু, আহত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক বিকেলেই ৫ জনের মৃত্যু, আহত ১
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বজ্রসহ হালকা ঝড়বৃষ্টির সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন— সদরের আতাহার গ্রামের মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জের চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাড়ি বাজারপাড়া গ্রামের মো. কাশেমের মেয়ে সাদিয়া (১৬), শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. ফিটুর ছেলে মেসবাহুল ওরফে মেসবাবুল (১৪) এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমিয়ারা বেগম (৪০)।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নাচোলের লাহাবাড়ি গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬)। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজে বাইরে থাকা মানুষজন বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন আবদুল্লাহ। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিকেলে আমবাগানে কাজ করার সময় মাহমুদা বেগম এবং একই সময়ে সাদিয়া বজ্রাঘাতে নিহত হন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে বজ্রঘাতে কিশোর মেসবাবুল নিহত হন বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সুমিয়ারা বেগম নিহত হন এবং জিয়াউর রহমান আহত হন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

কুমির ‘ধলা পাহাড়’ ফেরানোর দাবিতে সরব খাদেমরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
কুমির ‘ধলা পাহাড়’ ফেরানোর দাবিতে সরব খাদেমরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমির ধলা পাহাড়কে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন মাজারের খাদেমরা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তারা একটি আলোচনাসভা করেছেন। সভা শেষে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার ও এর দিঘিতে থাকা কুমিরের দেখভাল করা ফকিরদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রায় ৫০০ বছর ধরে তারা এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ বর্তমানে মাজারের প্রধান আকর্ষণ কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য কষ্টের বিষয়।

তিনি বলেন, কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে মাজারকেন্দ্রিক হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এর আগে কুমিরের দ্বারা কুকুর শিকারের ঘটনা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তখন আমরা মাজারের নিরাপত্তার জন্য আটজন দারোয়ান নিয়োগ দিয়েছি। একটি দুর্ঘটনার কারণে শত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস মুছে ফেলা হবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

কুমির না থাকলেও চলছে মানত

এদিকে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে কুমির না থাকলেও এখনো ভক্ত ও দর্শনার্থীরা হাঁস, মুরগি ও ছাগল নিয়ে মানত পূরণ করতে আসছেন। ভক্তদের দেওয়া এসব মানতের প্রাণী সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে মাজারের খাদেমদের।

মাজারে মানত নিয়ে আসা মোল্লাহাট উপজেলার কাচনা গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, আমি মানতের একটি মুরগি নিয়ে এসেছি। শুনেছি এখন মাজারে আর কুমির নেই। তারপরও মানত পূরণের জন্য মুরগিটি নিয়ে এসেছি। কারণ আমার মানত ছিল, আশা পূরণ হলে মাজারে একটি মুরগি দেব। তাই মুরগিটি দিঘিতে ছেড়ে দিয়েছি। পরে দেখলাম একজন সেটি তুলে নিয়ে গেল। এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার মানত পূরণ হয়েছে, এখন মুরগিটি কুমির খাক বা মানুষ খাক, সেটা আমার বিষয় নয়।

বন বিভাগের অবস্থান

খুলনা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, মাজার থেকে আনা কুমিরটি বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। এটি একটি মিঠাপানির কুমির। সে কারণে কোনোভাবেই এটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে না। কারণ সুন্দরবনের লবণাক্ত পানিতে এ ধরনের কুমির বাঁচতে পারবে না। আমরা চেষ্টা করছি কুমিরটিকে তার উপযোগী পরিবেশে রাখার। এ মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে কোথায় রাখা বা অবমুক্ত করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বায়ুদূষণ রোধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুটি ইটভাটা থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভাটাগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী বিচারক ও সহকারী কমিশনার মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল মাহমুদ প্রসিকিউশন প্রদান করেন।

আরো পড়ুন
সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী

সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী

 

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানকালে বক্তাবলীর পূর্ব গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত ‘সান ব্রিকস ম্যানুফেকচারার’ নামের ইটভাটাকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স এ এস বি ব্রিকস ম্যানু’ নামের আরেকটি ইটভাটাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত শর্ত লঙ্ঘন করে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এইচ এম রাশেদ বলেন, ‘বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আপস করা হবে না। অবৈধ ইটভাটা এবং বায়ুদূষণকারী শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। পরিবেশ সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি।’