• ই-পেপার

টঙ্গীর বস্তিতে অভিযান, দেশীয় অস্ত্র-জাল টাকা-মাদকসহ গ্রেপ্তার ২

রূপগঞ্জবাসীর জমি আর তাদের হাতে নেই : এমপি দিপু

অনলাইন ডেস্ক
রূপগঞ্জবাসীর জমি আর তাদের হাতে নেই : এমপি দিপু

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া বলেছেন, পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য বিপুলপরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ফলে রূপগঞ্জবাসী আজ নিজেদের জমির মালিকানা হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পূর্বাচল নয়, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ও দাউদপুর ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দিপু ভূইয়া বলেন, ‘১৯৯৫ সালে যখন পূর্বাচল প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তখন যদি স্থানীয়রা ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত বড় সড়ক নির্মাণের দাবি তুলতেন, তাহলে রূপগঞ্জবাসীর এত বিপুলপরিমাণ জমি হারাতে হতো না।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অনেকের শত শত বিঘা, আবার কারো আরো বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তখন জমির মালিকদের একটি করে প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও অনেকেই সেই প্লট পাননি।’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত এখন রূপগঞ্জবাসীকে দিতে হচ্ছে। আজ রূপগঞ্জবাসীর নিজের জমিই আর রূপগঞ্জবাসীর হাতে নেই। বিভিন্ন মানুষ সেই জমির মালিক হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তখন যদি ১০০ বা ৩০০ মিটার প্রশস্ত সড়কের জন্য জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে এত বিপুলপরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে রূপগঞ্জবাসীর বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’

পূর্বাচলকে ঢাকার অধীনে নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘তারা জানে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন আমি করব। এখন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, দাউদপুর ইউনিয়ন এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কল্যাণে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমি প্রস্তুত। আমাকে যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রূপগঞ্জবাসী।’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, কারো অধিকার নষ্ট করিনি। তাই আমি নির্ভয়ে চলাফেরা করি। আমি জানি, রূপগঞ্জবাসী সবসময় আমার সঙ্গে আছে।’

মির্জাপুরে দুই গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুরে দুই গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক স্থানে দুই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে হত্যার পর ধর্ষণ এবং অন্যজনকে নির্যাতন করে ধর্ষণ করা হয়। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পৃথক ঘটনা দুটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলা সদরের আন্ধরা এবং তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামে।

নিহতরা হলেন মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী নয়নী রাজবংশী (৫৪) এবং তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মোর্শেদা আক্তার (৪০)।

মোর্শেদা আক্তারের ধর্ষক-খুনি আরিফ মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে নয়নী রাজবংশী খুনের ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ রবিউল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার রিমান্ডে পাঠিয়েছে। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তারকে (৪০) ২২ জুলাই মারধরের পর ধর্ষণ করা হয়। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান।

মহিষ বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার

অনলাইন ডেস্ক
মহিষ বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মহিষ বিক্রির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে বানেজ উদ্দিন (৫৫) নামের এক গ্রামপুলিশ বাবার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বানেজ উদ্দিন ওই এলাকার চৌকিদার (গ্রামপুলিশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম রাজীব (২৮)। তিনি নিহতের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ জানিয়েছে, বানেজ উদ্দিন সম্প্রতি একটি মহিষ বিক্রি করেন। রবিবার রাতে বিক্রির সেই টাকা দাবি করেন ছেলে রাজীব। তবে বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজীব তার হাতে থাকা ভারি একটি টর্চলাইট দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করে। এতে বানেজ উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বানেজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মহিষকুণ্ডি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে-ছুরিকাঘাতে হত্যা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে-ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় রাজু আহমেদ নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজুর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টায় শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজু ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।

নিহতের মা ও ছোট বোনের অভিযোগ, রাজু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। রবিবার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে নুরুল ও জাকিরের তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। এসময় রাজু তাদের ঝগড়া থামিয়ে দেয়। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা করে তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পিটিয়ে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এটি রাজনৈতিক বিরোধ, না পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্বে হত্যা, তা তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।